রাত ৮টায় সব পার্কে আলো কমানোর নির্দেশ, দুষ্কৃতী বাড়বাড়ন্তের আশঙ্কা

169
রাত ৮টায় সব পার্কে আলো কমানোর নির্দেশ, দুষ্কৃতী বাড়বাড়ন্তের আশঙ্কা/The News বাংলা
রাত ৮টায় সব পার্কে আলো কমানোর নির্দেশ, দুষ্কৃতী বাড়বাড়ন্তের আশঙ্কা/The News বাংলা

শহরে এবার পাখি সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে; রাত আটটা বাজলেই নিভিয়ে দেওয়া হবে আলো। কলকাতার সব বড় পার্কের ক্ষেত্রেই; এই নির্দেশ দিলেন কলকাতার কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ (পার্ক) দেবাশিস কুমার। এতদিন শহরের বড় বড় পার্কে দেখা যেত; হ্যালোজেনের আলো জ্বলতে। এই আলোর তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল পাখিদের জীবনধারণ। জানা যায়; কলকাতায় প্রায় ১০০ প্রজাতির নানা রকমের পাখির বসবাস। রাতের কলকাতাতেও অন্ধকার দেখা যায় না। ফলে কমে যাচ্ছিল পাখির সংখ্যা। ধরা পরছিল নানা রোগ। পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।

শহরের সব থেকে বড় ও জনবহুল উদ্যানগুলোর মধ্যে অন্যতম হল; সিটিজেন পার্ক, ইলিয়ট পার্ক এবং রবীন্দ্র ও সুভাষ সরবর। মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার জানান; “পার্কের চারধারের হ্যালজেন আলো বদলে; লাগানো হবে পরিবেশবন্ধু এলইডি আলো। পরিবেশ নিয়ে আদালতের বিভিন্ন নির্দেশও মানতে হবে আমাদের”।

জন্মাষ্টমীতে ইস্কন মন্দিরে গোমাতার পুজো অনলাইনে

তবে শহরে বেড়ে চলা দুষ্কৃতীর কথা মাথায় রেখেই; সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে না আলো। জানা যাচ্ছে; চড়া আলো নিভিয়ে দিলেও; নিরাপত্তার কারনেই পার্কগুলোর চারপাশে থাকবে তুলনামূলক নরম আলো। সারা রাত ধরে জ্বলবে এই আলো।

ইতিমধ্যে রাত নটা বাজতেই; নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের সেরা বিনোদন উদ্যান ইকো পার্ক। চড়া আলো জ্বলায়; অসহায়ভাবে রাত কাটায় পাখিরা। পাখিদের পাশে দাঁড়িয়ে; পরিবেশ বাঁচানোর পাশাপাশি; বিদ্যুতের খরচ প্রচুর কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; পুরমন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যা কার্যকর করছেন মেয়র পারিষদ।

অন্যদিকে; পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত সহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেছেন; আলোর তীব্রতার জন্য ইদানীং বহু বিরল প্রজাতির পাখি আর; আগের মত রবীন্দ্র সরোবরে আসছে না। একসময় কয়েকশো প্রজাতির পাখি এসে ভিড় করত; ঢাকুরিয়া লেকের চারপাশের সমস্ত গাছে। কিন্তু গত ক’বছরে সারারাত চড়া আলোর তীব্রতা; সরোবরে পাখিদের সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

তবে নিরাপত্তার কারণে; শহরের সমস্ত পার্কের ভিতরেই; ‘নরম’ আলো যেমন জ্বলবে তেমনই নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা ও নজরদারি বাড়ানো হবে। কিন্তু জনবহুল জায়গাগুলোতে এইভাবে শহরবাসীর নিরাপত্তা কতটা থাকবে; তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। একদিকে পাখির নিরাপত্তা; অন্যদিকে শহরবাসীর নিরাপত্তা; কতটা মোক্ষম হাতে সামলাবে কলকাতা পুরসভা; সেটাই এখন দেখার।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন