করোনা আতঙ্কে বাচ্চাকে বেশি ভিটামিন খাওয়াচ্ছেন, হিতে বিপরীত হতে পারে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

4116
করোনা আতঙ্কে বাচ্চাকে বেশি ভিটামিন খাওয়াচ্ছেন, হিতে বিপরীত হতে পারে
করোনা আতঙ্কে বাচ্চাকে বেশি ভিটামিন খাওয়াচ্ছেন, হিতে বিপরীত হতে পারে

করোনা আতঙ্কে বাচ্চাকে; বেশি ভিটামিন খাওয়াচ্ছেন? হিতে বিপরীত হতে পারে; বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আমরা সবাই একটা কথা শুনি; “বেশী ভালোও ভালো নয়”। যদি জানতে চান যে, এই কথাটি ভিটামিন খাওয়ার বেলায় খাটে কিনা; তো বলব যে অতি অবশ্যই খাটে। মানুষের শরীরে বিশেষ করে বাচ্চার শরীরে; বেশি ভিটামিন উল্টো বিপদ আনতে পারে। The News বাংলা কে এমনটাই বললেন; ডায়েটিশিয়ান শ্রেয়সী ভৌমিক সিনহা। কি জানাচ্ছেন তিনি; দেখে নিন একনজরে।

ভিটামিন আছে; দুই ধরণের। একদল জলে গুলে যায়; আরেকদল তেলে। জলে গোলা ভিটামিনগুলি, মাত্রার বেশী জমলে; শরীর সহজেই বের করে দেয়। মুশকিল হল তেলে গোলা; বা তেলে দ্রব্য ভিটামিন নিয়েই। এরা সহজে শরীর থেকে; বার হয় না। কাজেই শরীরে জমতে থাকে; তারপর বিষক্রিয়া শুরু হতে পারে। জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি, যেমন বি কমপ্লেক্স বা ভিটামিন সি; শরীরের বিভিন্ন কোষে চলে যায় ও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জমে থাকে না। অপরপক্ষে তেলে দ্রবণীয় ভিটামিন, যেমন এ/ডি/ই/কে; তৈলাক্ত খাবারের সঙ্গে শোষিত হয়ে; শরীরের চর্বি ও লিভারে জমতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ করোনা আক্রান্ত, উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে, সারাদিনে কি খাবেন জানাচ্ছেন ডায়েটিশিয়ান অনুশ্রী

কোভিড পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন; প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আর জিঙ্ক খেলে সুস্থ থাকা যাবে; এমনকি রোগটাও হয়তো নাও হতে পারে! কিন্তু এর উপকারিতা আদৌ আছে কিনা, বিশেষত কোভিড রোগে; তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যদি ভিটামিন সি-কেই ধরা যায়, এমনি নিরাপদ হলেও; প্রচুর পরিমাণে খেলে পাতলা পায়খানা আর বমির ভাব হওয়া বিচিত্র নয়। সাময়িকভাবে রক্তে গ্লুকোজ বা সুগার; বেড়েও যেতে পারে! ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য; এটা বেশ বিপদের।

ওদিকে জিঙ্ক বেশী খেলে, শরীরে কপার মানে; তামার পরিমাণ কমে যেতে পারে। জিভে স্বাদগ্রহণের হেরফের হতে পারে; এমনকি নার্ভের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। রোগীর চলতি অষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে মিলে; মাত্রাতিরিক্ত জিঙ্ক খারাপ ফলাফল আনতে পারে। তাই এসব বাজারচলতি ভিটামিন, মুখে দেওয়ার আগে; একবার নিজের ডাক্তারবাবুকে জিজ্ঞেস করে নিন। সুষম খাদ্যের সঙ্গে, অতিরিক্ত ভিটামিন খেলে; উপকারের চেয়ে অপকার হবার সম্ভাবনা বেশি। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, সেটা অনেকটাই; খারাপ হতে পারে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন