নির্বিচারে পুলিশের লাঠি, পোশাক ছিঁড়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের অপমান, গভীর ঘুমে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা

5475
আলো বন্ধ করে পোশাক ছিঁড়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের অপমান, মুখে কুলুপ বাংলার বুদ্ধিজীবীদের/The News বাংলা
আলো বন্ধ করে পোশাক ছিঁড়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের অপমান, মুখে কুলুপ বাংলার বুদ্ধিজীবীদের/The News বাংলা

আলো বন্ধ করে পোশাক ছিঁড়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের মার; মুখে কুলুপ বাংলার বুদ্ধিজীবীদের। শিক্ষিকাদের শাড়ি ব্লাউজ ছিঁড়ে; নির্বিচারে মারধর করে আন্দোলন তোলার চেষ্টা পুলিশের; তবু ঘুম ভাঙছে না বাংলার বুদ্ধিজীবীদের। তারা জয় শ্রী রাম বলে বাড়াবাড়ি দেখতে পান; ভাটপাড়ায় ঝামেলা দেখতে পান; অথচ শিক্ষক সমাজের উপর পুলিশের বর্বর হামলা কেন যে দেখতে পান না; সেটাই এখন ভাবছেন বাংলার আমজনতা।

এমনকি বাংলা ছেড়ে; বাংলার শান্তির জন্য দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বারস্থ হন বাংলার বুদ্ধিজীবীরা। রাজ্যের অসহিষ্ণুতার বিষয়ে জানিয়ে; রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে; প্রধানমন্ত্রীকে এই চিঠি লেখা হয়। দিন দিন ‘গণপিটুনি’র পাশাপাশি; ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান নিয়ে বাড়বাড়ন্ত দেখে; বুদ্ধিজীবীরা সরাসরি চিঠি লেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।

আরও পড়ুনঃ পুলিশের বীরত্ব, আলো নিভিয়ে শিক্ষকদের মার, ব্লাউজ ছিঁড়ে শিক্ষিকাদের চূড়ান্ত অপমান

চিঠিতে সই করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষ ও বিনায়ক সেন, কৌশিক সেন সহ অনেকে। অশান্ত ভাটপাড়ায় শান্তি ফেরাতেও; মাঠে নামেন বাংলার বুদ্ধিজীবিরা। ভাটপাড়ায় শান্তি ফেরাতে; মিছিল করেন বুদ্ধিজীবিরা। মিছিলের প্রথম শ্রেনীতে চন্দন সেন; অপর্ণা সেন; কৌশিক সেন সহ অনেকে ছিলেন। শান্তি ফেরানোর আন্দোলনকে; সমর্থন জানান কবি শঙ্খ ঘোষ সহ আরও অনেকে।

এদিকে ফের বাংলা পুলিশের বীরত্ব। আলো নিভিয়ে শিক্ষকদের মার; ব্লাউজ ছিঁড়ে শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানি। ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় নদীয়ার কল্যাণীতে। পুলিশের বিরুদ্ধে; গুরুতর অভিযোগ তুললেন পার্শ্বশিক্ষকরা। অনশন মঞ্চে পুলিশি তাণ্ডব। অনশন মঞ্চের আলো নিভিয়ে; শিক্ষকদের ব্যপক মার ও শিক্ষিকাদের পোশাক ছিঁড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও মানুষের হাতে হাতে।

ছেঁড়া হয়েছে শিক্ষিকাদের ব্লাউজ; করা হয়েছে শ্লীলতাহানী। অভিযোগ; কোনও মহিলা পুলিশ কর্মী না নিয়ে; শিক্ষিকাদের উপর তাণ্ডব চালানো হয়েছে। নির্বিচারে করা হয়েছে লাঠিচার্জ। পুলিশি তাণ্ডবের প্রতিবাদে সোমবার সব স্কুলে; ক্লাস বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

তবু ঘুম ভাঙছে না বাংলার তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের। তারা এবার মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এত দ্বিচারিতা কেন? প্রশ্ন বাংলার সাধারণ মানুষের। সব ঘটনার কেন প্রতিবাদ করেন না বুদ্ধিজীবীরা? কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখছেন না অপর্ণা-কৌশিকরা? যেমন লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে? সবটাই কি শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখে? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন