ঈদের চাঁদ কি খালি চোখেই দেখবে মানুষ, না জোতির্বিজ্ঞানের সাহায্য নেবে

147
খালি চোখেই কি ঈদের চাঁদ দেখবে মানুষ, না জোতির্বিজ্ঞানের ভরসা নেবে/The News বাংলা
খালি চোখেই কি ঈদের চাঁদ দেখবে মানুষ, না জোতির্বিজ্ঞানের ভরসা নেবে/The News বাংলা

মুসলমানদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব; ঈদ-উল-ফিতর কবে হবে? প্রতিবছর মানুষের মনে একই প্রশ্ন; ঘুরেফিরে আসে। উনত্রিশতম রোজার সন্ধ্যেবেলায়; দিল্লির নাখোদা মসজিদের ইমাম ও দেশের চাঁদ দেখা কমিটি; বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে জানা যায় ঈদের দিনটি। ঐতিহাসিকভাবেই এমনটা হয়ে আসছে। কিন্তু জোতির্বিজ্ঞানিরা অনেক আগেই হিসেবে করে বের করে ফেলেন; এবার কটা রোজা হবে আর ঈদ কবে হবে।

ঈদ কবে? ঈদের ছুটিই বা কবে দেবে সরকার? প্রতিবছর এটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। ভারতের জোতির্বিজ্ঞানিরা কিন্তু আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিটা ঈদের দিন তারিখ; প্রতিটি হিজরি মাস শুরু হওয়ার সুর্নির্দিষ্ট দিন জানেন।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় মুখোশ খুলল জোম্যাটোর, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত পেয়ে ধর্মঘটে নামলেন কর্মীরা

জোতির্বিজ্ঞানিরা বলছেন; “এটা কিন্তু শুধু চাঁদের বেলায় না; আমরা আপনাকে বলতে পারব এর পরের সূর্যগ্রহণটি কবে হবে; এর পরের চন্দ্রগ্রহণটা কবে হবে। খুবই সহজ হিসেব এটা; ক্যালকুলেশন করেই বের করে ফেলা যায়”।

অথচ প্রতি বছর ঈদ এলেই; মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে উনত্রিশ রোজা শেষে ঈদ হবে; না কি ত্রিশ রোজা শেষ ঈদ হবে। এই প্রশ্নের উত্তর জানা যায় উনত্রিশতম রোজার সন্ধেবেলায়। কারণ নাখোদা মসজিদ ইমাম ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ওইদিন সন্ধেবেলায় এসে; একটি বৈঠক করে ঠিক করেন মাসটি উনত্রিশ দিনে হবে নাকি ত্রিশ দিনে হবে।

আরও পড়ুনঃ তিন তালাক অপরাধ ঘোষণার পর, বড়ো দাদাকে বারানসী থেকে রাখি পাঠাল মুসলিম বোনেরা

আর এজন্য তাদের ব্যবহৃত একমাত্র পদ্ধতি হল; খালি চোখে চাঁদ দেখা। অর্থাৎ, ভারতের ভূখণ্ড থেকে ইমাম ও এই চাঁদ দেখা কমিটির নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে স্বচক্ষে চাঁদ দেখতে হবে। কিন্তু যেখানে বৈজ্ঞানিক হিসেব নিকেশের মাধ্যমে; দিনটি সম্পর্কে আগেভাগেই নিশ্চিত জোতির্বিজ্ঞানীরা; সেখানে শেষদিন পর্যন্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা কেন?

ইমামরা বলছেন; “যদি জোতির্বিজ্ঞানের হিসেবে ১% গড়মিল হবারও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়; সেক্ষেত্রে কি করবো আমরা? সেক্ষেত্রে আমাদের দেখার উপরেই নির্ভর করতে হবে”। দিল্লির নাখোদা মসজিদের ইমামরা বলছেন; “ঈদ, রোজা, হিজরী মাস ইত্যাদি যেহেতু ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী চলে; সেহেতু তারা ধর্মীয় নির্দেশনা মেনেই এটা করবেন; এটাই নিয়ম।

অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটি যদিও তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে; ঈদের দিনে চাঁদ উঠবার কথা হিসেবনিকেশ সহকারে বলে দেয়; কিন্তু এখানে তারা ‘নিশ্চিত’ শব্দটি ব্যবহার না করে; ‘সম্ভাবনা’ শব্দটি ব্যবহার করে; ওই ইসলামী নিয়মের ব্যাপারটি মাথায় রেখেই। যদিও তাদের দাবি; হিসেব শুরু করার পর থেকে; অদ্যবধি কখনো ভুল প্রমাণিত হননি; আশা করেন ভবিষ্যতে ভুল হবে না।

কিন্তু এটাও ঠিক; আপনি যদি এখনই জেনে যান ২০২৫ সাল বা তারও অনেক বছর পর পর্যন্ত; প্রতিটি ঈদ-উল-ফিতর এর দিনক্ষণ; তাতে উত্তেজনা কোথায়। বরং উনত্রিশতম রোজার সন্ধেবেলায়; নিজ চোখে চাঁদ দেখে ঈদের দিনক্ষণ সম্পর্কে জানার মধ্যে একটি আনন্দের ব্যাপার আছে বৈকি। এমনটাই বলছেন ইমামরা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন