Ladakh Exclusive: চিনের বিরুদ্ধে তিব্বতিদের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

6610
The News বাংলা Exclusive: চিনের বিরুদ্ধে তিব্বতিদের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
The News বাংলা Exclusive: চিনের বিরুদ্ধে তিব্বতিদের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

মানব গুহ, The News বাংলা Exclusive: চিনের বিরুদ্ধে তিব্বতিদের প্রতিশোধ নেবার সুযোগ; করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লাদাখে চিনের লাল ফৌজকে জব্দ করে; তাদের দখলে থাকা ভারতের জমি দখলের দায়িত্বে এখন; স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (Special Frontier Force) এর সদস্যরা। চিন যাদের ডাকনাম দিয়েছে; ’22 Establishment’। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি; সত্যিকার অর্থেই এদের ভয়ঙ্কর- রহস্যময় সেনা বলে মনে করে। আর এদের অধিকাংশই তিব্বত ব্যাকগ্রাউণ্ড থেকে। যে তিব্বত জোর করে দখল করে নিয়েছে চিন। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিব্বতিদের ধর্মগুরু; দলাই লামা। সেই তিব্বতিদের এবার নতুন করে; তিব্বতের জন্য দাবি তোলার সুযোগ করে দিল; ভারত সরকার।

চিনের বিরুদ্ধে লাদাখে লড়ছে এই গোপন রাখা, চিন বিরোধী বাহিনী। যারা ‘বিকাশী’ (Vikasi) নামে পরিচিত। এই বাহিনীতে ১০ হাজার জন সৈন্য রয়েছে; এদের মধ্যে বেশিরভাগ তিব্বত পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা। আর যারা সবাই তাদের ধর্মগুরু; দালাই লামার প্রতি অত্যন্ত অনুগত। গত ৫৮ বছর ধরে, তাঁরা তাঁদের বৌদ্ধভূমি তিব্বতের জন্য লড়াই করার অপেক্ষায় রয়েছেন। যা এখন অবৈধ চিনা দখলের অধীনে রয়েছে এবং এখন প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁদের সেই লড়ার জায়গা করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা না সরালে আলোচনায় লাভ নেই, মস্কোয় বিদেশমন্ত্রী বৈঠকে চিনকে জানিয়ে দিল ভারত

স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এর এই সেনারাই এখন; চিনের দখলে থাকা ভারতের জমি উদ্ধার করছে; যা ভারতের ইতিহাসে আগে কখনই হয় নি। লাদাখের প্যাংগং হ্রদের চারপাশের উঁচু পাহাড়চূড়ো; এখন স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স দখলে। প্যাংগং হ্রদের চারপাশে উঁচু পাহাড়চূড়ো গুলো বরাবর চিন দখলে ছিল। সেইগুলি এখন ভারতীয় সেনার দখলে। আর তার জেরে চিনা ফৌজের সব গতিবিধি; এখন ভারতের নজরে। সেনা সূত্রের খবর, অগাস্টের শেষ থেকেই; প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণের শৃঙ্গগুলির দখল অভিযান; শুরু করেছিল ভারতীয় সেনা। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তা সম্পূর্ণ হয়। আর যেটা করেছে; এই চিন বিরোধী ‘বিকাশী’ সেনা। চিনের কাছে এটা একটা বড় ধাক্কা।

এসএফএফ জওয়ানদের এই রিপোর্টগুলি; তিব্বতে চিনের বিরুদ্ধে ফের জোয়ার এনে দিয়েছে। লাল ফৌজের সৈন্যরা বেশ কিছুটা সমস্যায় পড়েছে; কারণ প্রতিটি ‘তিব্বতি বিকাশই’ একজন যোগ্য প্যারাট্রুপার। প্রতিটি স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এর সেনা; এক একজন পর্বত-গেরিলা যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী সৈন্য। ভারতীয় সেনার আধিকারিকরা এদের নিয়ে বলেন; “তারা যে কোনও পরিস্থিতিতে; বেঁচে থাকতে পারে। মাইনাস ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও; পাহাড়ের মাথায়, এরা সহজ সরল স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে”।

এই চক্রাট ভিত্তিক স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (The Chakrata-based SFF); ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর আন্ডারে থাকা; ডাইরেক্টর জেনারেল অফ সিকিউরিটির একটি শাখা। তিব্বত থেকে ভারতে আসা যুবকদের নিয়ে তৈরি এই; চক্রাট ভিত্তিক স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। যেকোন কমব্যাট অপারেশন করাটা; এদের কাছে খুব সহজ একটা কাজ। যাদের সঙ্গে আছে, ভারতীয় বায়ুসেনার সাপোর্ট। ডাইরেক্টর জেনারেল অফ সিকিউরিটির আরেকটি শাখা; আভিয়েশন রিসার্চ সেন্টার এদের সাহায্য করছে। পূর্ব লাদাখে, লাল ফৌজের লুকনো সেনসর ক্যামেরায় ধরা না দিয়ে; এরা একের পর চিনা ঘাঁটি দখল করে নিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ চিনের ভাষাতেই জবাব দিচ্ছে দেশ, প্যাংগং হ্রদের চারপাশে উঁচু পাহাড়চূড়ো এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর দখলে

বদলে গেছে ভারত। দেশের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হলেও; মোদী সরকারের হাতে, ভারতীয় সেনা এখন; সব লাল ফিতের ফাঁস থেকে মুক্ত। চিন ও আন্তর্জাতিক মহল কি ভাবল; এখন তার পরোয়া করে না ভারত। স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স কে; লাদাখে মোতায়েন ভারতীয় সেনার বদলে যাওয়া রূপের একটা ছোট্ট উদাহরণ। তাই 22 Establishment বা The Chakrata-based SFF কে দিয়ে; প্যাংগং লেকের চারপাশের সব উঁচু পাহাড় দখলে নিয়েছে ভারত। সীমান্তে ভারতের এই আগ্রাসী মনোভাব; আগে কোনদিন দেখা যায় নি। তাই, কোনরকম প্রস্তুত ছিল না বেজিং।

চিনের বিরোধীতা করে, তিব্বত ও দালাই লামাকে নয়াদিল্লির সমর্থন সবসময় ছিল। কিন্তু ২০১৬ থেকে সেই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হতে থাকে; তিব্বতিদের নিয়ে স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। বর্তমানে শুধু লাদাখ বা প্যাংগং লেক এলাকা, হাতছাড়া হওয়া নিয়ে ভাবছে না বেজিং। তারাও বুঝেছে, এই সুযোগে তিব্বতের স্বাধীনতা নিয়ে ফের একবার; প্রতিবাদের ঝড় উঠতে চলেছে। নেপাল, পাকিস্তানকে কাজে লাগিয়ে; ভারতকে ব্যতিব্যস্ত রাখার পরিকল্পনা করেছিল চিন। এবার তিব্বতিদের কাজে লাগিয়ে; সেই একই কাজ শুরু করেছে মোদী সরকার। তালিকায় আছে তাইওয়ান এর নামও।

এর থেকেও ভয়ঙ্কর খবর; অপেক্ষা করে আছে চিনের জন্য। চিন যদি পূর্ব লাদাখে স্থিতাবস্থায় ফিরে না যায়; তাহলে তিব্বত নিয়েও চিনকে সেই অবস্থা করা হবে; যেটা পাকিস্তানকে করা হয়েছিল, পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশ নিয়ে। তিব্বত একটি স্বাধীন বৌদ্ধ দেশ; যা দখল করে রেখেছে চিন। ১৯৫০-এর পূর্ববর্তী যুগের সেই পরিস্থিতিতে; তিব্বতিদের ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা শুরু করেছে ভারত। স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এর তিব্বতি সেনারা; শুধু লাদাখে লড়ছে না। বাংলাদেশকে মুক্ত করতে যেমন মুক্তিবাহিনীকে বাড়তে সাহায্য করেছিল, ইন্দিরা গান্ধীর ভারত; তেমনি চিনা দখল থেকে মুক্ত করতে; তিব্বতিদের সাহায্য করছে ভারতীয় সেনার এই তিব্বতি কম্যান্ডরাই।

আরও পড়ুনঃ বেইমানি করেছে চিন, ফিংগার পয়েন্টে বিপুল সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে জবাব দিচ্ছে ভারত

প্রধানমন্ত্রী মোদী তিব্বতীদের ‘কাব্যিক ন্যায়বিচার’ (Poetic Justice) দিচ্ছেন। এসএফএফের ‘বিকাশী সেনা’ ভুলে যায় নি যে; ১৯৫১ সালে তিব্বতের একটি প্রতিনিধি দল; দালাই লামার অনুমোদন ছাড়াই বৌদ্ধ জাতিকে; চিনের অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়েছিল। তাঁরা ভোলে নি, কিভাবে ১৯৫৯ সালে মাও সেতুংয়ের পিএলএ বাহিনী; তিব্বতের পোটালা প্যালেসে বোমা ফেলে ধ্বংস করে। তখন কীভাবে দালাই লামাকে অপমান করা হয়েছিল; তা তিব্বতীয় যোদ্ধারা আজও ভুলে যাননি। এবং অবশ্যই, তিব্বতিরা হাজার হাজার সন্ন্যাসীকে ভুলে যায় নি; যাদের চিন সেনা খুন করেছিল।

আর লাদাখে চিনের বিরুদ্ধে লড়তে; প্রথম সারিতে এই তিব্বতীদের পাঠিয়ে; ভারত আবার তাঁদের সেই পুরনো ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। দলাই লামার সেনারা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইশারা বুঝে; তিব্বতকে স্বাধীন করার লড়াই আবার শুরু করতে পারে কিনা; সেটাই এখন দেখার। তবে, ইতিমধ্যেই ভারতের রণনীতির ইতিহাসে; নিজেদের ছাপ ফেলতে শুরু করেছে; 22 Establishment বা The Chakrata-based SFF বা স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন