কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আটকাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

4434
কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আটকাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আটকাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

রাজ্যের সহযোগিতা পাচ্ছি না; পরিষ্কার জানিয়ে দিল; কেন্দ্র থেকে রাজ্যে আসা করোনা বিষয়ক প্রতিনিধি দল। কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আটকাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা? উঠে গেল প্রশ্ন। রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় লকডাউন মানা হচ্ছে না; এই অভিযোগ পাবার পর; কেন্দ্র থেকে দুটি করোনা এক্সপার্ট টিম এসেছে রাজ্যে। লকডাউনের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে; লকডাউন ভাঙা ও বিভিন্ন বিধিভঙ্গের অভিযোগ উঠছিল। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় পরিদর্শনে এসেছে দুটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। আর এই নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে; কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের পরিস্থিতি।

কেন্দ্র থেকে এদিন পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়; পশ্চিমবঙ্গে যাওয়া প্রতিনিধি দল; রাজ্য সরকারের সাহায্য পাচ্ছেন না। মুখ্যসচিব সোমবারই বলেছেন; আসার কারণ স্পষ্ট না করলে রাজ্যে তাদের ঘুরতে দেব না। মঙ্গলবার ফের করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে; রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। সোমবার বিকেলেও নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে; কেন্দ্রীয় দলের এক দফা বৈঠক হয়। মঙ্গলবার দুপুরে গুরুসদয় দত্ত রোডে; বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ কার্যালয়ে যান মুখ্যসচিব। সেখানেই রয়েছেন এই পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় দল। সূত্রের খবর, সেখানে মুখ্যসচিবের সঙ্গে কেন্দ্রীয় দলের বৈঠক হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় দলটি; বিএসএফের অতিথিশালা থেকে বেরিয়ে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে যায়। সেখান কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে; ফের তারা বিএসএফ অতিথিশালায় ফিরে আসে। তার পরে ওই সদস্যদের সঙ্গে; সেখানে দেখা করতে যান কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতা) দেবস্মিতা দাস-সহ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক। তাঁরা কিছু সময় পরেই; সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

তাঁরা চলে গেলে কেন্দ্রীয় দলের নেতৃত্বে থাকা; প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্র জানান; সোমবার তাঁরা বিমানবন্দরে নেমে নাইসেড; এবং নবান্ন ছাড়া কোথাও যাননি। নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে; তাঁদের কথা হয়। কোন কোন জায়গায় যাবেন; তাঁদের সফরের কী পরিকল্পনা তা নিয়ে সবিস্তারে; জানানো হয় মুখ্যসচিবকে। এ বিষয়ে রাজ্যের সহযোগিতাও চাওয়া হয়। অপূর্ব আরও জানান; এ দিন বেরোতে গেলে তাঁদের জানানো হয়; লকডাউন চলছে। তাঁরা যেন না বেরোন। যদিও, নবান্নের তরফে; কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি এ বিষয়ে।

অপূর্ব চন্দ্রের অভিযোগ; অন্যান্য রাজ্যে যে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গিয়েছে; তারা রাজ্য সরকারের সব রকম সহযোগিতা পাচ্ছে। তিনি বলেন; “পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন সহযোগিতা করছে না; তা আমি বুঝতে পারছি না। সে কারণে আমরা রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে; যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি এসেছিলেন”।

কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল; রাজ্যে পৌঁছনোর সময়েই; সোমবার নবান্নে মুখ্যসচিব বলেছিলেন; “কেন্দ্রীয় দলটি কেন এসেছে; সেটা স্পষ্ট নয়। আগে থেকে আমাদের কোনও কিছু জানানো হয়নি। ফোন করে তাদের আসার কথা জানানোর ১৫ মিনিট পরেই শুনি; দলটি কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে। যতক্ষণ না তারা কী করতে এসেছে সেটা স্পষ্ট হবে; ততক্ষণ তাদের রাজ্যে ঘোরার অনুমতি দেওয়া হবে না”।

দ্বিতীয় দলটি সোমবার বিকেলেই; বাগডোগরা পৌঁছায়। ওই দলের সদস্যেরা শিলিগুড়িতে; এসএসবি-র গেস্ট হাউসে রয়েছেন। এ দিন সকালে থেকে; তাঁরা কোথাও বেরোননি। এই ইস্যুতে কেন্দ্র এবং রাজ্যের সংঘাত চরমে। আচমকা রাজ্যে পৌঁছনো দুটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল নিয়ে; সোমবার থেকেই চলছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

‘প্রোটোকল’ মেনে রাজ্যের সাহায্য না নিয়ে; কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিদর্শকরা; এলাকা পরিদর্শন করেন বলেও অভিযোগ। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই মর্মে চিঠিও দিয়েছেন; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার এই রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতের মাঝে; ফের টুইট রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের। সংঘাত না বাড়িয়ে বাংলার মু্খ্যমন্ত্রীকে; মিলেমিশে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন