ফিরোজ খানকে সংস্কৃত পড়াতে দেব না, আব্দুল কালামের তৈরি মিসাইল ছুঁড়ব পাকিস্তানে

821
ফিরোজ খানকে সংস্কৃত পড়াতে দেব না, আব্দুল কালামের তৈরি মিসাইল ছুঁড়ব পাকিস্তানে/The News বাংলা
ফিরোজ খানকে সংস্কৃত পড়াতে দেব না, আব্দুল কালামের তৈরি মিসাইল ছুঁড়ব পাকিস্তানে/The News বাংলা

মানব গুহঃ এটাই কি ভারতীয় সংস্কৃতি? এর জন্যই কি বিশ্বের দরবারে; ভারতীয় গণতন্ত্রের পরিচয়? গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দদুটি কি এখন শুধুই; ভারতীয় সংবিধানে লেখা থাকবে। তার কোন প্রয়োগ বাস্তবে হবে না? সম্প্রতি বেনারস হিন্দু বিশ্ব বিদ্যালয়ে; মুসলিম শিক্ষক ফিরোজ খানের কাছে ছাত্র ছাত্রীরা সংস্কৃত পড়তে না চাওয়ায়; সেই প্রশ্ন উঠেছে দেশ জুড়ে। ফিরোজ খানকে সংস্কৃত পড়াতে দেব না; কিন্তু আব্দুল কালামের তৈরি মিসাইল ছুঁড়ব পাকিস্তানে; এই মনোভাব কেন?

মুসলিম অধ্যাপক কি না হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত পড়াবে?! এতবড় অনাসৃষ্টি?! বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে; এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ফিরোজ খান; মুসলিম হয়েও যার অধ্যাপনার বিষয়-সংস্কৃত; তাও আবার হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে! আর ঝামেলার সূত্রপাত সেখান থেকেই। ছাত্রদের বিক্ষোভ আন্দোলনের পর; এবার সেই আগুনেই ঘৃতাহুতি দিলেন; সংস্কৃত বিদ্যা ধর্ম বিজ্ঞান (এসভিডিভি)-এর অধ্যাপক এবং সংস্কৃত পণ্ডিতরা। সংস্কৃতে ডক্টরেট ফিরোজ খানের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ বাতিল করতে; সরাসরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ ধর্মের কাছে হেরে গেল মানবতা, মুসলিম শিক্ষককে সংস্কৃত পড়ানোর অনুমতি নয়

ছাত্র ছাত্রীরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করার পর; অধ্যাপক এবং সংস্কৃত স্কলাররাও প্রতিবাদে নামায়; বেনারস হিন্দু বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করে নিজের বাড়ি জয়পুরে ফিরে গেছেন সংস্কৃত অধ্যাপক ফিরোজ খান। বাড়ি ফিরে ফিরোজ বলেছেন; “সারা জীবন ধরে আমি সংস্কৃত পড়ে এসেছি। কখনও মনে হয়নি; আমি মুসলিম বলে সংস্কৃত আমি পড়তে পারব না। এবার যখন সংস্কৃত পড়াতে গেলাম; তখন তার মধ্যে ধর্ম নিয়ে আসা হল”।

জয়পুরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে; শাস্ত্রী (স্নাতক), শিক্ষাশাস্ত্রী (বি.এড); আচার্য (স্নাতকোত্তর) এবং ২০১৮ সালে পিএইচডিও সম্পূর্ণ করেছেন অধ্যাপক ফিরোজ খান। এমনকী নেট এবং জেআরএফ-ও সম্পূর্ণ করেন; কৃতী ছাত্র ফিরোজ। ক্লাস টু থেকে মুসলিম মহল্লাতে সংস্কৃত পড়া শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোনওদিন মুসলিম সমাজ কিংবা মৌলবিরা তাঁকে এ ব্যাপারে বাধা দেননি। তিনি কোরানের চেয়ে অনেক বেশি সংস্কৃত জানেন। তাঁর বাবা রমজান খানও ছিলেন সংস্কৃতের ছাত্র।

আরও পড়ুনঃ বিক্ষোভ, পণ্ডিত মদন মোহন মালব্যের হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলমান অধ্যাপক হিন্দুধর্ম পড়াচ্ছেন

কিন্তু হলে কি হবে; ধর্মে তো মুসলিম! তাই এক মুসলিমের কাছে সংস্কৃত শিখবে না; হিন্দু ছাত্র ছাত্রীরা। এক টিচার্স রুম শেয়ার করবেন না; অধ্যাপক এবং সংস্কৃত স্কলাররা। কিন্তু আব্দুল কালাম? ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে; তাঁর অবদানের জন্য তাকে ‘ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মানব’ বা ‘মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয়। ১৯৯৮ সালে পোখরান-২ পরমাণু বোমা পরীক্ষায়; তিনি প্রধান সাংগঠনিক, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন। তিনিও তো মুসলিম?

ভারতরত্ন আব্দুল কালাম ছিলেন; ভারতের ১১ তম রাষ্ট্রপতি। জন্মসূত্রে মুসলমান হলেও; সর্বধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন কালাম। ফিরোজ খানও সর্বধর্মে বিশ্বাস করেন। কোরান, গীতা সবই পড়তেন আব্দুল কালাম। কোরানের চেয়ে বেশি সংস্কৃত পড়েন অধ্যাপক ফিরোজ খান। এমনকী সরস্বতীর হাতে থাকা; বীণা বাজাতেও কালাম পারদর্শী ছিলেন। সংস্কৃত ভাষায় লেখা ভারতীয় সংস্কৃতি শুধু পড়েছেন তা নয়; তা নিয়ে পড়াতে ফিরোজ খানের পাণ্ডিত্য দেখার মতন।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায়; হিন্দু সংস্কৃত অধ্যাপকরা যেখানে ২-৩ এর বেশি পাননি; সেখানে মুসলিম অধ্যাপক ফিরোজ খান পান ১০ এ ১০। তবু তাঁর কাছে পড়বে না ছাত্র ছাত্রীরা। তাঁকে মেনে নিচ্ছে না; বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত অধ্যাপকরা!

আর এখানেই উঠে গেছে প্রশ্ন। মুসলিম বলে, ফিরোজ খানকে সংস্কৃত পড়াতে দেব না; কিন্তু প্রতিদিন আব্দুল কালামের তৈরি মিসাইল ছোঁড়ার হুমকি দেব পাকিস্তানে। এই দ্বিচারিতা কেন? আর শিক্ষিত মানুষরা যদি অশিক্ষিত মৌলবাদের মতন আচরণ করেন; তাহলে সেই দেশের গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন কিন্তু উঠছেও।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন