বাংলা জুড়ে শহিদ দিবস, বনরক্ষায় জীবনদান অমৃতা দেবী ও তাঁর তিন কন্যার

1280
তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস কোরো আমি কে ! সালমান খানের অহংকার ভেঙে দিয়েছিলেন রাজকুমার
তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস কোরো আমি কে ! সালমান খানের অহংকার ভেঙে দিয়েছিলেন রাজকুমার

১১ সেপ্টেম্বর; জাতীয় বনশহিদ দিবস। দেশ জুড়ে সমগ্র বনদফতরে, অরণ্য ও বন্যপ্রাণ রক্ষায়; বনশহিদদের শ্রদ্ধার্ঘে পালিত হল বনশহিদ দিবস। ১৭৩০ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, রাজস্থানের খেজরালি গ্রামে অরণ্য নিধনের জন্য; যোধপুরের রানা অভয় সিংহের পাঠানো রাজকাঠুরে-দের হাতে; অরণ্যরক্ষায় এগিয়ে আসা বিশনয় সম্প্রদায় ভুক্ত অমৃতা দেবী; তাঁর তিন কন্যা ভাগু, রতনি, আশু সহ ৩৬৩ জন বিশনয় মানুষকে; নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁরা জীবনের বিনিময়ে অরণ্যনিধন; রুখতে সমর্থ হয়েছিলেন। শনিবার বাংলা জুড়ে বনশহিদ দিবস পালন করা হল; বনরক্ষায় জীবনদান দেওয়া অমৃতা দেবী ও তাঁর তিন কন্যা ও বিশনয় সম্প্রদায় মানুষ ও দেশের বনশহিদ-দের স্মরণে।

২০০০ সালে হরিয়ানার কমল সিং যাদব; উড়িষ্যার সুরেশ পট্টনায়ক এবং পশ্চিমবঙ্গের অমল সিংহের নেতৃত্বে; সারা ভারত বনকর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় নিহত বনকর্মীদের শ্রদ্ধায়; ১১ই সেপ্টেম্বর বনশহিদ দিবস ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত হয় দিল্লিতে। সারা দেশে বনকর্মচারীদের; এই আন্দোলন ছড়িয়ে পরে। ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় সরকার; ১১ই সেপ্টেম্বর-কে জাতীয় বনশহিদ দিবস ঘোষণা করে। পরের বছর রাজ্য বনমন্ত্রকও একটি সার্কুলার জারি করে; রাজ্যব্যাপী বনশহিদ দিবস ঘোষণা করে।

আরও পড়ুনঃ “পশ্চিমবঙ্গকে তালিবানের হাত থেকে বাঁচাতে হলে বিজেপিকে ভোট দিন”, বললেন শুভেন্দু

প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও রাজ্য জুড়ে; রাজ্য সরকার ও ফেডারেশনের পক্ষ থেকে; বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিটে পালিত হল বনশহিদ দিবস। সারা রাজ্যে এই মুহূর্তে বনশহিদ হয়েছেন; ৪০ জন বনকর্মচারী। সম্প্রতি জলদাপাড়ায় এক অস্থায়ী বনকর্মচারী; বাইসনের আক্রমণে নিহত হয়েছেন। এই শহিদ-দের উদ্দেশ্যেই পালিত হল; বনশহিদ দিবস। রাজ্যের মূল কর্মসূচি বনবিতান পার্কের; শহিদ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।

এই প্রসঙ্গে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে, অমল সিনহা অভিযোগ করেন; “দাবি সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে; কলকাতায় তৈরি হয়নি স্থায়ী বনশহিদ মঞ্চ। বন, বন্যপ্রাণ রক্ষায় ব্রতী বনকর্মচারীরা; পুলিশের ন্যায় পে-স্কেল, রেশন-ভাতা, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা; উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। অস্থায়ী বনকর্মী-দের নিয়ে কাজ চলছে; যাদের জীবন ও অর্থনৈতিক অবস্থার নূন্যতম নিরাপত্তা নেই। কর্মচারীদের বঞ্চিত রেখে, এই অবস্থায় কখনোই; রাজ্য বনবিভাগের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন