কি আছে মোদী সরকারের নতুন কৃষি বিলে, কেন বিরোধীতা করছে কৃষক ও বিরোধীরা

1791
কি আছে মোদী সরকারের নতুন কৃষি বিলে, কেন বিরোধীতা করছে কৃষক ও বিরোধীরা
কি আছে মোদী সরকারের নতুন কৃষি বিলে, কেন বিরোধীতা করছে কৃষক ও বিরোধীরা

মানব গুহ, কলকাতাঃ লোকসভার পর সংখ্যাধিক্যের কারণে; রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে গিয়েছে; বিতর্কিত দুটি নতুন কৃষি বিল (Farm Bill 2020)। বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও; সংখ্যাধিক্য থাকায়, বিলটি পাশ করিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় কৃষি উন্নয়ন, কৃষক কল্যাণ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমর; বিল পেশ করে বলেন, “কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার পথে; এই বিল কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না”। যদিও কংগ্রেস সহ বিরোধীরা বলেছে; “এই বিল আসলে, ‘কৃষকদের মৃত্যু পরোয়ানা’। এই বিলকে কেন্দ্র করে হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও তেলেঙ্গানায়; কৃষকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছেন। কিন্তু কি আছে; মোদী সরকারের এই নতুন কৃষি বিলে? কেন বিরোধীতা করছে; কৃষক ও বিরোধীরা?

দেখে নেওয়া যাক কী এই কৃষি বিল এবং কেন সেটি নিয়ে কৃষকরা অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ। কেন্দ্র তিনটি কৃষি বিল পেশ করেছে। এই বিলগুলি হল ‘অত্যাবশ্যক পণ্য আইন’ সংশোধন; ‘কৃষি পণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন’ এবং ‘কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত রাখতে কৃষকদের ‘ ‘সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন চুক্তি’ বিল। তিনটি বিলই লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে। রবিবার রাজ্যসভায় যে দুটি বিল পাশ হল; সেগুলি হল ‘কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন’ এবং ‘কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত রাখতে কৃষকদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন চুক্তি’ বিল।

আরও পড়ুনঃ আশার আলো দেখিয়ে, বিশ্বে করোনায় সুস্থতার হারে শীর্ষে ভারত

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি; “এই বিলগুলির ফলে কৃষকদের রোজগার বাড়বে এবং কৃষিক্ষেত্রের উন্নতি হবে। এর ফলে ২০২২ সালের মধ্যেই; কৃষকদের উপার্জন দ্বিগুণ হবে বলেও দাবি সরকারের। সরকার আরও জানিয়েছে; এই বিলগুলি সরকার নিয়ন্ত্রিত বাজারের নিয়ন্ত্রণ থেকে কৃষকদের মুক্ত করবে; এবং কৃষকরা তাঁদের কৃষি পণ্যের জন্য আরও বেশি দাম পাবেন।

বিল ঘিরে কৃষকদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাওয়ার আশঙ্কায়; ময়দানে নামতে হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সংসদের নিম্ন কক্ষে বিল পাশের পরে; রাতে ট্যুইট করেন নমো। এই বিলকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন; “এটি আইনে পরিণত হলে; কৃষি ক্ষেত্রে ফোড়ে বা দালাল রাজের অবসান হবে। যার ফলে কৃষকদের আয় বাড়বে”।

আরও পড়ুনঃ ২০০০ টাকার নোট নিয়ে, সংসদে বড় ঘোষণা মোদী সরকারের

কৃষি সংস্কার বিলের প্রতিবাদে সরব হয়েছে; বিজেপির সবচেয়ে পুরনো সহযোগী শিরোমণি অকালি দলও। কৃষি বিল পাশের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন; অকালি দলের প্রধান প্রকাশ সিংহ বাদলের পুত্রবধূ হরসিমরত কউর বাদল। হরিয়ানায় বিজেপির সহযোগী জেজেপি’ও; এই বিলের বিরোধিতায় সরব হয়েছে।

এই বিলের প্রস্তাব হল, এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা; যেখানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পণ্য কেনাবেচা করতে পারবেন মান্ডির বাইরেই। পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের উপরেও; জোর দেওয়া হয়েছে এবং পরিবহন খরচ কমানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে বিলে। সর্বোপরি এই বিলের উদ্দেশ্য; কৃষকদের কৃষি-বাণিজ্য সংস্থা, রফতানিকারী এবং খুচরো পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা। এবং কৃষকদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া। এছাড়াও পাঁচ হেক্টরের কম পরিমাণ জমির কৃষকদের কাছেও; লাভের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্দেশ্য রয়েছে এই বিলগুলির।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় সঙ্গীত অবমাননা করলেন তৃণমূলের মন্ত্রী, কথা বললেন মোবাইলে

কৃষকরা তাদের উৎপাদনের জন্য; ন্যূনতম সহায়তা মূল্য পাওয়ার বিষয়ে শঙ্কিত। কৃষকদের ধারণা, এই বিল পাশ হওয়ার ফলে; বাজার থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ সরে যাবে। সরকার ধীরে ধীরে ন্যূনতম সমর্থন মুল্যে; ফসল কেনা বন্ধ করে দেবে। ফলে কৃষকদের পুঁজিপতিদের; মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। পাশাপাশি কৃষি-বাণিজ্য ও বড় খুচরো ব্যবসায়ীরা; কৃষকদের উপরে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে এই বিষয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের আতঙ্ক রয়েছে; সংস্থাগুলি কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা শুরু করে দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষি বিল প্রসঙ্গে; বিরোধীদের নিশানা করে বলেন, “মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে যে; সরকারি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) মিলবে না’’। এর পরে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম শনিবার প্রশ্ন তোলেন; চাষিরা সরকারি মন্ডির বাইরে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে ফসল বিক্রি করলে; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা তার চেয়ে বেশি দরে ফসল কিনতে বাধ্য থাকবেন; এমন কোনও শর্তের কথা বিলে নেই কেন? ফলে, প্রচুর প্রশ্ন ও ক্ষোভ বিক্ষোভের মুখে; মোদী সরকারের নতুন কৃষি বিল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন