ভ্যালেন্টাইন নয়, পুলওয়ামার কালো দিন হাওড়ার বাবলুর পরিবারে

944
পুলওয়ামার বছরপূর্তী, বাবলুর পরিবারে কষ্টের স্মৃতি/The News বাংলা

ভ্যালেন্টাইন নয়, পুলওয়ামার কালো দিন হাওড়ার বাবলুর পরিবারে । ১৪ ই ফেব্রুয়ারি; ২০১৯ প্রেম দিবসের দিনেই রক্তাক্ত হয়েছিল ভূস্বর্গ। প্রাণ গিয়েছিল ৪৪ জন সিআরপিএফ জওয়ান। এই দিনই তাদের ভ্যালেন্টাইনকে হারিয়ে ছিলেন অনেকেই। প্রেম দিবসের দিন শুভেচ্ছাটাও জানানো হয়নি। অশ্রুসিক্ত নয়নে চির বিদায় জানাতে হয়েছিল। সেই শহিদদের মধ্যে ছিলেন বাবলু সাঁতরা। ছুটিতে এসে বাড়ি রং করাবেন বললেও; আর তা নিজ চোখে দেখা হয়নি। তার আগেই বাড়িটিকে রংহীন করে চিরছুটিতে চলে গেছেন; হাওড়ার বাউড়িয়ার বাবলু সাঁতরা। পুলওয়ামার ঘটনার পর; শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানাতে পথে নেমেছিল মানুষ। অর্থ সাহায্য দিয়ে; চাকরি দেওয়ার ঘোষণার মাধ্যমে শহিদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সেই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? এক বছর পর কেমন আছে শহিদ বাবলু সাঁতরার পরিবার?

গত বছর ১৪ ই ফেব্রুয়ারি “ভালোবাসার” দিনেই; ভালোবাসার লোকেদের কাছ থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল; পুলওয়ামা জঙ্গি হামলা কিন্তু কাছের মানুষটিকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে চেপেই বাবলুর পরিবার এখনও বলছে; তারা বদলা চায় না; শান্তি চায়।

একবছর পরই অবসর নেওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল কয়েকদিনের মধ্যেই ছুটিতে বাড়ি আসবেন; কিন্তু বড্ড তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। তবে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটিয়ে নয়; কাঁদিয়ে। সেদিন তাঁদের এলাকায় উঠেছিল “শহিদ বাবলু সাঁতরা অমর রহে” স্লোগান। কান্নার রোলে তাঁকে বিদায় জানিয়েছিল সবাই। তাঁর মা, স্ত্রী, ভাইদের চোখের জল সেদিন বাধ মানেনি। আর বাবলুর চিরছুটিতে যাওয়ার একবছর হতে চলল। তিনি নেই কিন্তু বাড়ির প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি; আজও চোখে পড়ে। স্মারক, ছবি, শংসাপত্রে। তা নিয়েই; এখন বেঁচে আছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় বাবলুর সঙ্গে শহিদ হয়েছিলেন; আরও ৩৯ CRPF জওয়ান। রাগে, দুঃখে, শোকে বদলা চেয়েছিলেন; অনেকেই কিন্তু তাঁর পরিবার চায়নি। তাঁর স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন; তাঁরা যুদ্ধ চান না। যুদ্ধ সমাধান হতে পারে না। তাঁর মা ও ভাইয়ের গলাতেও শোনা গেল; একই সুর। মা বনমালা সাঁতরা বলছেন; বদলা চাই না। শুধু শান্তি চাই। তাঁর ভাই কল্যাণ বলছেন, যুদ্ধ করলেই সবকিছুর সমাধান হয় না।

তবে সবাই যাতে ভালোভাবে ডিউটি করতে পারে; সেই ব্যবস্থা থাকা দরকার।ঘরের প্রতিটি জায়গায় বাবলুর উজ্জ্বল উপস্থিতি।বাবলুর মৃত্যুর পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দু’পক্ষকেই তারা পাশে পেয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। অর্থ সাহায্যও পেয়েছে। যোগাযোগ রেখেছে; সিআরপিএফও । কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না; খোঁজ নেয় তারা। নেই কারও প্রতি কোনও অভিযোগ; কোনো ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাবলুর পরিবারের নেই। কয়েকদিন আগে বাড়ির মাটিও নিয়ে গেছে সিআরপিএফ। আর কয়েকদিন পর বাড়ির সামনের মাঠে অনুষ্ঠানও করবে বলে জানানো হয়েছে। বদলা নয়; শান্তি চাইছে শহিদ বাবলু সাঁতরার পরিবার। শুধু সরকার বা সি কর পি এফ নয়। এলাকাবাসীও প্রতিটা মুহূর্তে তাঁদের পাশে রয়েছে। বলে জানিয়েছেন কল্যাণ। এলাকায় দাদার মূর্তিও বসেছে। তবে দাদার অভাব প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেন। বলেন। দাদাই সামনে থেকে সব ঝড়-ঝাপটা সামাল দিত। প্রতিটা মুহূর্ত। প্রতিটা দিনই মনে হয় দাদা থাকলে ভালো হত। গলা ধরে আসে তাঁর…

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন