‘টিম শুভেন্দু’, শুভেন্দু অধিকারীর দলে বাড়ছে তৃণমূল হেভিওয়েট নেতাদের সংখ্যা

1493
রাজীব, সুনীল, জীতেন্দ্র, শীলভদ্র; শুভেন্দুর দলে বাড়ছে তৃণমূল হেভিওয়েট নেতাদের সংখ্যা
রাজীব, সুনীল, জীতেন্দ্র, শীলভদ্র; শুভেন্দুর দলে বাড়ছে তৃণমূল হেভিওয়েট নেতাদের সংখ্যা

মানব গুহ, কলকাতাঃ ‘টিম শুভেন্দু’। বাংলার রাজনীতিতে; যুক্ত হয়েছে নতুন শব্দ। কারা কারা আছেন; এই ‘টিম শুভেন্দু’ তে? অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারীর দলে; আর কে কে থাকছেন? এটাই এখন বড় প্রশ্ন; রাজনৈতিক মহলে। মন্ত্রী ও বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়; সাংসদ সুনীল মণ্ডল; পুর প্রশাসক ও বিধায়ক জীতেন্দ্র তিওয়ারী; বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত; শুভেন্দু অধিকারীর দলে বাড়ছে; তৃণমূল হেভিওয়েট নেতাদের সংখ্যা। আর ততই চিন্তায় পড়ছে; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। যারা ইতিমধ্যেই বিক্ষুব্ধ; তাঁদের নামের একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু যারা এখনও ক্ষোভের কথা বাইরে জানান নি; অথচ শুভেন্দুর সঙ্গে দল ছাড়বেন; তাঁদের নামের তালিকা নিয়েই চিন্তিত তৃণমূল। আর ঠিক বিধানসভা ভোটের মুখে এই ঘটনা ঘটায়; ঘাসফুলের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

বিক্ষুব্ধ রাজীব, জীতেন্দ্র, শীলভদ্র। ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন; কোচবিহারের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। দল ছাড়লেন বীরভূমের পুরনো নেতা; কাজল সাহা। বহিষ্কার করা হয়েছে; শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ কনিস্ক পণ্ডাকে। দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন; বর্ধমানের নেতা খোকন দাস। শুধু একসঙ্গে পোস্টার দেওয়াই নয়; বুধবার শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করছেন; বর্ধমানের নেতা ও সাংসদ সুনীল মণ্ডল। হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র পরিষদ সদস্য; বাণী সিংহ রায় ও তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ; মুখ খুলেছেন দলের বিরুদ্ধে।

প্রকাশ্যে বি’দ্রোহ ঘোষণা করলেন; ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল বিধায়ক দীপক হালদার। শুভেন্দু অনুগামী এই নেতা; আছেন টিম শুভেন্দুতে। কিন্তু এরা প্রকাশ্যে মুখ খুলে; দল ছাড়ার রাস্তা পরিষ্কার করেছেন। কিন্তু মমতাকে চমকে দিয়ে; এর বাইরেও আরও অনেকেই শুভেন্দুর সঙ্গে; দল ছাড়তে পারেন বলেই, তৃণমূল সূত্রে খবর।

‘টিম শুভেন্দু’। বাংলা রাজনীতির সদ্য নতুন শব্দ। কিন্তু আর কে কে থাকছেন; শুভেন্দুর টিমে। জানা যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ রাজীব, জীতেন্দ্র, সুনীল, শীলভদ্রর পাশাপাশি; সবাইকে চমকে দিয়ে ‘টিম শুভেন্দু’ তে যোগ দিতে পারেন; তৃণমূলের প্রথম দিনের সৈনিক অতীন ঘোষ। একবার মুখ খুলেই; যিনি এখন চেপে গেছেন। যোগ দিতে পারেন; বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াও। বহিরাগত ইস্যুতে তিনিও ক্ষুব্ধ; দলের প্রতি। শুভেন্দুর জেলা, পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় সব বিধায়ক সাংসদই; যে তাঁর সঙ্গেই আছেন; সেটা জানে তৃণমূলও।

আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর পর বাংলার আরও ২৫ জন নেতাকে, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিচ্ছে মোদী সরকার

শুভেন্দু যে যে জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন; সেখানকার একঝাঁক নেতা যাবেন শুভেন্দুর সঙ্গেই। পুরুলিয়ার প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতো ও তাঁর ছেলে সুদীপ মাহাতো; রঘুনাথপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ভবেশ চট্টোপাধ্যায়; পুরুলিয়ার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়ও; দাদার অনুগামী হতে পারেন।

শুভেন্দু অধিকারীর গড় পূর্ব মেদিনীপুরে, ১৬ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩ টি এখন তৃণমূলের দখলে। আর এই ১৩ জনের মধ্যে; অন্তত ৮ জন আছেন শুভেন্দুর সঙ্গেই। শুভেন্দুর ডাকা ‘শহিদ দিবস’-এর সভায়, মঞ্চে হাজির ছিলেন; তাঁর ভাই তথা তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। তিনি ছাড়াও সভায় হাজির ছিলেন; পাঁশকুড়ার বিধায়ক ফিরোজা বিবি ও কাঁথি উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বনশ্রী মাইতি।

কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক; মিহির গোস্বামী, ইতিমধ্যেই শুভেন্দুকে সমর্থন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সিতাই কেন্দ্রের বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া; প্রকাশ্যেই শুভেন্দুকে সমর্থন জানিয়েছেন। কোচবিহারের ৯ টি আসনের মধ্যে, ৮ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে; আরও ৪ জন শুভেন্দুর সঙ্গে দল ছাড়তে পারেন।

আরও পড়ুনঃ ‘কা’পুরুষ, গ’দ্দার, বে’ইমান, লো’ভী, দা’লাল’, দল ছাড়ার আগেই শুভেন্দুকে তৃণমূলের আ’ক্রমণ শুরু

মালদা জেলা তৃণমূল সভাধিপতি গৌর মণ্ডল; বরাবর শুভেন্দু অনুগামী বলেই পরিচিত। এছাড়াও মালদার বেশ কয়েকজন নেতা; শুভেন্দুর সঙ্গে আছেন। নন্দীগ্রামে গত ১০ নভেম্বর, শুভেন্দুর সভার দিন; মালদায় ছিলেন না জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর মণ্ডল। তিনি কয়েকজনকে নিয়ে দিঘায় গিয়েছিলেন; বলে দাবি জেলা তৃণমূলের। তাঁরা সবাই শুভেন্দুর সঙ্গে; গোপন বৈঠক করেন। এমনকি, এখন অস্বীকার করলেও; তৃণমূল ছেড়ে শুভেন্দুর সঙ্গেই বিজেপিতে থাকবেন; শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ মৌসম বেনজির নূর।

বর্ধমানের সাংসদ সুনীল মণ্ডলের মতই; পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার বিধায়ক বিশ্বজিত কুণ্ডু; প্রকাশ্যেই শুভেন্দুকে সমর্থন করেছেন। সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রেও; একই ঘটনা। সরাসরি, তৃণমূল ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন; সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই তথা বি’দ্রোহী বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনিও আছেন, ‘অনুগামীদের দাদা’র সঙ্গেই।

তৃণমূল ও টিম পিকের বিরুদ্ধে; বিস্ফোরক মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ। শুধু নিয়ামত শেখ নন; মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা পা বাড়িয়ে আছেন; শুভেন্দুর সঙ্গে দল ছাড়ার জন্য। জেলা পরিষদের সভাপতি মোসারফ হোসেন; প্রকাশ্যেই শুভেন্দুকে সমর্থন করেছেন। এঁরা প্রত্যেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন শুভেন্দুর হয়ে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে আছেন, অনেক তৃণমূল নেতা; যারা শুভেন্দুর সঙ্গেই তৃণমূল ছাড়বেন বলেই ঠিক হয়ে আছে।

শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিলে; তিনি তৃণমূল ভাঙাতে মুকুল রায়কেও টেক্কা দেবেন বলে মনে করছে; বাংলার রাজনৈতিক মহল। দুই মেদিনীপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ ও পুরুলিয়া; এই পাঁচ জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে; অনেক নেতাই যে শুভেন্দুর পথ ধরবেন; এমনটাই মনে করা হচ্ছে। দুই মেদিনীপুর একেবারেই ফাঁকা হয়ে যাবে; মালদা মুর্শিদাবাদেও ক্ষতির মুখে পড়বে তৃণমূল; অনুগামী অঙ্ক এমনটাই বলছে। এখন দেখার, ‘টিম শুভেন্দু’-তে কে কে থাকেন। ডিসেম্বরেই পরিষ্কার হয়ে পুরো চিত্রটা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন