নন্দীগ্রাম ক্ষমতায় এনেছিল মমতাকে, সেই নন্দীগ্রামেও দুর্নীতি কি ডোবাবে তৃণমূলকে

1629
নন্দীগ্রাম ক্ষমতায় এনেছিল মমতাকে, সেই নন্দীগ্রামেও দুর্নীতি কি ডোবাবে তৃণমূলকে
নন্দীগ্রাম ক্ষমতায় এনেছিল মমতাকে, সেই নন্দীগ্রামেও দুর্নীতি কি ডোবাবে তৃণমূলকে

নন্দীগ্রাম ক্ষমতায় এনেছিল মমতাকে; সেই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামেও দুর্নীতি কি ডোবাবে তৃণমূলকে ?এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; বাংলার রাজ্য রাজনীতি-তে। ১০০ দিনের কাজ হোক; বা মুখ্যমন্ত্রী আবাস যোজনা হোক; ভুরিভুরি অভিযোগ আগেই ছিল। এবার তার সঙ্গে যোগ হল; আমফান দুর্নীতি। নন্দীগ্রাম দু’নম্বর ব্লকের আমদাবাদের বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত হোক; বা নন্দীগ্রামের আমদাবাদ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সুবদী এলাকা হোক; আমফান থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি-তে জেরবার তৃণমূল। নন্দীগ্রামের উল্টে দেবার ইতিহাস; কি ভুলে গেল তৃণমূল নেতারা ? উঠে গেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ শাসক বদলেছে, বাংলার খেজুরি রয়েছে সেই সন্ত্রাসের মধ্যেই

জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের জেরে; রক্তাক্ত হয়েছিল নন্দীগ্রাম। আন্দলনের আর এক নাম হয়ে উঠেছিল এই নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রামে সেই ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ আন্দোলনের দিনে; পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছিল ১৪ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে। এই আন্দোলনকে অস্ত্র করে সেদিন; পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল গোটা বাংলা; রেশ ছড়িয়ে গিয়েছিল গোটা ভারতে। বনধ, হরতাল আর মিছিল-মিটিংয়ে; জেরবার হয়েছিল গোটা রাজ্য। নন্দীগ্রামে একটি রসায়ন শিল্পাঞ্চল গড়ার জন্য; তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করলে; বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন; তৎকালীন বিরোধী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেই নন্দীগ্রামে একের পর এক দুর্নীতি-তে; জেরবার রাজ্য সরকার তথা শাসক তৃণমূল। এবার আন্দোলন গড়ে তুলছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য সরকারের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পুড়িয়ে; বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। যোগ দিলেন সাধারণ মানুষও। ঘটনাটি ঘটেছে সেই নন্দীগ্রামে। তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন; তৃণমূল নেতারা। ‘বিজেপির চক্রান্ত’; বলেছেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ আমফান দুর্নীতি তদন্তে তৃণমূলের টাস্ক ফোর্সে রয়েছে অভিযুক্তই

রেশন দুর্নীতি ও আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিলি নিয়ে; ব্যপক বেনিয়ম ও দলবাজির অভিযোগে তুলে আন্দোলনে নেমেছে বিজেপি। বিজেপি কর্মী সর্মথকরা দুর্নীতির প্রতিবাদে; নন্দীগ্রামের আমদাবাদ ১ ও ২ সেতুর সংযোগ স্থলে; রাস্তায় কাঠের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। ঠিক সেই টালমাটাল সময়ের মতই। তবে এবার লড়াইটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে; বা বলা যায় মমতার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুনঃ বেসরকারি বাস নেই, সরকারি বাসে করোনা বিপদেও ভিড়ে চিড়ে চ্যাপ্টা মানুষ

নন্দীগ্রামের আমদাবাদ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সুবদী এলাকায়; বেশ কিছু রেশন গ্রাহক অভিযোগ করছেন, তাদের রেশন কার্ড রয়েছে; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোন রেশন পাচ্ছেন না। করোনা বিপদেও রেশন পান নি; বলেই অভিযোগ। রেশন দোকানীর সঙ্গে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও তৃণমূল নেতা সঞ্জয় দিন্ডা; তিন বছর ধরে রেশন সামগ্রী আত্মসাৎ করেছে; এমনটাই রয়েছে অভিযোগ। অভিযুক্ত রেশন ডিলার ও তৃণমূল নেতার শাস্তির দাবিতে; পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। তাতে যোগ দেন কিছু স্থানীয় মানুষও।

নন্দীগ্রাম দু’নম্বর ব্লকের আমদাবাদের; বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে; আমফান ত্রানে ব্যপক কারচুপির অভিযোগ। অভিযোগ টাকা পেয়েছেন; তৃণমূল নেতাদের আত্মীয়স্বজন ও তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। বিজেপি তমলুকের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক প্রলয় পাল বলেন; ‘‘নন্দীগ্রামে পরিবর্তন এর নামে; লুটেপুটে খাওয়ার পরিবর্তন ঘটিয়েছে; তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা। তারই নিদর্শন এই রেশন দুর্নীতি ও আমফান দুর্নীতি। কোন সুব্যাবস্থা না হলে; আগামী দিনে বড় আন্দোলনে নামব’’।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন