ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নই, কাশ্মীর নিয়ে একি বললেন নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন

471
কাশ্মীরে গণতন্ত্র নেই, ইমরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিভাবে মোদীকে তুলধোনা করলেন অমর্ত্য সেন/

ভারতীয় হিসেবে গর্বিত নই; কাশ্মীর নিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন; নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। কাশ্মীরে গণতন্ত্র নেই; পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে; প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তুলধোনা করলেন অমর্ত্য সেন। কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত আর্টিকেল ৩৭০ তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন; “এই সিদ্ধান্ত মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে; এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি”।

কাশ্মীর নিয়ে মোদী সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে; এবার মুখ খুললেন অমর্ত্য সেন। তাঁর কথায়; “এটা সংখ্যাগুরুর শাসন। সাধারণ মানুষের অধিকার বা মানবাধিকারের পুরোপুরি পরিপন্থী”। তাঁর সাফ কথা; “আমার মনে হয় না; গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনও সমাধান করা সম্ভব”।

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় রাজনীতির গুরু মোদী অমিত, বিরোধী নেতারা অন্ধভাবে দুজনের পিছনে

যে ভাবে কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের; বন্দি করে রাখা হয়েছে; তারও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। এক্ষেত্রে সরকারের যুক্তিকে; ‘ঔপনিবেশিক অজুহাত’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। একজন ভারতীয় হিসেবে; তিনি গর্বিত নন বলেও; মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ।

অমর্ত্য সেন বলেন; “এটি হচ্ছে পুরনো উপনিবেশিক মানসিকতার বক্তব্য। অনেকটা ব্রিটিশ শাসনের মত। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যা করা হচ্ছে; তাতে ভারত তার খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছে”। কাশ্মীর নিয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে; অন্য দেশবাসীর কথা শোনা হলেও; কেন কাশ্মীরিদের কথা শোনা হল না? সে প্রশ্নও তুলেছেন অমর্ত্য সেন।

আরও পড়ুনঃ ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায়, ইডির জালে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো

এই অর্থনীতিবিদ বলেন; গোটা বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য; এতো কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে; এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে; ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিলো।

সংসদে ৩৭০ ধারা সংক্রান্ত বিলটি পেশ করেন; কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর আগের রাত থেকেই গৃহবন্দি করে রাখা হয় মেহবুবা-ওমরদের। প্রশাসনের যুক্তি ছিল; তাঁরা অস্থিরতা বাড়াতে পারে (প্রিভেনটিভ ডিটেনশন)। এখনও তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়নি।

নোবেলজয়ীর কথায়; “জনপ্রতিনিধিদের কথা না শুনে কখনও জনতার প্রতি সুবিচার করা সম্ভব নয়। এভাবে গণতন্ত্রের কণ্ঠনালীকেই আটকে দেওয়া হচ্ছে; যার জন্য গণতন্ত্র বেঁচে আছে”। তিনি বলেন; “এটা পাক্কা ঔপনিবেশিক অজুহাত। এভাবেই ২০০ বছর ভারতে রাজ করেছিল ব্রিটিশরা”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন