রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের নামে, চিনের কাছে টাকা খেয়েছে গান্ধী পরিবার

2240
রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের নামে, চিনের কাছে টাকা খেয়েছে গান্ধী পরিবার
রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের নামে, চিনের কাছে টাকা খেয়েছে গান্ধী পরিবার

২০০৬-২০০৭ অর্থবর্ষে রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনে; চিনের দিল্লিস্থিত দূতাবাস, ৯০ লক্ষ টাকা দান করে। রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন একটি এনজিও। তার মাথায় আছে ১০ জনপথের নেত্রী সনিয়া গান্ধী। সংস্থাটির এফসিআরএ নম্বর DL/231650615। সেই এফসি৬ রিটার্নেও; এই দানের কথা উল্লেখ রয়েছে। Rajiv Gandhi Institute for Contemporary Studies এ; সরাসরি টাকা দিয়েছে চিনের কমিউনিস্ট সরকার। এই রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনেই দান দিয়েছে; সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া জাকির নায়েকও।

আরও পড়ুনঃ বৈঠকের পরেও গালওয়ান থেকে সরে নি বিশ্বাসঘাতক চিন, ধরা পরে গেল উপগ্রহে

এই রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের মাথায়; আছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। এ ছাড়াও সংস্থার ট্রাস্টি হিসেবে আছেন; প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, রাহুল গাঁধী, প্রিয়াঙ্কা ভদ্র, মন্টেক সিংহ আলুয়ালিয়া, পি চিদম্বরম এবং সনিয়া গাঁধীর বন্ধু সাংবাদিক সুমন দুবেও রয়েছেন। ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাতে; সনিয়ার সঙ্গেই অভিযুক্ত এই সুমন দুবে। রাজীব গাঁধীর দুন স্কুলের বন্ধু এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রাক্তন সম্পাদক; তথা বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ শৌরি এবং এনডিটিভির তথাকথিত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অজয় শুক্লার ঘনিষ্ঠতম আত্মীয় সুমন দুবে।

রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের সংস্থার ট্রাস্টি

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই ফাউন্ডেশনে কলকাতার বিদ্যুৎ কোম্পানি সিইএসসির মালিক; এবং সদ্য মোহনবাগান ক্লাব কিনে নেওয়া সঞ্জীব গোয়েঙ্কাও রয়েছেন। এ ছাড়াও আনন্দবাজার-টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রকাশনা সংস্থা; এবিপি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক গাঙ্গুলীও এই ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি। এঁরা সকলেই দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ করেছেন; এটা এখন প্রমানিত। ইকো সিস্টেম কতটা প্রভাবশালী; এই ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টিদের দিকে চোখ বোলালেই বোঝা যায়।

আরও পড়ুনঃ এটা ৬২র ভারত নয়, লাদাখে চিন সীমান্তে কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস টু এয়ার মিসাইল বসাল ভারত

রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনে চিনের ফান্ড নেওয়ার পরে; সদলবলে ২০০৮ সালে বেজিংয়ে অলিম্পিক গেমস দেখতে যান জন্মসূত্রে ইতালিয়ান কংগ্রেস সভানেত্রী। ভারতের সরকারি খরচেই। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে; তাঁর সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন; লোক দেখানোর মতো। সেখানে গিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়নার সঙ্গে; জাতীয় কংগ্রেস পার্টির মৌ স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তিতে কী ছিল তা আজও অজানা। সিঙ্গুরের টাটা-বামফ্রন্ট রাজ্য সরকার চুক্তির মতোই!

রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের নামে, চিনের কাছে টাকা খেয়েছে গান্ধী পরিবার

তবে ২০০৮ সালের ওই চুক্তির পর থেকে; ভারত-চিন দু’দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যিক ফারাক বাড়তে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকারি তথ্য সেটাই বলছে। অবাক করার বিষয় এটাই, কংগ্রেস-কমিউনিস্ট পার্টি চিনের চুক্তির সময়ে; ছবিতে তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রী আনন্দ শর্মাও ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন; এনডিটিভির কর্ণধার প্রণয় রায়।

রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি, অশোক গাঙ্গুলী ওই সময়েই; রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সরকার মনোনীত ডিরেক্টর এবং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের; ব্যবসা এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত কাউন্সিলের সদস্য। রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনকে সামনে রেখে; আরও কত রকমের লুঠপাট চলেছে তা ভগবান বলতে পারবেন!

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের আজব আমফান দুর্নীতি, জাকির হোসেনের বাপ অমূল্য বিশ্বাস, কালীপদর ছেলে মণিরুল

বাণিজ্যই আসলে যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে ২০০৮ সালে; ভারতের জমি ছেড়ে দিয়েছিল ১০ জনপথ। বেজিং থেকে চুক্তি করে ফেরার পরে; রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের একের পর এক তথাকথিত ‘স্টাডি’তে; চিনের সঙ্গে FTA (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) করার জন্য মত তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। ভাবটা এমন, যেন FTA তে লাভ ভারতের। চিন দয়া করছে! এর পরেই শুরু হয় চিনের সঙ্গে ট্রেড ডেফিসিট।

২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত; এই ট্রেড ডেফিসিট ৩৩ গুণ বেড়েছে। নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়; এ নিয়ে কোনও উত্তর সম্পাদকীয় লেখেননি। সে কারণেই ট্রাস্টি বোর্ডে জায়গা পেয়েছেন গাঙ্গুলী সাহেবরা! তাই ২০১৯ এর সাধারণ নির্বাচনের আগে; চিনা দূতাবাসে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর যাওয়া অথবা কৈলাস মানস সরবোরে গিয়ে; চিনের মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে ঢাকঢাক গুড়গুড় কেন তা বোঝাই যায়!

দিল্লির সাংবাদিকেরা এ সব আপনাদের বলবেন না; লিখবেন না। কড়া বিষয় সামনে আসলে তাঁরা ন্যাকা সাজবেন। এ নিয়ে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার; তদন্ত প্রয়োজন। ষড়যন্ত্র কতটা গভীরে তা বোঝা দরকার! কেন কংগ্রেসের আমলে চিন; ভারতের হাজার হাজার কিলোমিটার জায়গা দখল করে নিল; তার তদন্ত হওয়া ও ভারতবাসীর কাছে পুরো তথ্য প্রকাশ পাওয়া দরকার।

সম্পাদকীয় লিখলেন দিবাকর রায়; (লেখার বিষয় ও তথ্য প্রমাণ লেখকের নিজস্ব)

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন