বেড নেই সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে, মুখ্যমন্ত্রী মমতার কথায় করোনাকে লকডাউন করে ঠাকুর দেখতে মানুষের ঢল

3979
বেড নেই সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে, মুখ্যমন্ত্রী মমতার কথায় করোনাকে লকডাউন করে ঠাকুর দেখতে মানুষের ঢল
বেড নেই সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে, মুখ্যমন্ত্রী মমতার কথায় করোনাকে লকডাউন করে ঠাকুর দেখতে মানুষের ঢল

বেড নেই সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে; তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতার কথায়, করোনাকে লকডাউন করে; দ্বিতীয়া থেকেই কলকাতার রাস্তায় ঠাকুর দেখতে মানুষের ঢল। কলকাতায় উত্তরের শ্রীভূমি থেকে দক্ষিণে; দ্বিতীয়া থেকেই কোথাও কোথাও ভিড় উপচে পড়ছে। রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর শ্রী ভূমি পুজোতে; মায়ের গায়ের ২৫ কেজি সোনার গয়না দেখতে ভিড় করছেন হাজার হাজার মানুষ। সোশ্যাল ডিসট্যান্স শিকেয় তুলে, মানুষের ভিড়; আতঙ্কিত করেছে চিকিৎসক মহলকে। তবে, তাতে হুঁশ নেই মানুষের। রীতিমত বাচ্চা বুড়ো নিয়েও; মণ্ডপে ভিড় করেছেন অনেকেই।

আরও পড়ুনঃ বাংলার বাড়ছে করোনা পজিটিভ রেট, ঘুম উড়েছে স্বাস্থ্য কর্তাদের, পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

রবিবারও ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমিতের সংখ্যা; প্রায় ৪ হাজার। এ দিন ফের রাজ্যে; সর্বাধিক মৃত্যুর রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এই পরিস্থিতি চললে; উৎসবের ভিড়ে সংক্রমণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে; তাই নিয়ে ক্রমেই কপালের ভাঁজ চওড়া হচ্ছে; পুলিশ-প্রশাসন থেকে চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞদের। রবিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী; রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে; করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯৮৩ জন।

দৈনিক নতুন সংক্রমণের নিরিখে; এটাই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। শনিবার এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৬৫। রবিবার পর্যন্ত রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল; ২ লক্ষ ৮১ হাজার ৫৩। রবিবারের বুলেটিনে, ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন; উত্তর ২৪ পরগনায় ৮৩৮ জন। কলকাতায় নতুন সংক্রমণ ৮১৩। স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী; রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৪ জনের।

আরও পড়ুনঃ পুজো হলেও উৎসব বাদ, মমতার বাংলাকে ‘শিক্ষা দিল’ হাসিনার বাংলা

পুজো হলেও উৎসব বাদ, মমতার বাংলাকে 'শিক্ষা দিল' হাসিনার বাংলা/The News বাংলা
পুজো হলেও উৎসব বাদ, মমতার বাংলাকে ‘শিক্ষা দিল’ হাসিনার বাংলা/The News বাংলা

সমান তালে উদ্বেগ বাড়িয়েছে; ‘পজিটিভিটি রেট’ বা সংক্রমণের হার। দীর্ঘদিন ধরে সংক্রমণের হার ৮ এর ঘরে থাকার পর; রবিবার তা পৌঁছে গিয়েছে ৯.১৫ শতাংশে। শনিবার এই হার ছিল ৮.৯০ শতাংশ এবং শুক্রবার ছিল ৮.৭২ শতাংশ। পুজোর পরে করোনা পরিস্থিতি, উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে বলে; চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ বারবার সতর্ক করছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে চিঠিও দিয়েছেন। হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিতে বেডের আকাল; হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

এমনিতে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই; হাসপাতাল-নার্সিংহোমে বেড মিলছে না বলে; ভুরি ভুরি অভিযোগ ছিল। সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে; মারা গেছে বেশ কিছু আক্রান্ত। বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও; ইতিমধ্যেই ঠাসাঠাসি অবস্থা। হাতে টাকা নিয়ে ঘুরলেও; বেড পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। বিশেষ করে, কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনার; কোভিড হাসপাতালগুলিতেও কার্যত ঠাঁই নেই-ঠাঁই নেই রব উঠেছে।

পুজোর ভিড় করোনা আবহে কী বিপদ ডেকে আনবে; তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় স্বাস্থ্যকর্তারা। তবে তাতে কোন হুঁশ নেই আমজনতার। মুখ্যমন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন; করোনাকে লকডাউন করে রাস্তায় নেমে ঠাকুর দেখুন। আর ঠিক সেটাই করছেন মানুষ।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন