বিতর্কিত মন্তব্য শেষ করল দাদার কীর্তি

5010
বিতর্কিত মন্তব্য শেষ করল দাদার কীতি/The News বাংলা

বিতর্কিত মন্তব্য শেষ করল ‘দাদার কীর্তি’। গল্ফগ্রীন এলাকায় আজও তিনি পাড়ার খোকন দা। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে আড্ডার ঠেক; বন্ধুর প্রয়ানে অশ্রুসিক্ত চোখে সকলেই আজ ফেলে আসা দিনগুলির স্মৃতি চারনা করলেন। চলচ্চিত্র জগতে তার অবদান অনস্বীকার্য। টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে সুপারস্টার তাপস পালের চলে যাওয়াটা; যেন বড়ই অপ্রত্যাশিত গোটা বাংলা ফিল্ম ইন্ডস্ট্রির কাছে। দেবশ্রী থেকে শতাব্দী সকলের কথায়; কোথাও একটা সেই আক্ষেপই প্রকাশ পেয়েছে।

কাজের জগতের মানুষগুলির সঙ্গে তার সখ্যতা বরাবরই নীবিড়। তার ভুবনভোলানো হাসি; চলে যাওয়ার দিন সকলের বারে বারে মনে পড়েছে। কিন্তু এই মানুষটির একটি মন্তব্যই যেন; তার গোটা জীবনটাকে ওলট পালট করে রেখে দিয়েছিল। রাজনীতি থেকে ফিল্মি কেরিয়ারের সমাপ্তির শুরুটাও হয়েছিল; এই মন্তব্যের পরই। ২০০১ সালে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখার সিদ্ধান্তে কোনও ভুল ছিল না। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের টিকিটে দু-বার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে; জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান তাপস পাল। বিধায়কও ছিলেন বহুদিন। নির্বাচনী প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার সেই মন্তব্য যা তার প্রতি তার লক্ষ লক্ষ অনুরাগীর দৃষ্টিভঙ্গী; এক্কেবার বদলে দিয়েছিল। দাদার কীর্তির সেই শান্ত ছেলেটির মুখ থেকে; হয়তো কেউ এমন কথা আশাই করেনি। মঞ্চে উঠে সেদিন তাপস পাল হুমকি শানিয়েছিলেন; বিরোধীদের তাক করে “আমার মা, বোন, বাবা, বাচ্চা কারোর গায়ে যদি হাত পরে আমি ছেড়ে কথা বলব না। আমার ছেলেদের ঢুকিয়ে দেবো রেপ করে চলে যাবে”।

বিত র্কের শেষ এখানেই নয়; তিনি আরও বলেন; “তৃণমূলের কারোর গায়ে যদি কোনও সিপিএম হাত দেয়; তাদের গুষ্টি শেষ করে দেব। বাড়ি-ঘর জ্বা লিয়ে দেব। আমি চন্দননগররে মাল; পকেটে মেশিন নিয়ে ঘুরি, সিপিআইএমকে গু লি করে মারব। বাড়ি, ঘর জ্বা লিয়ে দেব”। এরপর থেকেই চলচ্চিত্র জগতের সেই সুপারস্টারের ইমেজটা যেন মানুষের কাছে কোথাও একটা ফিকে হয়ে যায়। সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা যাদের মুখে মুখে সর্বদাই হুমকি বুলি বেরোয়; তাপস পালের ইমেজটাও তার অনুরাগীদের কাছে; সেই তলানিতেই ঠেকেছিল। পরে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেও; সাহেবকে আর সেই প্রিয় নায়কের আসনে; ফিরিয়ে আনতে পারেননি তার ভক্তরা বা নিকটের মানুষরা।

কারণ তার সেই হু মকি মন্তব্য ভোলাটা সম্ভব ছিল না। পরে ২০১৬ সালে রোজ ভ্যালি কা ণ্ডে জড়িয়ে গিয়ে হাজতবাস করতে হয়; অভিনেতা তাপস পালকে। আর তখন থেকেই চলচ্চিত্র জগৎ তো বটেই; তার নিজ দলও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। দল থেকে কাজের জগৎ সর্বত্রই ব্রাত্য হয়ে পড়েন তিনি। জীবনের শেষ দিনেও; শুধুমাত্র স্ত্রী ছাড়া কেউই পাশে ছিলেন না। শারীরিক অসুস্থতা থেকে মানসিক টানাপোড়েনের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে; আর পারলেন না; অকালে নিঃসঙ্গ হয়েই চলে যেতে হল সাহেবকে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন