রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বুক চিতিয়ে ভারতীয় পড়ুয়াদের রক্ষা করছে বাংলার পৃথ্বীরাজ

2568
Prithviraj Ghosh Uraine
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বুক চিতিয়ে ভারতীয়দের রক্ষা করছে বাংলার পৃথ্বীরাজ
Simple Custom Content Adder

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বুক চিতিয়ে; ভারতীয় পড়ুয়াদের রক্ষা করছে বাংলার পৃথ্বীরাজ। কে বলে বাঙালি কাপুরুষ, শিরদাঁড়া নেই। পৃথ্বীরাজ ঘোষরা যতদিন আছেন, শুধু বাংলায় বা ভারতে নয়; বিদেশের মাটিতেও পশ্চিমবঙ্গের নাম জ্বলজ্বল করবে। কে এই পৃথ্বীরাজ ঘোষ?

ইউক্রেনের কিয়েভে যেখানে এখন চারিদিকেই ধ্বংসস্তুপ, রাশিয়ার মিসাইল-বোমা কখন কার বাড়িতে, কার ঘাড়ে আছড়ে পড়বে কেউ জানে না; সেই কিয়েভে গত ২০ বছর ডাক্তারি করছেন কলকাতার বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ ঘোষ। এখন তিনি প্রফেসরও; ডাক্তারি ছাত্রদের পড়ান। কি করেছেন ইউক্রেনের কিয়েভে থাকা; এই বাঙালি ডাক্তার-প্রফেসর?

না, খুব একটা কিছুই করেননি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীকে; রাশিয়ার মুহুর্মুহু আক্রমণের মধ্যেও নিরাপদে কিয়েভ থেকে বের করে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যেখান থেকে তাদের বিমানে করে; বাড়ি ফিরিয়েছে ভারত সরকার। তবে পৃথ্বীরাজ নিজে কিয়েভ ছাড়েননি। শেষ ভারতীয় নিরাপদে বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত, তিনি কিয়েভ ছাড়বেন না; পরিষ্কার জানিয়েও দিয়েছেন।

২০১৪ সালেও রাশিয়া-ইউক্রেন ঝামেলার সময়ও; তিনি মাটি আঁকড়ে পড়েছিলেন। জানেন যুদ্ধের পরিস্থিতি কি হয়; এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫টি বাস জোগাড় করে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের ইউক্রেন সীমান্ত পাড় করিয়ে দিয়েছেন। না, বাস ভাড়ার টাকা রাজ্য বা কেন্দ্র কেউ দেয়নি; নিজের পকেট থেকেই গেছে। ৩৫০ জনকে ফিরিয়েও ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া ইউক্রেনের কিয়েভে; মাটি কামড়ে লড়ছেন বাংলার পৃথ্বীরাজ।

মানুষের সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উধাও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের খোঁজ পাওয়া গেল ইউক্রেনে

গোলা-গুলি, মিসাইল, বোমা থেকে বাঁচাতে; অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে আশ্রয় দিয়েছেন গোপন ব্যাঙ্কারে। করেছেন খাদ্য-জলের ব্যবস্থা। জীবনের রিস্ক? টিভির পর্দায় যাঁরা কিয়েভের ছবি দেখছেন, তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন; যেকোন সময় একটা বোমা বা মিসাইল শেষ করে দিতে পারে সবকিছু। কলকাতায় ছেলের মুখ চেয়ে বসে বাবা প্রদীপ ঘোষ ও মা ব্রততী ঘোষ; তারা চান, তাদের ছেলেও খুব তাড়াতাড়ি নিরাপদে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে ঘরে ফিরে আসুক।

কিন্তু ডাক্তার-প্রফেসর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন; “বাঙালি ভয়ে পালায় না; আমার সব ছাত্র-ছাত্রী ও ভারতের সব পড়ুয়াকে না নিয়ে আমি কিয়েভ ছাড়ব না”। বাংলার পৃথ্বীরাজকে কুর্ণিশ জানাচ্ছে গোটা বাংলা ও দেশ। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, বাঙালি কাপুরুষ নয়; বাঙালির শিরদাঁড়া আছে।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন