ভোট ফুরাতেই উধাও মানুষের ‘সেবক’, বাঙালির প্রিয় মিঠুন আজ হাসির পাত্র

721
ভোট ফুরাতেই উধাও মানুষের 'সেবক', বাঙালির প্রিয় মিঠুন আজ হাসির পাত্র
ভোট ফুরাতেই উধাও মানুষের 'সেবক', বাঙালির প্রিয় মিঠুন আজ হাসির পাত্র

মানব গুহ, কলকাতাঃ মিঠুন চক্রবর্তী; বাঙালির অন্যতম আইডল। তবে, দু-দুবার বাংলার মানুষকে ধোঁকা দেবার পরে; বাঙালির এই আইডল এখন শুধুই তামাশার পাত্র। অনেক মিঠুন ভক্তও চরম হতাশ; তাঁদের প্রিয় নায়কের এই অবস্থা দেখে। ভোট ফুরাতেই ফের উধাও; মানুষের সেবা করতে আসা বাংলার ‘নায়ক’। বাঙালির প্রিয় মিঠুন; আজ শুধুই হাসির পাত্র। তৃণমূল ও বিজেপি, দু-দুবার বাংলার মানুষকে কি ধোঁকা দিলেন মিঠুন? প্রশ্ন আমজনতার ও মিঠুন ভক্তদের। বাংলার একসময়ের অন্যতম আইডল মিঠুন চক্রবর্তী আজ; বাংলার মানুষের চোখে সবচেয়ে বড় হাস্যকর এক ‘ভিলেন’ ছাড়া; আর কিছুই নয়।

প্রচারের কাজ শেষ। আবার ফিরে গেছেন শুটিংয়ে; টিভির নাচের অনুষ্ঠানে। তাহলে মানুষের সেবা? যেটা বলে বিজেপির হয়ে প্রচার করলেন; গোটা বিধানসভার ভোটে। মানুষের সেবা? সেটা আবার কি! আরে ওরকম প্রতিশ্রুতি; ভোটের প্রচারে দিতে হয়। ওটা সত্যি ভাবার কোন দরকার আছে নাকি! টাকা নিয়ে প্রচার করেছি; দু চারটে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেই হয়! জাত গোখরো ফের; সেঁধিয়ে গেছেন নিজের গর্তে।

পূর্ব বর্ধমানের দিলীপ; মধ্যমগ্রামের চন্দন; দুর্গাপুরের অভিষেক; টালিগঞ্জের কৌশিক; শিলিগুড়ির অরিন্দম; বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অজস্র মিঠুন ফ্যান; লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না। এঁদের কাছে একটা সময় মিঠুন মানেই আবেগ; মুম্বাইয়ের ফিল্ম সমাজে এক বাঙালির লড়াই। মিঠুন মানেই ভারতের ড্যান্স সম্রাট; পাড়াগাঁয়ের ছেলের ভারত জয়। বাংলার সেই-সব মিঠুন ফ্যানরা; আজ লজ্জিত। ভাবতেই পারছেন না তাঁরা; মিঠুন চক্রবর্তী দু-দুবার বাংলার মানুষকে ঠকাতে পারেন।

“আমফানের চেয়েও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস”, আবহাওয়া দফতরের উল্টো বললেন মমতা

প্রয়াত সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তীর ‘কাছের লোক’ হিসাবেই; পরিচিত ছিলেন মিঠুন। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে; রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ হন। রাজ্যসভার সমস্ত অধিবেশন মিলিয়ে; তাঁর উপস্থিতি ছিল মাত্র তিনদিন! বারবার চিঠি পাঠিয়ে; তিনি ছুটি বাড়িয়ে গেছেন। তবে শুটিং ঠিকই করেছিলেন। চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের বহু নেতা-নেত্রীর সঙ্গে; তাঁর নামও জড়িয়ে যায়। ইডি-র তরফ থেকে; সমনও পাঠানো হয় তাঁকে। তারপর থেকেই মমতার সঙ্গে; মিঠুনের দূরত্ব বাড়ে। তৃণমূলের সাংসদ পদও; ছেড়েও দেন ২০১৬ সালে।

২০২১-এ ফের উদয়; বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারে। ফের স্বপ্ন দেখালেন বাঙালিকে। “আমি মানুষের পাশে থাকব”; দিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, তিনি কোনদিন ছিলেন না; এখনও নেই। আর কোনদিন মানুষের পাশে থাকবেন; এমন আশা বাংলার মানুষ আর করেন না মিঠুনের কাছ থেকে। ভোট প্রচারে নিজের পুরনো ফিল্মের ডায়লগ শুনিয়ে; লোক হাসিয়েছেন। এখন মানুষের সেবা করা থেকে, উধাও হয়ে; লোক হাসাচ্ছেন। আর ঠিক এইভাবেই, বাংলার এক ‘আইডল’ নিজের জীবদ্দশা-তেই; ছিটকে গেলেন মানুষের ভালবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধার আসন থেকে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন