চিনের পরামর্শে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করছে নেপালের কমিউনিস্ট সরকার

3352
চিনের পরামর্শে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করছে নেপালের কমিউনিস্ট সরকার
চিনের পরামর্শে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করছে নেপালের কমিউনিস্ট সরকার

চিনের পরামর্শে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করছে; নেপালের কমিউনিস্ট সরকার। নেপালের সঙ্গে ভারতের এমনিতেই ভাল সম্পর্ক। তবে এখন তাদের কমিউনিস্ট সরকার খোলাখুলি ভাবেই; চিনের দিকে ঝুঁকেছে এবং ভারতের প্রতি শত্রুতার মনোভাব দেখাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেও; নেপালের প্রধানমন্ত্রী খড়্গপ্রসাদ শর্মা ওলি এখন; চিনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। নেপালের কমিউনিস্ট সরকার এর আমলে; নতুন করে সীমান্ত সমস্যা; মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দুই দেশের মধ্যে। ভারতের তিনটি জায়গা নিজেদের বলে দাবি করে; নয়া ম্যাপ আনছে নেপাল। আর এবার, নেপাল পুলিশের গুলিতে মৃত এক ভারতীয়।

নিজের ছেলের বউয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে; নেপাল সীমান্তে আটক হলেন এক ব্যক্তি। তাঁকে ছাড়াতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা গেলেন; এক ভারতীয় ও আহত চার। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল বিহারের সীতামারহি জেলা। নেপালের Armed Police Force (APF) এর গুলিতে; প্রাণ হারালেন এক নিরীহ ভারতীয়। নেপালের সারলাহি জেলায়; গুলি চলানোর ঘটনা হয়। গুলিতে মারা গিয়েছেন ২৫ বছরের বিকেশ কুমার রাই। বুলেটে আহত হয়েছেন; দুই তরুণ উমেশ রাম ও উদয় ঠাকুর। আরেক আহত ব্যক্তি লগন যাদবকে; নেপালি পুলিশ আটক করেছে।

আরও পড়ুনঃ আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় প্রতিবাদ, আসামে ঋতুপর্ণা পেগু খুনে চুপ কেন

আসলে নেপালে কমিউনিস্ট দল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই; শুরু হয়েছে এই সমস্যা। গতবছরেই, পুনেতে প্রথমবার দুই দেশের মধ্যে হতে চলা; জঙ্গি-দমন মহড়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল নেপাল। তাতে যোগ দেওয়ার বদলে তারা ভারতের উপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে; চিনের সঙ্গে তাদের দেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহণ সংক্রান্ত চুক্তি (টিটিএ) করে ফেলে।

চিনের মদতেই, ওলির মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট পার্টি ও মাওবাদী গোষ্ঠী যুক্ত হয়ে; নেপালে এক নতুন কমিউনিস্ট পার্টির জন্ম হয়; তার নাম হয় নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি)। ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই; নেপালের দুটি প্রধান কমিউনিস্ট গোষ্ঠী মিশে যায়। বেজিংই এই নতুন দলের জন্মের নেপথ্যে ছিল; এবং এই দল তৈরি হওয়ার পরে তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করে তারা। তারা বলে, “যা স্বাভাবিক বাস্তব ও তাদের পক্ষে উপযুক্ত; নেপালের সেই সামাজিক পদ্ধতি; বেছে নেওয়াকে চিন সমর্থন করে”। নেপালের অভ্যন্তরীণ এই রদবদল; তখন থেকেই ভারতের নিরাপত্তাকে সরাসরি বিঘ্নিত করছে।

আরও পড়ুনঃ করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু আসলাম কিসিং পীরবাবার, ভক্তরা ছুটলেন হাসপাতালে

বিমস্টেক সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে; ক্ষমতায় আসার চার বছরে চারবার; নেপালে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর মত অন্য কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী; নেপালকে এতটা গুরুত্ব দেননি। ঘটনা হল, ১৭ বছর পরে মোদীই প্রথম; ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নেপালে গেলেন। কিন্তু ভারত চাইলেও; নেপাল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আর ভাল রাখতে চায় না।

আর তাই সেবার, মোদী নেপাল থেকে ভারতে ফিরতে না ফিরতেই; নেপাল-চিন ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট এগ্রিমেন্ট (টিটিএ) সই করে ফেলে নেপালের ওলি সরকার। এই চুক্তি অনুযায়ী চিনের শেনঝেন, লিয়ান্যুনগ্যাং, ঝ্যানজিয়াং এবং তিয়ানজিংয়ের মাধ্যমে; তৃতীয় কোনও দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে নেপাল। এ ছাড়াও শিগাৎসে, লাসা ও লানঝৌ স্থলবন্দরও; তারা ব্যবহার করতে পারবে। কলকাতা থেকে দূরত্ব যেখানে ৯৩৩ কিলোমিটার; সেখানে নেপাল থেকে চিনের নিকটতম সমুদ্রবন্দরের দূরত্ব ৩,৩০০ কিলোমিটার। তাও লাল চিনের সঙ্গে চুক্তি করে; নিজের পায়ে কুড়ুল মারে নেপাল।

আরও পড়ুনঃ বাংলার প্রথম মহিলা জঙ্গি তানিয়া পারভিনকে, নিজেদের হেফাজতে নিল NIA

ভারতের স্বাভাবিক ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা; এবং পরিবহণগত সুবিধা না নিতে চেয়ে; দেশের সমস্যাই ডেকে আনছে ওলি সরকার। এবার শুরু হয়েছে ভারতের সঙ্গে সরাসরি ঝামেলা। অবশ্য নেপালের অধিকাংশ মানুষই; ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ চান না। কিন্তু তাতে কান দিচ্ছে না; নেপালের কমিউনিস্ট সরকার।

বিশ্বের সবেচেয়ে খোলামেলা সীমান্ত যে সব জায়গায় রয়েছে; ভারত ও নেপাল সীমান্ত তাদের অন্যতম। এই সীমান্তে কোনও পাসপোর্ট লাগে না। কিন্তু চিন যে ভাবে নেপালের মধ্যে ঢুকে পড়ছে; তাতে ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নেপালে ক্ষমতায় থাকা কমিউনিস্টদের হালকা ভাবে না নিয়ে; ভারতের উচিৎ দেশের স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর হিসাবেই তাদের দেখা; বলছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন