পিজিতে কুকুরের কিডনি চিকিৎসা বিতর্কের পর, মেডিক্যালে করোনা বিধি ভাঙলেন মন্ত্রী নির্মল মাজি

2631
পিজিতে কুকুরের কিডনি চিকিৎসা বিতর্কের পর, মেডিক্যালে করোনা বিধি ভাঙলেন মন্ত্রী নির্মল মাজি
পিজিতে কুকুরের কিডনি চিকিৎসা বিতর্কের পর, মেডিক্যালে করোনা বিধি ভাঙলেন মন্ত্রী নির্মল মাজি

মানব গুহ, কলকাতাঃ পিজিতে কুকুরের কিডনি চিকিৎসা বিতর্কের পর; এবার মন্ত্রী হয়েও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা বিধি ভাঙলেন; তৃণমূল নেতা নির্মল মাজি। করোনা আক্রান্ত হয়ে; সেখানেই ভর্তি ছিলেন; তৃণমূলের এই চিকিৎসক নেতা। শেষ পর্যন্ত করোনা মুক্ত হলেন; রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময়ই; ভেসে গেলেন ভক্তদের সংবর্ধনায়। অসংখ্য অনুগামীদের ভিড়ে, কোভিড হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের বাইরেই; শিকেয় উঠল দূরত্ববিধি। পিজিতে কুকুরের ডায়ালিসিস বিতর্কের পর; এবার মেডিক্যালে করোনা বিধি ভাঙার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী নির্মল মাজির; হাসপাতাল বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।

এসএসকেএমে ডায়ালিসিসের জন্য ঘুরে-ঘুরে; মরণাপন্ন রোগীরাও ‘ডেট’ পান না। দিনের পর দিন অপেক্ষা করে; বসে থাকতে হয়। সেখানে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ার কুকুরের জন্য; রাজ্যের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের ডায়ালিসিস ওয়ার্ডে; সব ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছিলেন নির্মল মাজি। সেই উদ্যোগের পক্ষেও; তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‘জীবে প্রেম করে যেই জন; সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। কুকুরটা খুব সুন্দর, ছটফটে; তিন মাস ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। তাই এসএসকেএমের একটা হেল্প নিতে চেয়েছিলাম”। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই চেষ্টা বাতিল হলেও; রাজ্য জুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “ক্ষমতার দম্ভ থাকলে মানুষ পাশে থাকে না” দল ছাড়ার আগেই কি মমতাকে আ’ক্রমণ শুভেন্দুর

তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি; চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য প্রধান; এবারও যুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু নিজে একজন চিকিত্‍সক হয়েও; রাজ্যের মন্ত্রী হয়েও; কী করে করোনা বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে; এত ভিড়কে অনুমোদন দিলেন? তাও আবার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো; কোভিড হাসপাতালে? যেখানে চিকিত্‍সাধীন রয়েছেন; শয়ে শয়ে করোনা আক্রান্ত রোগী?

করোনা মুক্ত নির্মল মাজি। তাই, যুদ্ধজয়ী নেতাকে সংবর্ধনা দিতে; করোনা বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে; কোভিড ওয়ার্ডের বাইরেই ঠেলাঠেলি ভিড়; ‘কে আগে নেতাকে মালা পরাবে’। “আমি ডাকিনি, আমাকে ভালবাসে, তাই এসেছে; চমৎকার সাফাই রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রীর। মন্ত্রী বলেই কি সব মাফ? রাজ্যের মন্ত্রীই যদি এইভাবে আইন ভাঙেন; তাহলে কোন লজ্জায় সাধারণ মানুষকে; আইন মানতে শেখায় রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ? সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন মানুষের।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন