পূর্ণেন্দু পত্রীর নামাঙ্কিত শিল্পগ্রাম, গ্রামের মধ্যে সাজানো আর একটা আস্ত গ্রাম

3386
গ্রামের মধ্যে সাজানো আর একটা আস্ত গ্রাম/The News বাংলা
গ্রামের মধ্যে সাজানো আর একটা আস্ত গ্রাম/The News বাংলা

গ্রামের মধ্যে সাজানো; আর একটা আস্ত গ্রাম। এক অমর শিল্পীর সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস। গ্রামের নাম ‘পুর্নেন্দু স্মৃতি শিল্পগ্রাম’। শ্যামপুর এক নম্বর ব্লকের ধান্দালি গ্রামের মধ্যে; বিঘে পাঁচেক জমির উপর গড়ে উঠেছে চিত্রশিল্পী; ছড়াকার প্রয়াত পূর্ণেন্দু পত্রীর নামাঙ্কিত গ্রাম। গ্রামের ভেতর আর এক গ্রামের নাম কেন? পুর্নেন্দু স্মৃতি শিল্পগ্রাম নিয়ে রহস্য খোলসা করলেন; প্রয়াত শিল্পীর সুযোগ্য শিষ্য রনজিৎ রাউত। তিনি বলেন এখানে যা কিছু; সবই পূর্ণেন্দু পত্রী কে স্মরন করে।

পুর্নেন্দু পত্রীর নামাঙ্কিত ছোটদের ছবি আঁকার আসর; নাম “আঁকড়ুুম”। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; নাম “পুর্নেন্দু স্মৃতি শিশু শিক্ষানিকেন”। চিত্র ভাস্কর্য এবং হস্তশিল্পের সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা; নাম “পুর্নেন্দু স্মৃতি শিল্পপ্রদর্শশালা”। শিল্পগ্রামে আছে “পুর্নেন্দু স্মৃতি তোরন”; “পুর্নেন্দু স্মৃতি মুক্তমঞ্চ”। এই স্থায়ী এই মঞ্চে তৈরি করা হয়েছে ছটি সিমেন্টের চেয়ার। মঞ্চের সামনে প্রশস্ত জায়গা। পাঁচ-সাতশো লোককে নিয়ে অনায়াসে একটা অনুষ্ঠান করা যেতে পারে এখানে। রয়েছে “স্বপ্নসৃজন বেদি”। পুর্নেন্দু পত্রীর আঁকা বেশকিছু ছবি।

আরও পড়ুনঃ মায়াপুর ইস্কন মন্দিরে বেড়াতে গিয়ে খুব কম খরচে থাকা খাওয়া

সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ওপরে রয়েছে বট; শিমুল; বকুল; আম; সবেদা সহ দুশোর বেশি গাছ। শিল্প গ্রামে অবস্থিত একটি বটগাছ। নাম তার “ঘন্টাবৃক্ষ”। ঘন্টাবৃক্ষে বাঁধা পঞ্চাশটির বেশি ঘন্টা। রনজিৎ রাউত বলেন অসমের বাসিন্দারা তাঁদের ইচ্ছাপূরণের জন্য; গাছে ঘন্টা বেঁধে রাখে। গাছগাছালি মাঝে চারটি বড়বড় মাটির জালা। গ্রামের মানূষেরা চাল রাখতেন এই জালাাতে। জালার নাম দেওয়া হয়েছে “কৃষ্টি কলস”।

বাগানের পাশেই একটা ঘরে রয়েছে “ঢেঁকি”। তার পাশেই ছোটছোট শিল্পীদের হাতে আঁকা বিভিন্ন ছবি। গ্রাম্য পরিবেশে চড়ুইভাতি করতে আসবেন তাদের জন্য “রাঁধা বাড়ার” ঘর। রাঁধা বাড়ার ঘরের পাশেই আছে একটি পুকুর; যেখানে লালশালুক শোভাবর্ধন করছে; তার পাশ দিয়ে যাচ্ছে রাজহাঁসের দল। সব মিলিয়ে এক কথায় বলা যায় হারিয়ে যাওয়া লোকসংস্কৃতি এবং লোকশিল্পের গালিচা পেতেছে গ্রামের মধ্যে গ্রাম পূর্নেন্দু পত্রিকে স্মরন করে।

রনজিৎ বলেন; জন্মসূত্রে পূর্নেন্দুদার বাড়ি শ্যামপুর থানার নাকোল গ্রামে। নিম্নমধ্যবিত্ত পানচাষি পরিবারের সন্তান রনজিৎ ছোটবেলা থেকে শিল্পী হওয়ার সখ ছিলো। আমার আর্থিক অবস্থার জেনে আমাকে কলকাতার আর্ট স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলে পূর্ণেন্দুদা। আর্থিক সহায়তাও করেছিলেন।

রনজিৎ বলেন; পূর্ণেন্দুদার জীবনাবসানের পর লক্ষ্য করলাম; মানুষটিকে নিয়ে সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। জেদ চেপে গিয়েছিল পুর্নেন্দুদা জীবিত নেই ঠিকই। তবে তার স্মৃতি ও কর্মকান্ডকে তুলে ধরব নিজের সাধ্যমত।

বাবার নামে পুর্নেন্দু পত্রি শিল্পগ্রাম হচ্ছে; এতে খুশি প্রয়াত শিল্পির কন্যা তন্দ্রিমা বাগচি। তন্দ্রিমা বিশ্বভারতীর চীনা বিভাগের শিক্ষিকা। তাঁর ও অভিমান আছে। চন্দ্রিমার কথায় বাবার মুল্যায়ন করা হয়নি। তবে বাবার সৃষ্টিকর্ম নিয়ে ধান্দালি গ্রামে যে কর্মকান্ড হচ্ছে; তাতে তিনি খুশি।
রাজীব মুখার্জী

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন