কাঁচের ওপারে করোনা পজিটিভ মা, এপারে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার বায়না ছোট্ট মেয়ের

4163
কাঁচের ওপারে করোনা পজিটিভ মা, এপারে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার বায়না ছোট্ট মেয়ের
কাঁচের ওপারে করোনা পজিটিভ মা, এপারে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার বায়না ছোট্ট মেয়ের

এক ছবিতে কাঁদল; গোটা ভারত। কাঁচের ওপারে করোনা পজিটিভ মা; এপারে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বায়না ছোট্ট মেয়ের। মুম্বাইয়ের আলিফিয়া জাভেরি (Alifya Jhaveri) ও তাঁর ছোট্ট মেয়ের ছবি; ইতিমধ্যেই ভাইরাল গোটা ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায়। মা করোনা আক্রান্ত; বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে আছেন। কিন্তু করোনা বা কোয়ারেন্টাইন কি; তা বোঝার ক্ষমতা এখনও হয় নি ছোট্ট মেয়ের। প্রতিদিনই, বিশেষ করে ঘুম পেলে; ছোট্ট মেয়েটি চলে আসে মায়ের বেডরুমের জানলার কাছে। কাঁচের উপরে ছোট্ট ছোট্ট আঙুলগুলো রাখে। বলতে চায়, “মা তোমার সঙ্গে ঘুমাবো”।

আরও পড়ুনঃ তৈরি হল করোনার ওষুধ, ১১ই জুন থেকেই মানব শরীরে প্রয়োগ

করোনা সংক্রমণ নিয়ে বাড়িতেই; কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা আলিফিয়া জাফেরি। কিন্তু তাঁর কোলের মেয়েটি যে; করোনা ভাইরাস বোঝে না; কোয়ারেন্টাইন কী সেটাও জানে না। তাই কাঁচের দেওয়ালের এক পারে ঘুম পারিয়ে দেওয়ার জন্য, মেয়ের চোখের জল পরে; আর কাঁচের ওপারে, অসহায় মায়ের চোখের জল বাঁধ মানে না। এমনই এক করুণ ছবি তুলে ধরেছে; মুম্বইয়ের স্থানীয় পোর্টাল ‘হিউম্যানস অফ মুম্বই’।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় আজব শাসন, বিধায়ক সাংসদকে নিজের এলাকায় যেতে আগে আদালতে যেতে হয়

১৭ মাসের মেয়ের থেকে; একই বাড়িতে আলাদা থাকা যে কী যন্ত্রণার সেটাই জানিয়েছেন আলিফিয়া। তিনি বলেছেন; “খুবই সামন্য উপসর্গ দেখা দিয়েছে আমার। সেই কারণে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছি। হাসপাতালের তুলনায় সেটা অনেক সুবিধার। কিন্তু ছোট্ট মেয়ের থেকে; একই বাড়িতে আলাদা থাকাটা খুবই কষ্টের‌”। আলিফিয়া বলেছেন; “তিনি যখন জানতে পারেন যে; তাঁর কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ; তখন চিকিৎসককে প্রথম প্রশ্ন করেন; “আমার মেয়ের রিপোর্ট কী”? সৌভাগ্যের বিষয়, ছোট্ট মেয়েটির রিপোর্ট নেগেটিভ।


আরও পড়ুনঃ
 বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় মোদীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, চিন্তায় তৃণমূল

প্রতিদিনই বিশেষ করে ঘুম পেলে, ছোট্ট মেয়েটি চলে আসে; মায়ের বেডরুমের জানলার কাছে। কাঁচের উপরে ছোট্ট ছোট্ট আঙুলগুলো রাখে। বলতে চায়; “মা তোমার সঙ্গে ঘুমাবো।” কিন্তু সেটা যে সম্ভব নয়; তা তাকে বোঝানোই মুশকিল। আলিফিয়া বলেছেন; “সেই মুহূর্তটায় আমার মন-প্রাণ চায় ওর সঙ্গে থাকতে; কিন্তু আমি জানি, আমি পারব না”।

আরও পড়ুনঃ মুকুল রায়ের হাত ধরে এলেই, বিজেপিতে বড় পোস্ট

মুম্বাই এর বাসিন্দা আলিফিয়া বলেছেন; “ওর বাবা ও পিসি যথেষ্টই যত্ন নেন; কিন্তু মাঝরাতে যখন ও মায়ের কাছে যাব বলে কান্না জোড়ে; তখন আমার বুকটা ভেঙে যায়”। এই ছবি পোস্ট করেছে ‘হিউম্যানস অফ মুম্বই’; তাদের ফেসবুক পেজে। আর তা হাজারে হাজারে শেয়ার হয়েছে। হাজার হাজার লাইকস আর কমেন্ট। কেউ সন্তানের জন্য; মায়ের কষ্টে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কেউ বাচ্চাটির জন্যই যেন; মা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন সেই প্রার্থনা করেছেন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন