সিজার নয়, স্বাভাবিক বাচ্চার সংখ্যা বাড়ল, করোনা ধরিয়ে দিল ডাক্তার ও হাসপাতালের লোক ঠকানোর ব্যবসা

3878
সিজার নয়, স্বাভাবিক বাচ্চার সংখ্যা বাড়ল, করোনা ধরিয়ে দিল ডাক্তার ও হাসপাতালের লোক ঠকানোর ব্যবসা
সিজার নয়, স্বাভাবিক বাচ্চার সংখ্যা বাড়ল, করোনা ধরিয়ে দিল ডাক্তার ও হাসপাতালের লোক ঠকানোর ব্যবসা

সিজার নয়, দেশে স্বাভাবিক বাচ্চার সংখ্যা অনেক বাড়ল; এই ৩ মাসে! তাহলে সবটাই কি ডাক্তার ও হাসপাতালের প্রতারণা ছিল ? উঠে গেছে প্রশ্ন। করোনা ধরিয়ে দিল ডাক্তার ও হাসপাতালের লোক ঠকানোর ব্যবসা। সিজারিয়ান প্রসব যেন এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে স্বাভাবিক হারের চেয়ে; কয়েকগুণ বেশি সিজারিয়ান প্রসব হচ্ছে। শহরে সিজারিয়ান বেবির সংখ্যা; জানুয়ারিতেও ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। অস্বাভাবিক এই প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রয়োজনের তাগিদে নাকি মুনাফার লোভে বেড়েছে; মা ও শিশুর জন্য এই প্রসব? তবে করোনা আবার মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে; সেই স্বাভাবিক পদ্ধতিতে।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূল ভাঙার পুরস্কার, মোদী সরকারে মন্ত্রী হতে চলেছেন মুকুল রায়

করোনা ধরিয়ে দিল ডাক্তার ও হাসপাতালের লোক ঠকানোর ব্যবসা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে; যে কোনো দেশে সিজারিয়ান প্রসব মোট প্রসবের ১০-১৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকা উচিত। সেটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে কি অবস্থা ? ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত; পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গেছে; সরকারি হাসপাতালগুলির তুলনায় প্রাইভেট হাসপাতালগুলিতে; সিজারিয়ান অপারেশনের হার তিনগুণ বেশি। প্রাইভেট হাসপাতালগুলিতে এই হার যেখানে ৪৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সরকারি হাসপাতালে সেখানে এই হার মাত্র ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে এটা গোটা দেশ ধরে। যেখানে গ্রামের সংখ্যা অনেক বেশি। রিপোর্ট দেখেই বোঝা যাচ্ছে; শহরাঞ্চলে অবস্থাটা কি।

আরও পড়ুনঃ সব খুলে দিয়ে লকডাউন এর মেয়াদ বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

দুটি রাজ্যের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ২০১৭ সালের হিসাবে; ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাইভেট হাসপাতাল বা নার্সিংহোমগুলিতে; সিজারিয়ান সন্তান প্রসবের হার প্রায় ৭৪ শতাংশ। সরকারি হাসপাতালগুলিতে এই হার ১৮ শতাংশের মতো। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ছবিটা প্রায় একই। ২০১৭ র হিসাবে, প্রাইভেট এবং সরকারি হাসপাতালগুলিতে সিজারিয়ান এবং নর্মাল ডেলিভারির হার যথাক্রমে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ১৮ দশমিক ৮শতাংশ। সবথেকে বেশি সিজারিয়ান হয় তেলেঙ্গানা রাজ্যে; বেসরকারি হাসপাতালে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৪০ দশনিক ৬ শতাংশ। আর সবথেকে কম সিজারিয়ান হয় রাজস্থানে।

সিজার নয়, স্বাভাবিক বাচ্চার সংখ্যা বাড়ল

এই তারতম্যের কারণ কী? কারণটা লুকিয়ে আছে সম্ভবত বাণিজ্যিক স্বার্থে। মেডিক্যাল বিল মোটা করতে। এর ফলে সবথেকে বেশি মার খায় আর্থিক দিক থেকে অসচ্ছল পরিবারগুলো; বিশেষ করে যাদের মেডিক্যাল ইনসিওরেন্স নেই। প্রাইভেট হাসপাতালগুলি যাতে সন্তান প্রসবে অনাবশ্যকভাবে সিজারিয়ান না করে; তার জন্য ক্লিনিক্যাল প্রতিষ্ঠান আইনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে; রাজ্য সরকারগুলিকে বারবার বলেছে; কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

আরও পড়ুনঃ বাজল ভোটের ঢাক, পুজোর আগেই কি বাংলায় পুরভোট

সিজারিয়ান ডেলিভারির সংখ্যা এত বাড়ার কারণ জানতে চাইলে; স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞরা যা বললেন; তার সারমর্ম হলো, আজকাল মায়েরা গর্ভযন্ত্রণা সহ্য করতে রাজি নন। তাঁরা তাড়াতাড়ি ডেলিভারি করানোর জন্য; ডাক্তারদের চাপ দেন। সেজন্য প্রাইভেট হাসপাতালে বেশি টাকা খরচ করতেও; পেছপা হন না অবস্থাপন্নরা। দ্বিতীয় বড় কারণ, আজকাল মহিলারা বেশি বয়সে বিয়ে করেন। ফলে সন্তানধারণ করেনও বেশি বয়সে। তাই কোন রিস্ক না নিয়ে; তাঁরা সিজার করে নেন।

আরও পড়ুনঃ খুলে গেল অফিস, কবে থেকে চলবে লোকাল ট্রেন

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর চাপ থাকে; সিজার করানোর জন্য। কমার্শিয়াল (ব্যবসায়িক) কারণ তো অবশ্যই অস্বীকার করা যায় না। শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপকরা বলেছেন; ‘নরমাল ডেলিভারির বাচ্চার ফুসফুস স্বাভাবিক থাকে। জন্মের পর পর বাচ্চা স্বাভাবিক শ্বাস নেয়। সিজারিয়ান বাচ্চা যেহেতু আগেই ডেলিভারি হচ্ছে; তাই তার ফুসফুস পুরোপুরি গঠন হয় না। সেক্ষেত্রে বাচ্চাটি শ্বাসকষ্ঠে ভুগবে। বড় হয়ে অ্যাজমাজনিত সমস্যায় পড়তে পারে’। বর্তমানে অনেক মাও সিজার চান। বিশেষ করে যুবতী মায়েরা; প্রসব বেদনা সহ্য করতে চান না। তাই তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই সিজার করান। অনেকের ধারণা; সিজার করলে বাচ্চা ও মায়ের জীবনের রিস্ক কম থাকে।

আরও পড়ুনঃ অ্যালকোহলে আপত্তি, বন্ধই থাকল মথুরা বৃন্দাবনের মন্দির

আরেকটা কারণ হচ্ছে, বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে ‘মিডওয়াইফ’ দ্বারা বাচ্চা প্রসব করানো হলেও; আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা কারানো হয় ডাক্তারদের দ্বারা। ডাক্তাররা তাড়াহুড়ার মধ্যে থাকায়; এক্ষেত্রে বেশি সময় দিতে চান না। এ কারণে ডাক্তাররাও অনেক সময়; সিজার করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সিজার করে সন্তান প্রসবের হার; প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নরম‍্যাল প্রসব প্রায় একটি বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর করোনা ঘটিয়ে দিল; সেই বিরল ঘটনা। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে; ভারতে স্বাভাবিক বাচ্চার সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। শুধু গ্রামে নয়, শহরাঞ্চলেও এই তিন মাসে স্বাভাবিক ভাবে হওয়া বাচ্চা জন্মানোর সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গেছে। কারন অবশ্য মানুশের সচেতনতা নয়; করোনার কারণে অপারেশন কম হওয়ার জন্যই এই পরিবর্তন। তবে এই পরিবর্তনের সংখ্যাটা কত? সেটাই এখন সমীক্ষা করে দেখছে; কেন্দ্র স্বাস্থ্য দফতর।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন