পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আকসাই চিন, পাকিস্তান ও চিনকে জমি ছেড়ে দিয়েছেন জওহরলাল নেহেরু

5024
পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আকসাই চিন, পাকিস্তান ও চিনকে জমি ছেড়ে দিয়েছে কংগ্রেস
পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আকসাই চিন, পাকিস্তান ও চিনকে জমি ছেড়ে দিয়েছে কংগ্রেস

পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আকসাই চিন; পাকিস্তান ও চিনকে হাজার হাজার কিলোমিটার; ভারতের জমি ছেড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। জওহরলাল নেহেরুর আমলেই; ভারত হারিয়েছে কাশ্মীরের বিশাল এলাকা। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের হাতে কাশ্মীর; আর ১৯৬২ সালে চিনের হাতে কাশ্মীর; হেলায় তুলে দিয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহেরু। তার জেরে আজও ভারতকে; তার বিশাল মুল্য চোকাতে হচ্ছে প্রতিদিন। এমনটাই মনে করেন; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তারপরেও কেন চেঁচাচ্ছেন সনিয়া-রাহুল? তাঁরা কি ইতিহাস জানেন না? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ রাজীব গাঁধী ফাউন্ডেশনের নামে, চিনের কাছে টাকা খেয়েছে গান্ধী পরিবার

পাকিস্তান ও চিনকে জমি ছেড়ে দিয়েছেন জওহরলাল নেহেরু

সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকেই; ১৯৬২ সালে চিন-ভারত যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। চিন তিব্বত দখল করার পর; ভারতের বর্তমান অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে; নিজের অন্তর্ভুক্ত এলাকা বলে দাবী করে। এভাবে যে সীমান্ত সমস্যার শুরু হয়; তা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের সূচনা করে। যুদ্ধে ভারত একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। চিন সেই সময় আকসাই চিন দখলে রাখে; শুধু অরুণাচল প্রদেশ ফিরিয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ ভুটান মোটেও নদীর জল বন্ধ করে নি, ফেক নিউজে কড়া ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকার

১৯৬২ সালে কংগ্রেসের জমানায়; আকসাই চিন প্রায় ৩৭,২৪৪ বর্গ কিলোমিটার জমি চিনের হাতে হারিয়েছিল ভারত। এখানেই শেষ নয়; ইউপিএ জমানায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত; চুমুর টিয়া, প্যাংনাক এবং চাবজি উপত্যকা (২৫০ কিলোমিটার) হারিয়েছে ভারত। ইউপিএ জমানায় ২০০৮ সালে; ডেমজোক এলাকায় জোরাওয়ার দুর্গ ধ্বংস করে দিয়েছিল পিপলস লিবারেশন আর্মি। ২০১২ সালে সেখানে নজরদারি পয়েন্ট তৈরি করেছে; এবং সিমেন্টের ১৩ টি বাড়ি নিয়ে চিনারা; নতুন ডেমজোক কলোনি গঠন করেছে। ইউপিএ জমানায় ২০০৮-০৯ সালে; ডুঙ্গটি ও জেমজোকের মাঝে প্রাচীন ডুম চেলে (বাণিজ্যকেন্দ্র); হাতছাড়া হয়েছে ভারতের।

১৯৬২ সালে কংগ্রেস জমানায়, আকসাই চিন হারিয়েছিল ভারত

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের; রাজধানী মুজাফ্ফরাবাদ। ১০ জেলা রয়েছে PoK-তে। রয়েছে ৩৩ তেহশিল এবং ১৮২টি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাউন্সিল। ১৩,৩০০ স্কোয়ার কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত; বিস্তৃত পাক অধিকৃত কাশ্মীর। এর মোট জনসংখ্যা ৫২ লাখ। ভারতীয় কাশ্মীরের পূর্ব অংশ; পাকিস্তানের পঞ্জাব, আফগানিস্তানের ওয়াখান কোরিডর এবং চিনের শিনজিয়াং অঞ্চলের সঙ্গে; সীমান্ত ভাগ করে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। আর এর সবটাই নেহেরু নিজের হাতে; পাকিস্তানকে তুলে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ বৈঠকের পরেও গালওয়ান থেকে সরে নি বিশ্বাসঘাতক চিন, ধরা পরে গেল উপগ্রহে

পাকিস্তানের হাতে দখল থাকা কাশ্মীর রেখেই; নেহেরুর ১৯৪৮ সালে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা ছিল মারাত্মক ভুল। ফলস্বরূপ কাশ্মীরের এক তৃতীয়াংশ ভারত হারিয়েছে। কিভাবে নেহরুর ভুলে; কাশ্মীর সমস্যার উদ্ভব হল? দেশভাগের সময় কাশ্মীরের রাজা হরি সিং; স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের কথাই ভাবছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের সেনারা; কাশ্মীরের দখল নিতে আক্রমণ চালায়। এমনকি তারা শ্রীনগরের কাছে চলে আসে। হরি সিং বাধ্য হন ভারতের সাহায্য চাইতে।

যুদ্ধের দায়িত্বে থাকা জেনারেল ক্যারিআপ্পা, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে একমত ছিলেন না

ভারতের কংগ্রেস সরকার, হরি সিং কে বলেন; কাশ্মীর যদি বিনাশর্তে ভারতের সাথে যোগ দেয়; তবেই ভারত সাহায্যের হাত বাড়াতে পারে। হরি সিং রাজি হন। ভারত পাকিস্তানের কাছ থেকে; কাশ্মীরকে উদ্ধার করল। এমনকি ভারতীয় সেনা নাকি; গ্রিন সিগন্যাল পেলে লাহোর পর্যন্ত দখল করতে চাইছিল। কিন্তু বাগড়া বাঁধলেন নেহেরু। কাশ্মীরের অনেকটা অংশ পাকিস্তানের হাতে রেখেই; তিনি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন। আর কাশ্মীরকে ডিসপিউটেড এরিয়া বলে ঘোষণা করলেন। যুদ্ধের দায়িত্বে থাকা জেনারেল ক্যারিআপ্পা; যুদ্ধবিরতির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে; একমত ছিলেন না বলেই শোনা যায়।

কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতি বলবৎ হয় ১৯৪৮ সালে; তবে পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করে। তখন থেকেই কাশ্মীর; পাকিস্তান ও ভারত নিয়ন্ত্রিত দুই অংশে ভাগ হয়ে যায়। অন্যদিকে ১৯৬২ সালের চিন-ভারত যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে; চিন কাশ্মীরের আকসাই-চিন অংশটির নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। আর তার পরের বছর পাকিস্তান; কাশ্মীরের ট্রান্স-কারাকোরাম অঞ্চলটিও চিনের হাতে ছেড়ে দেয়। সেই থেকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তান, ভারত ও চিন; এই তিন দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে। সৌজন্যে; ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহেরু।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন