ভোটের মুখে রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক নিয়োগে, ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ

7636
ভোটের মুখে রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক নিয়োগে, ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ
ভোটের মুখে রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক নিয়োগে, ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ

The News বাংলা Exclusive: ভোটের মুখে রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক নিয়োগে; ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠল। বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক নিয়োগে; স্বজনপোষণের প্রকাশ্য প্রমাণ সামনে এল। সোমবার রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে, শিক্ষক নিয়োগের যে তালিকা বেরোয়; তাতে দেখা যায় মোট ৬৪৭ জন চিকিৎসককে নিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু তালিকা খুলতেই সামনে আসে; ব্যাপক স্বজনপোষণের ছবি। দেখা যায়, কয়েকজন ডাক্তার একাধিক মেডিক্যাল কলেজের; বিভিন্ন বিভাগে চাকরী পেয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের শাসক দলের; এক মন্ত্রীর আত্মীয়ের নামে। এক সঙ্গে ১৩টি মেডিক্যাল কলেজে নিয়োগের; তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর। নিয়োগের বিজ্ঞাপণে অবশ্য বলা ছিল; একের বেশী বিভাগে আবেদন করলেই; ক্যান্ডিডেচার বাতিল হবে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে; এই ভাবে নিয়োগ হল কি ভাবে? অভিযোগ কিছুটা হলেও স্বীকার করে নিয়েছেন; রাজ্যের মন্ত্রী ও মেডিক্যাল শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য নির্মল মাজি।

রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক (মেডিসিন, সার্জারি ইত্যাদি ক্লিনিক্যাল সাবজেক্টে আরএমও/অ্যানাটমি; ফিজিওলজি ইত্যাদি প্রি-বা-প্যারা-ক্লিনিক্যাল সাবজেক্টে ডেমোন্সট্রেটর) নিয়োগের তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই; আরও একবার সামনে এল শাসক দল তৃণমূলের দুর্নীতির চিত্র। ডাঃ অর্পিতা বাইন; অভিযোগ তিনি তৃণমূলের এক মন্ত্রীর আত্মীয়া। তিনি আলাদা আলাদা মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন বিভাগে; মোট তেরোটি চাকরী পেয়েছেন। (তালিকায় ক্রমিক সংখ্যা – 347, 348, 374, 393, 399, 536, 556, 571, 642 ইত্যাদি)।

এক সঙ্গে ১৩ জায়গায় চাকরি পেলেন ডাঃ অর্পিতা বাইন

একই ভাবে; ডাঃ সঞ্চারী চক্রবর্তী এরকম তিনটে চাকরী পেয়েছেন। (ক্রমিক সংখ্যা – 390, 409, 638)। ডাঃ দীপাঞ্জন হালদার; যিনি সবে এমডি পাশ করে মোট ছ’টি সুপার স্পেশালিটি বিভাগে নিযুক্ত হয়েছেন; কোন সুপার স্পেশালিটি ডিগ্রী (ডিএম/এমসিএইচ) ছাড়াই; অথচ অনেক ডিএম/এমসিএইচ ডিগ্রীধারী ডাক্তার; ইন্টারভিউ দিয়েও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ডাক্তারদের নাম তালিকায় নেই; বলেই অভিযোগ।

ডাঃ পারভেজ আলম ও ডাঃ তুহিন ইব্রাহিম, সদ্য এমবিবিএস পাশ করা দুই হাউসস্টাফ; একাধিক বিভাগে নিযুক্ত হয়েছেন। অথচ সেই বিভাগে নিয়োগের জন্য এমডি/এমএস পাশ করা ডাক্তাররা; ইন্টারভিউ দিলেও তাঁরা অকৃতকার্য হয়েছেন। এঁরা দুজনেই শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলেই অভিযোগ। এমনই অভিযোগ করেছেন; অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস এর সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মানস গুমটা। “এটা শাসক দলের স্বজনপোষণ ছাড়া আর কিছুই নয়”; পরিষ্কার জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ১০ বছরে পালন হয়নি প্রতিশ্রুতি, আদি গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে শিক্ষামিত্ররা

তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন; রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী ও মেডিক্যাল শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য নির্মল মাজি। একের অধিক জায়গায় নাম থাকা নিয়ে তিনি বলেছেন; “যে ডাক্তার-রা এটা করেছেন; খুব খারাপ কাজ করেছেন। তাঁরা একটি জায়গায় যোগ দেবেন; আমাদের আবার নতুন করে; নিয়োগের বিজ্ঞাপণ দিতে হবে”। তবে, ‘বেশি যোগ্যতার ডাক্তাররা সুযোগ পান নি; তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ডাক্তাররা সুযোগ পেয়েছেন’; এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

এই নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হন নি; মেডিক্যাল শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের আর এক সদস্য; তৃণমূল সাংসদ ডাক্তার শান্তনু সেন। মুখ খুলতে চান নি; রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্যও। এই নিয়োগের প্রতিবাদে; রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ও রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবের শরণাপন্ন হবে; অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস সংগঠন। “তাতেও কাজ না হলে; আইনের রাস্তা খোলা থাকছেই”; জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মানস গুমটা।

তবে ভোটের আগে, রাজ্যে ডাক্তার নিয়োগের এই ঘটনায়; চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল। এর আগে, পিজিতে কুকুরের ডায়লিসিস কাণ্ডে; ও ছেলের ডাক্তারি পরীক্ষার সময় সিসিটিভি বন্ধের আর্জি জানিয়ে; দলকে অস্বস্তিতে ফেলেন নির্মল মাজি। অভিযোগ, এবারও তাঁর ছেলের নামও রয়েছে, এই তালিকায়; অনেক যোগ্য ডাক্তারের নাম বাদ দিয়ে। এবার ভোটের মুখে ফের তৃণমূলকে সমস্যায় ফেললেন নির্মল মাজি; তৃণমূল অন্দরে কান পাতলে এমনটাই শোনা যাচ্ছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন