মমতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, জনদরদী ডাক্তারের করোনা বিল ১৯ লক্ষ টাকা

4615
মমতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, জনদরদী ডাক্তারের করোনা বিল ১৯ লক্ষ টাকা

করোনা চিকিৎসার নামে; বাংলায় চলছে দিনে দুপুরে লুঠ। মমতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে; জনদরদী ডাক্তারের করোনা বিল হল, ১৯ লক্ষ টাকা। রুবির পর এবার মেডিকা। করোনায় রোগীর পরিবারকে; ১৯ লক্ষ টাকার বিল ধরাল হাসপাতাল। আর যার চিকিৎসার জন্য বিল ধরানো হল; তিনি পেশায় নিজেই চিকিৎসক। নিজে রোগীদের কাছে জনদরদী হয়ে উঠলেও; তাকে রেয়াত করেনি হাসপাতাল। ভাগ্যের কী পরিহাস; মৃত্যুর সীমানায় চিকিৎসকের সঙ্গেই ব্যবসা করল; বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি। করোনার মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্যের; পরিবারকে ১৯ লক্ষ টাকা বিল ধরিয়ে; মৃত চিকিৎসকের পরিবারের গলা কাটল; কলকাতার মেডিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই; তৎপর হয় পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য কমিশন। কমিশনের তরফে ওই বিল; পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে। কমিশনের আবেদন বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার, মেডিকা হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়; উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা চিকিৎসক প্রদীপ ভট্টাচার্যের। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের; মসিহা ছিলেন প্রদীববাবু। করোনা পরিস্থিতিতে একা লড়েছেন এলাকায়; মানুষের চিকিৎসা করতে।

আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পকে টেক্কা দিতে, মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ‘তুরুপের তাস’ ভারতীয় কন্যা কমলা

বরাবর রোগীদের চিকিৎসা করেছেন; নামমাত্র ফিতে। অদৃশ্য ভাইরাসের ভয়ে যখন, অর্ধেকের বেশি বেসরকারী ডাক্তার অদৃশ্য হয়ে গেছেন; তখন আমার ছোট্ট শহর শ্যামনগরে ইনিই একমাত্র যোদ্ধা ছিলেন; যিনি একদিনের জন্যও নিজের চেম্বারের দরজা বন্ধ করেননি। ভিজিটও বাড়ান নি। এই মহামারীতে; বাড়িতেও গেছেন রোগী দেখতে । ডাক্তারবাবু একজন জনদরদী চিকিৎসক ছিলেন; ডাক্তারের মুখোশের আড়ালে কোনও ব্যবসায়ী ছিলেন না। ডাক্তারবাবু তো চলে গেলেন; রয়ে গেল তাঁর স্ত্রী ও ১৫ বছরের একটি পুত্র সন্তান। ধণে প্রাণে শেষ হয়ে গেল পরিবারটি।

আরও পড়ুনঃ নদীতে ভেসে আসছে কোটি টাকার সোনা, শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যে

বহু অনুরোধ করা সত্বেও; টাকার এই বিশাল অঙ্ক প্রথমে কিছুতেই কমানো যায়নি। পরে খবর চাউর হতেই; মেডিকা হাসপাতালের মেডিকা হাসপাতালের এক কর্তাকে এসএমএস করেন; স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়; গোটা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রদীপবাবুর পরিবার সেই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরে তা কাটছাট হলে টাকা ফেরত পাবে পরিবার; এমনটাই জানানো হয়েছে। রুবির পর মেডিকা হাসপাতালেও; চিকিৎসার নামে গলা কাটার যে পুনরাবৃত্তি ঘটল; তাতে একটাই প্রশ্ন উঠছে; একজন ডাক্তারের যদি এই পরিণতি হয়; তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? শুধুই মিথ্যাচার আর আসমুদ্র-হিমাচল ভরিয়ে দেওয়া ভাষণ, আর কতদিন চলবে? প্রশ্ন মানুষের।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন