তাসখন্দে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রহস্য, ইন্দিরা গান্ধীই কি এর জন্য দায়ী

1451
প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী মৃত্যুরহস্য, ইন্দিরা গান্ধীই কি দায়ী/The News বাংলা
প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী মৃত্যুরহস্য, ইন্দিরা গান্ধীই কি দায়ী/The News বাংলা

প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী মৃত্যুরহস্য; ইন্দিরা গান্ধীই কি দায়ী? প্রশ্ন আজও সমানভাবে বর্তমান ভারতে। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ছিলেন ভারতের ২য় প্রধানমন্ত্রী; এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের; একজন দলনেতা। ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্থান যুদ্ধের পরে; লালবাহাদুর শাস্ত্রী তাসখন্দ গিয়েছিলেন; একটা চুক্তিপত্র সাক্ষর করতে। ১৯৬৬ সালের ১০ই জানুয়ারী; এই চুক্তিপত্র সাক্ষর হওয়ার কথা ছিল; যাতে যুদ্ধের অফিসিয়াল সমাপ্তির ঘোষণা ছিল। তাসখন্দ পৌঁছাবার ঠিক একদিন পরেই; প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীকে; মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। যে রহস্যের সমাধান আজও হয় নি।

জানানো হয় তার মৃত্যু; হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হয়েছে। কিন্তু তার মৃত্যু ঘিরে পারিপার্শিক প্রমান; উচ্চ আধিকারিকদের আচরণ; ভারতীয়দের মনে প্রচন্ড সন্দেহ ও রহস্যের সৃস্টি করে। সম্প্রতি লালবাহাদুর শাস্ত্রীর আত্নীয় পরিজনরা; ওনার মৃত্যু সমন্ধনীয় সমস্ত ডকুমেন্ট; এবং ফাইলের প্রতিলিপি চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছুই পাননি। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে; লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু রহস্যের মীমাংসা আজও হয়নি! ধামা চাপা অবস্থায় রয়ে গেছে অনেক প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ নিজের ছাত্রের লেখা চুরি করেছিলেন শিক্ষক সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ, শিক্ষক দিবস শ্রদ্ধার না লজ্জার

১; লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর প্রথম তদন্তের রিপোর্ট; কেন ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল? সেটি কখনই কেন সামনে আনা হয়নি? ২; লালবাহাদুর শাস্ত্রীর স্ত্রীর জবানবন্দী অনুযায়ী জানা যায়; তার শরীর নীল হয়ে গেছিল এবং শরীরে কাটা দাগ ছিল। শরীর তখনই নীল হয় যখন; বিষ দেওয়া হয়। অথবা শরীর সংরক্ষণ করার জন্য; কোনও ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। যদি তার পোস্টমর্টেম না হয়ে থাকে; তাহলে সে দাগ কিসের? যদি হয়ে থাকে তাহলে সেই রিপোর্ট কোথায়?

৩; লালবাহাদুর শাস্ত্রীর ব্যক্তিগত ডাক্তার; আরএন চুঘ বলেছিলেন; তার সাস্থ্য ভালো ছিল; এবং তার কোনও হৃদরোগ ছিলনা। তাই অকস্মাৎ হার্টফেল হওয়ার ঘটনা; খানিকটা অবাস্তব। যেহেতু কোনও পোস্টমর্টেম করা হয়নি; তাই তার শরীরে সুঁচ জাতীয় কিছু দিয়ে; বিদ্ধ করার দাগ তাকে; বিষ প্রয়োগের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

৪; যে রাতে লালবাহাদুর শাস্ত্রী মারা যান; সেখানে দুজন সাক্ষী ছিল। একজন ড: আরএন চুঘ যিনি ১৯৭৭ সালে পার্লামেন্ট নির্মিত কমিটির কাছে; সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে; ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে রহস্যজনকভাবে মারা যান। দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন ভৃত্য রামনাথ; যে প্রথমে লালবাহাদুর শাস্ত্রীর বাড়ি গিয়ে; তার পরিবারের লোকদের জানিয়েছিলেন যে; তার মনে অনেক কথার; বোঝা চাপা পড়ে আছে; যা তিনি বলে দিতে চান। তিনিও অদ্ভূতভাবে; এক গাড়ি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন। সেই দুর্ঘটনায় তার একটা পা কেটে বাদ দিয়ে হয়। তারপর আশ্চর্যজনকভাবে; তার সমস্ত স্মৃতিশক্তি লোপ পায়; এবং তিনি কিছুই স্মরণ করতে পারেন না।

৫; একজন সাংবাদিক নাম; গ্রেগরী ডগলাস যিনি একটা ইন্টারভিউতে; বেশ দৃড়তার সাথে বলেছিলেন যে; লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও ভারতের পরমানু গবেষনার জনক ড: হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা; দুজনকেই আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ হত্যা করেছে। কেননা লালবাহাদুর শাস্ত্রী ভারতের পরমানু পরীক্ষাকে; সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। ইউএসএ ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মিত্রতা; ও ভারতের পরমানু শক্তির উত্থানে আতঙ্কিত; ও নিজেদের অসুরক্ষিত অনুভব করে; এই কথোপকথন “কনভারশেসন উইথ দা ক্র” বিলে প্রকাশিত হয়েছিল।

৬; একজন রাশিয়ান বাটলার; যার লালবাহাদুর শাস্ত্রীর কাছে যাওয়ার অনুমতি ছিল; এবং তার দ্বারাই তাকে বিষ প্রয়োগ করার; সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ছিল। তাকে অজানা কোনও কারণে; গ্রেপ্তার করে রাখা হয়; কিন্তু কোন জিজ্ঞাসবাদ করা হয়নি। আধিকারিকরা লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুকে; কার্ডিয়াক এরেস্ট হিসাবেই ধরে নেয়।

৭; লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর কেস; দিল্লী পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়; এবং সমস্ত কাগজপত্র জাতীয় সংগ্রহালয়কে; সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে; লালবাহাদুর শাস্ত্রীর ছেলে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর তদন্ত; উচ্চপদস্থ তদন্তকারী অফিসার দ্বারা করানো হবেনা? জেলাস্থরের পুলিস দিয়ে কেন; এই তদন্ত করান হচ্ছে? কিন্তু উত্তর পাওয়া যায়নি।

৮; CIA’s Eye on South Asia বইয়ের লেখক; অনুজ ধর আরটিআই এর মাধ্যমে; লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু সমন্ধনীয় তথ্য; প্রমানের প্রতিলিপি চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে তা দেওয়া হয়নি। তাকে প্রধানমন্ত্রী অফিস থেকে জানানো হয়; শুধু একটাই ডকুমেন্ট তাদের কাছে আছে; যা তারা প্রকাশ করতে পারবে না। কারণ তাতে বৈদেশিক সম্পর্কের; অবনতি হতে পারে। এইভাবেই ধীরে ধীরে ধামা চাপা পরে যায়; লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু রহস্য। যা আজও ভারতবাসীর কাছে রহস্যই।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন