মোদী সরকার আড়ি পেতেছে রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের ফোনেও

2102
মোদী সরকার আড়ি পেতেছে রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের ফোনেও
মোদী সরকার আড়ি পেতেছে রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের ফোনেও

নরেন্দ্র মোদী সরকার আড়ি পেতেছে; রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের ফোনেও? উঠে এল এমন অভিযোগও; যদিও বিজেপির তরফ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ মাসের ব্যবধানে; ফের শিরোনামে ‘পেগাসাস’। ইসরাইলি সংস্থার তৈরি এই বিশেষ প্রযুক্তি বা স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে; ভারতের তিন শতাধিক ভেরিফায়েড ফোন নম্বরে; আড়ি পাতা হয়েছে বলে দাবি করল, ‘দ্য ওয়্যার’ সহ বেশ কয়েকটি বিদেশি সংবাদমাধ্যম। নজরদারির তালিকায় রয়েছেন ভারতের বহু মন্ত্রী; বিরোধী নেতা; সাংবাদিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী; সরকারি আমলা; বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্য হিন্দুস্তান টাইমস; ইন্ডিয়া টুডে; নেটওয়ার্ক ১৮; দ্য হিন্দু এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-সহ বেশ কিছু বড় সাংবাদমাধ্যমের; শীর্ষস্তরের সাংবাদিকদের ফোন ট্যাপ করা হয়েছে। পেগাসাসের মাধ্যমে আড়ি পেতেছিল; এক অজ্ঞাত সংস্থা। ফরেন্সিক পরীক্ষায় ফোনে আড়ি পাতার বিষয়টি; প্রমাণিত বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে; নম্বরগুলোকে নিশানা করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট পর্যন্ত চলে; ওই ট্যাপিং পর্ব।

আরও পড়ুনঃ শুধু বাংলায় নয়, মোদী ও যোগী গড়েও এবার মমতার ২১ শে জুলাই ভাষণ

সমাজের কিছু বাছাই করা ব্যক্তির উপর; চরবৃত্তি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তাল গোটা ভারত। এরপরই মোদী সরকার নাগরিকের মৌলিক অধিকারে; হস্তক্ষেপ করছে বলে প্রশ্ন উঠে গেছে। তাহলে কি সরকারের বিরুদ্ধে মত পোষণ করা সাংবাদিক; সমাজকর্মী, আমলা-মন্ত্রীদের বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে? রবিবার বোমাটি ফাটান; বিজেপির রাজ্যসভার এমপি সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।

ট্যুইটারে তিনি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদী সরকারের মন্ত্রী; আরএসএস নেতা এমনকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ফোনেও; আড়ি পাততেও পেগাসাস-কে ব্যবহার করা হয়েছে। খবরে প্রকাশ, আড়ি পাতার তালিকায় নাম রয়েছে; ৪০ জনেরও বেশি নামকরা সাংবাদিকের। এছাড়া তিনজন বিরোধী নেতা; মোদি মন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রী। দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বর্তমান; ও প্রাক্তন প্রধান এবং বহু ব্যবসায়ী।

আরও পড়ুনঃ ‘বিদেশি নাগরিক’ দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তদন্ত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি

যদিও রবিবারের পরে সোমবারেও হ্যাকিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে; মোদী সরকার দাবি করেছে, ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে; তার কোনো ভিত্তি নেই। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে; খবরের শিরোনামে আসে পেগাসাস। সেখানে বলা হয়, সারা পৃথিবীর প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের ফোনে; আড়িপাতা হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন কূটনীতিক, নেতা; সাংবাদিক ও সরকারি আধিকারিকরা। সেই সময়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছিলেন; কেন্দ্রীয় সরকার পেগাসাসের কোন অনৈতিক ব্যবহার করেনি। এবারেও কেন্দ্র সরকার; এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন