‘মুসলিম কন্যা’, শিক্ষায় ধর্মীয় সুড়সুড়ি সংসদ সভাপতির, জোর বিতর্ক

7549
'মুসলিম কন্যা', শিক্ষায় ধর্মীয় সুড়সুড়ি সংসদ সভাপতির, জোর বিতর্ক
'মুসলিম কন্যা', শিক্ষায় ধর্মীয় সুড়সুড়ি সংসদ সভাপতির, জোর বিতর্ক

‘মুসলিম কন্যা’, শিক্ষায় ধর্মীয় সুড়সুড়ি; সংসদ সভাপতির। উচ্চ-মাধ্যমিক রেজাল্ট বেরোনোর পরেই; এবার শিক্ষায় ধর্মীয় সুড়সুড়ি নিয়ে শুরু হল বিতর্ক। “৫০০ র মধ্যে ৪৯৯ পেয়ে; উচ্চ-মাধ্যমিকে প্রথম এক ‘মুসলিম কন্যা’। এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর ৪৯৯; প্রথম হয়েছে মুর্শিদাবাদের এক ‘মুসলিম কন্যা’। উচ্চ মাধ্যমিক রেজাল্ট ঘোষণা করার সময়ই নাম না করে; একথা জানিয়েছিলেন, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস। তখনই চমকে উঠেছিল; গোটা বাংলা। এরপরেই এই নিয়ে আসরে নেমেছে; বঙ্গ বিজেপি। সংসদের সমালোচনায় সরব; বাংলার সাধারণ মানুষও।

৫০০তে ৪৯৯; রাজ্যের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে এককভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে; মুর্শিদাবাদের কান্দির রাজা মনীন্দ্রচন্দ্র গার্লস হাইস্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী রুমানা সুলতানা। মুর্শিদাবাদের কান্দি পুর এলাকার; ১১ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেল পাড়ার বাসিন্দা রুমানা সুলতানা। শিক্ষক পরিবারের সন্তান রুমানা; বাবা রবিউল আলম ভরতপুর থানার অচলা অচলা বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক। মা সুলতানা পারভীন; ভরতপুরের গয়সাবাদ অচলা বিদ্যামন্দিরে শিক্ষিকা।

আরও পড়ুন; মাধ্যমিকে পঞ্চম, উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম, রুমানা সুলতানা বাংলায় মুসলিম নারী শিক্ষার দৃষ্টান্ত

২০১৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায়; ৬৮৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যে পঞ্চম হয়েছিল রুমানা। তখনই লক্ষ্য ছিল, উচ্চ-মাধ্যমিকে; আরও ভাল ফল করার। লক্ষ্য পূরণ হয়েছে তার; পঞ্চম থেকে সোজা প্রথম। এককভাবে রাজ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে, উচ্চ-মাধ্যমিকে প্রথম হলেও; পরীক্ষায় বসতে না পারার জন্য অবশ্য কিছুটা মনখারাপ রুমানার। তবে একাদশে স্কুলের শিক্ষিকারা যে নম্বর দিয়েছিলেন; তার ভিত্তিতেই যে উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া গিয়েছে; তার জন্য প্রচণ্ড খুশিও সে।

আরও পড়ুন; ৫০০ র মধ্যে ৪৯৯ পেয়ে বাংলায় উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম মুসলিম কন্যা

তবে এই খুশির মুহূর্তেও; বিতর্ক তৈরি হল বুদ্ধিমতী মেয়েটিকে নিয়ে। সৌজন্যে, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের; সভাপতি মহুয়া দাস। আর এটাকে নিয়েই, রাজ্য সরকারের তুমুল সমালোচনায় নেমেছে; বঙ্গ বিজেপি নেতা-নেত্রীরা। কেন উচ্চমাধ্যমিকে ফার্স্ট হওয়া একজনকে, নাম না বলে; ‘মুসলিম কন্যা’ বলে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দেওয়া হবে? প্রশ্ন বিজেপির নেতা নেত্রী থেকে; সাধারণ মানুষের। “হিন্দু মেয়ে ফার্স্ট হলে তো ‘হিন্দু কন্যা’; বলে মন্তব্য করা হয় না”; প্রশ্ন বাংলার আমজনতার। এই নিয়ে সংসদ সভাপতি মহুয়া দাসের সঙ্গে; যোগাযোগ করা যায়নি।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন