মহাত্মা গান্ধীকে কেন হ’ত্যা করেছিলেন নাথুরাম গডসে

1946
মহাত্মা গান্ধীকে কেন হ'ত্যা করেছিলেন নাথুরাম গডসে
মহাত্মা গান্ধীকে কেন হ'ত্যা করেছিলেন নাথুরাম গডসে

১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি; নাথুরাম গডসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে; গুলি করে হত্যা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধীকে। গান্ধীকে হ’ত্যা করার পর সেখান থেকে; পালানোর চেষ্টাও করেনি গডসে। কারণ তিনি চেয়েছিলেন, তার এই জঘন্যতম হ’ত্যা করার কারণ; যাতে দেশবাসী জানতে পারে। আদালতে বিচার চলার সময়, গান্ধীকে হত্যা করার পেছনে; একটা দুটো না; মোট ১৫০টা কারণ জানিয়েছিল গডসে। তবে সেই সময়কার কংগ্রেস সরকার; সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি। কিন্তু নাথুরামের দাদা গোপাল গডসের; দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তা প্রকাশ পায়।

গান্ধীকে কেন হ’ত্যা করেছিলেন নাথুরাম গডসে? তবে এত কারণ এখানে লেখা সম্ভব নয়। তাই উল্লেখযোগ্য ১০টি কারণ এখানে তুলে ধরা হল;

১) ১৯১৯ সালে জালিওয়ানওয়ালাবাগের গণ-হ’ত্যাকারী; জেনেরাল ডায়ারের শাস্তি চেয়েছিল গোটা দেশ; কিন্তু গান্ধী সেই দাবী খারিজ করেন।
২) ভারতবাসী চেয়েছিল যে বিপ্লবী ভগত সিং; সুখদেব এবং রাজগুরুর ফাঁ’সি আটকাতে; গান্ধী হস্তক্ষেপ করুক। কিন্তু তিনি তা করেননি। গান্ধী বলেন যে এরা পথভ্রষ্ট বিপ্লবী; আর এদের পথ স’ন্ত্রাসের; তাই তাদের ফাঁ’সি তিনি আটকাবেন না।

আরও পড়ুনঃ বাঙালি বিজ্ঞানী, ইংরেজ আমলে পাননি নোবেল, স্বাধীন ভারতে সম্মান জোটেনি বাংলায়

৩) ১৯৪৬ সালের ৬ই মে; যখন দেশের নানা প্রান্তে সা’ম্প্রদায়িক দা’ঙ্গা হচ্ছে; তখন গান্ধী হিন্দুদের উদেশ্যে বলেন; তারা যেন মুসলিম লিগের লোকেদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে। সেই সময় কেরালায় প্রায় ১৫০০ হিন্দুকে; হ’ত্যা করে মু’সলিম লিগের লোকেরা; এবং আরও ২০০০ হিন্দুকে জোর করে ইসলাম গ্রহণ করানো হয়।

৪) গান্ধী কাশ্মীদের রাজা হরি সিংকে কাশ্মীর ছেড়ে; হরিদ্বারে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন; কারণ কাশ্মীরে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ট ছিল।
৫) বিভিন্ন সময় তিনি ভারতের মহান যোদ্ধা শিবাজি মহারাজ; রাণা প্রতাপ এবং গুরু গোবিন্দ সিংকে; পথভ্রষ্ট ভারতীয় বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বে প্রথম মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন এক বাঙালি নারী

৬) ত্রিপুরা কংগ্রেস অধিবেশনে, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বিপুল ভোটে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন; কিন্তু গান্ধী নিজের ক্ষমতার জোরে নিজের অনুগত; পট্টভি সিতারামাইয়াকে সভাপতি বানান এবং নেতাজীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন।
৭) ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট কংগ্রেস ঠিক করে; তারা ভারত বিভাজনের বিরোধীতা করবে। কিন্তু গান্ধী সেই সভায় একদম শেষ মুহূর্তে পৌঁছান; এবং দেশভাগের সমর্থন করেন। এর আগে গান্ধী নিজেই বলেছিলেন; দেশভাগ তার লা’শের ওপর দিয়ে হবে।

৮) ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পর; সর্দার পাটেল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন; কিন্তু গান্ধীর নির্দেশে নেহেরুকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়।
৯) সরকার গড়ার পর নেহেরু সিদ্ধান্ত নেন; ভারত সরকার সোমনাথ মন্দির আবার নির্মান করবে; কিন্তু সরকারে না থাকা স্বত্বেও গান্ধী সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করান। কিন্তু ঠিক একই সময় ১৮৪৮ সালের ১৩ই জানুয়ারি; তিনি দিল্লীর মসজিদ সরকারি টাকায় নির্মানের জন্য তিনি অনশনে বসেন; এবং নিজের দাবী মানিয়েই ছাড়েন।

১০) ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তান কাশ্মীরে হা’মলা করলে; গান্ধী আবার ভারত সরকারের বিরুদ্ধেই অনশনে বসেন; এবং ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়। গান্ধী ভারতের মুসলিমদের খুশি করতে; হিন্দুদের নানা ভাবে প্রতারিত করতেন।

অবশেষে নাথুরাম গডসে এবং তার সঙ্গে নারায়ণ আপ্তেকে; ১৯৪৯ সালের ১৫ই নভেম্বর পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে ফাঁ’সি দেওয়া হয়।

বিঃদ্রঃ ওপরের সকল মন্তব্য নাথুরাম গডসে আদালতে করেছিলেন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন