অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের নিচে রাম মন্দির খুঁজে বের করেছিলেন মহম্মদ

1668
অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের নিচে রাম মন্দির খুঁজে বের করেছিলেন এক মুসলমান/The News বাংলা
অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের নিচে রাম মন্দির খুঁজে বের করেছিলেন এক মুসলমান/The News বাংলা

মানব গুহঃ গল্প হলেও সত্যি! অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের নিচে; রাম মন্দির খুঁজে বের করেছিলেন মহম্মদ, এক মুসলিম। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ হওয়ার আগে একটি রাম মন্দির ছিল; প্রথম বলেছিলেন এক মুসলিমই। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর খুশি সেই মুসলিম ভদ্রলোক। শীর্ষ আদালতের রায়ের পর তিনি বলেছেন; “এবার নিজেকে উজ্জীবিত লাগছে”।

শনিবার ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের প্রাক্তন আঞ্চলিক পরিচালক (উত্তর) কে কে মহম্মদ বলেছেন; “অযোধ্যা বিতর্ক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় এর পর তিনি উজ্জীবিত বোধ করেছেন”। অযোধ্যায় বিতর্কিত স্থানে দশ সদস্যের খননকার্যের দলের সদস্য; কে কে মহম্মদ প্রথম বলেছিলেন যে; “অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ হওয়ার আগে একটি রাম মন্দির ছিল। তার অনেক প্রমাণ রয়েছে”।

আরও পড়ুনঃ জয় শ্রী রাম, অযোধ্যায় জিতল রাম মন্দির, মসজিদ হবে অন্য জায়গায়

কে কে মহম্মদ, ভারতের বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক বি বি লাল এর সঙ্গে কাজ করেছেন। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের প্রাক্তন মহাপরিচালক বি বি লাল; যিনি অযোধ্যায় প্রথম খননকারী দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; ১৯৭৬-৭৭ সালে। আর সেই সময়ই কে কে মহম্মদ; বাবরি মসজিদস্থলে একটি হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।

অযোধ্যাতে রাম জন্মভূমির প্রথম খননকার্যটি; ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার এই দল; ১৯৭৬-৭৭ সালে করেছিল। ১৫ ডিসেম্বর ১৯৯০; মহম্মদ প্রথমবার দাবি করেছিলেন যে, খননকালে তিনি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখেছিলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন; “এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে যে; মসজিদটি কেবলমাত্র মন্দিরের উপরেই নির্মিত হয়নি, মন্দিরের কিছু অংশ মসজিদ নির্মাণের জন্যও ব্যবহার করা হয়েছিল”।

যখন মহম্মদকে বলা হয়েছিল যে; ‘তিনি বাবরি মসজিদের ভিতরে মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন; তা জনসমক্ষে প্রচার করার জন্য তাকে বরখাস্ত করা হবে’। তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন সংস্কৃত ভাষায়; বলেছিলেন, “লোকসমগ্রমেভাপি সম্প্পসায়ী করতুমারহশীতে। স্বধর্মে নিধনম শ্রেয়া”। দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যে তিনি সংস্কৃতে বলেছিলেন; “Lokasamgramevapi Sampasyan Kartumarhasi. Swadharme nidhanam shreya” বা “I spoke the truth; Death is preferable while on duty”। অর্থাৎ, “আমি সত্য কথা বলেছি। দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু হলেও সেটাকে আগেই রাখব”।

আরও পড়ুনঃ খুশির হাওয়া অযোধ্যা জুড়ে, ভক্তদের জয় শ্রী রাম ধ্বনি

তাঁর অসামান্য সাহসের জন্য ও তাঁর কর্মদক্ষতার জন্য; প্রত্নতাত্ত্বিক কে কে মহম্মদকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দেয় ভারত সরকার। তাঁর কাজ নিয়ে ‘সত্য কথা বলার’ জন্য প্রশংসা করেছে সারা দেশ। ভারতীয় চিন্তাবিদদের মধ্যে জনপ্রিয় এই বামপন্থী প্রত্নতাত্ত্বিক; সাধারণত “গভীর জ্যোতি, পরম জ্যোতি, গভীর জ্যোতি জনার্দন ও গভীর জ্যোতি নমস্তে” দিয়ে যে কোন সমাবেশে মানুষদের সম্বোধন করেন।

২৪ বছর এএসআইয়ের দায়িত্ব পালন করে; কে কে মহম্মদ ২০১২ সালে অবসর নেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় শোনার পর বলেছেন; “ভালো লাগছে, মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট এএসআই দ্বারা প্রমাণিত প্রমাণগুলি সঠিক বলে স্বীকার করলেন”।

কেরালার কালিকটে জন্মগ্রহণকারী মহম্মদ; কোদোভালির সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। কবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবালের উদ্ধৃতি দিয়ে; তিনি হিন্দুদের ভগবান রামকে ‘ইমাম-ই-হিন্দ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ পূর্ব এশীয় দেশগুলির উদাহরণও উদ্ধৃত করেন; যেখানে ভগবান রাম জনপ্রিয় এবং ‘উপাসনা’ হয়ে আসছেন।

“বাবরির নিচে মসজিদ আছে”; একথা তাঁকে বলতে নিষেধ করেছিলেন দেশের বাম নেতারা। আজীবন বামপন্থি কে কে মহম্মদ বলেছিলেন; “একজন প্রত্নতত্ববিদ যাচাইযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলেন। অযোধ্যা খননের সময়; আমি এই দলের অংশ ছিলাম। মন্দিরের উপস্থিতির প্রমাণ ছিল; কিন্তু বামরা শোক করতে থাকেন”।

বাবরি মসজিদের নিচে রাম জন্মভূমির ধারণাকে সমর্থন করার সময়; তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি তাঁর প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুসারে সব বলছেন; ধর্মীয় বা বামপন্থী মত অনুসারে নয়। ২০১২ সালে এএসআই থেকে অবসর গ্রহণ করেন মহম্মদ; এবং হায়দরাবাদে আগা খান ট্রাস্ট প্রকল্পের পরিচালক হিসাবে একটি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০১৬ সালে কে কে মহম্মদ; মালায়ালাম ভাষায় “নঞ্জন এন্না ভারতিয়ান” বা “আমি একজন ভারতীয়” শিরোনামে তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশ করেছিলেন। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক (উত্তর) হিসাবে; তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখেছেন। বইটিতে তিনি ফের দাবি করেন যে; বি বি লাল নেতৃত্বাধীন দলটি অযোধ্যায় খননকালে বাবরি মসজিদের নিচে একটি হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছিল। কে কে মহম্মদের সেই দাবিকেই; এতদিন পর স্বীকৃতি দিল ভারতের শীর্ষ আদালত।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন