শুধু রামমন্দির রায় নয়, অবসরের আগে ভারত কাঁপানো আরও সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন রঞ্জন গগৈ

5500
শুধু বাবরি নয়, অবসরের আগে আরও বড়সড় সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ/The News বাংলা
শুধু বাবরি নয়, অবসরের আগে আরও বড়সড় সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ/The News বাংলা

শুধু রামমন্দির রায় নয়; অবসরের আগে ভারত কাঁপানো আরও বেশকিছু সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। আগামী ১৭ই নভেম্বর অবসর নেবেন রঞ্জন গগৈ। এর মধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলায় রায় দেবেন; ভারতের চিফ জাস্টিস রঞ্জন গগৈ। দেশের দীর্ঘতম স্থায়ী ও রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দেবার পর; সুপ্রিম কোর্টের বাকি কাজের দিনগুলোতেও তিনি দেবেন গুরুত্বপূর্ণ রায়। অবসর নেবার আগে কি কি রায় দেবেন; প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ?

শবরীমালা মন্দির রিভিউ পিটিশনঃ

গত সেপ্টেম্বরে, পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের শবরীমালা মন্দির রায় এর রিভিউ পিটিশন মামলার রায় দেবেন জাস্টিস রঞ্জন গগৈ। তৎকালীন সিজেআই দীপক মিশ্র, বিচারপতি আরএফ নরিমন, এ এম খানওয়িলকার, ডিওয়াই চন্দ্রচুদ এবং ইন্দু মালহোত্রা; নারীদের শবরীমালা আইয়াপ্পা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে এবং তাতে অংশ নেবার রায় দিয়ে ঝড় তৈরি করেছিলেন।

এই রায় স্পষ্টতই পুরুষদের মতো সমান ভাবে; নারীর উপাসনা করার অধিকারকে সমর্থন করেছিল। এবং সেই ঐতিহ্য-কে বাতিল করেছিল; যা মহিলাদের উপর নিষেধ জারি করে রেখেছিল। তবে এখানে বিচারপতি মালহোত্রা; বেঞ্চের একমাত্র মহিলা বিচারপতি কঠোর ভাবে এই রায়ের বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছেন। যেখানে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে; বিচার বিভাগ মানুষের বিশ্বাসের উপর; “নিজস্ব মূল্যবোধ চাপিয়ে দিতে পারে না”; এবং বিশ্বাসকে বিশ্বাসের বিষয় হিসাবে গ্রহণ করতেই হবে”।

এই রায়টির বিরুদ্ধে প্রায় ৪৮টি রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। সিজেআই রঞ্জন গগৈ এর অধীনে সুপ্রিম কোর্টে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে; পুরো দিনের জন্য খোলা আদালতে এই শুনানি হয়েছিল। অবসর গ্রহণের আগে সিজেআই রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি নরিমন, খানওয়িলকার, চন্দ্রচুর এবং মালহোত্রার পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ; এখন রায় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ অযোধ্যায় হচ্ছে রাম মন্দির, শহিদ ছেলেদের জন্য গর্বিত বাংলার মা

রাফাল পর্যালোচনা মাম্লাঃ

রাফালে মামলায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা পিএমও এর বিরুদ্ধে; প্রতিরক্ষা ক্রয় ব্যবস্থায় ‘হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগ এসেছিল এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির সময় দুর্নীতি ও প্রভাব নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল। পিআইএলগুলি-তে যুদ্ধ বিমানের দাম এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পদ্ধতি নিয়ে মামলা হয়েছিল। চুক্তিতে অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গ্রুপের ভূমিকা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছিল।

মূল রায়টি সুস্পষ্টভাবে বলেছিল যে; বিচার বিভাগ দেশের প্রতিরক্ষা ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করবে না এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি হস্তক্ষেপের অভিযোগকে এই কারণে প্রত্যাখ্যান করেছিল আদালত। পর্যালোচনা আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল যে; এই চুক্তি সম্পর্কে সরকার সুপ্রিম কোর্টকে “বিভ্রান্ত করেছে”। কারণ রায়টিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে; রাফালে চুক্তির মূল্য নির্ধারণ এবং অন্যান্য বিবরণী সিএজি দ্বারা বিশদভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল এবং সংসদে পেশ করা হয়েছিল। এটি চিহ্নিত করা হয়েছিল যে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি সিএজি বিবেচনা করে না এবং রায় পাস হওয়ার আগে সংসদে কোনও প্রতিবেদন করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ রামের পর এবার টার্গেট কৃষ্ণের জন্মভূমি, রাম মন্দিরের পর এবার কৃষ্ণ মন্দির

রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে কন্টেম্পট কেসঃ

যেদিন সুপ্রিম কোর্ট রাফালে পর্যালোচনা আবেদনের শুনানি করতে; রাজি হয়েছিল সেদিন বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন যে; “আদালতও চৌকিদার চোর হ্যায় মেনে নিয়েছে”।

তারপরেই বিজেপি সাংসদ মীনাক্ষী লেখি; রাহুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেছেন যে রাহুল গান্ধী “সুপ্রিম কোর্টের নাম করে নিজের রাজনৈতিক বক্তব্য পেশ করেছেন”।

সংবাদমাধ্যমে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের একদিন পর; সিজেআই গোগোই বেঞ্চের কাছ থেকে পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে; সুপ্রিম কোর্ট “কখনও এ জাতীয় কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়নি; এবং আদালতের পক্ষে এ জাতীয় বক্তব্য দেওয়া হয়নি”।

সিজেআই গোগোই, বিচারপতি এস কে কৌল ও বিচারপতি কে এম জোসেফের তিন বিচারপতির বেঞ্চ; রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চেয়ে একটি হলফনামা দায়েরের পরেও ফের একই বক্তব্য রাখায় আদালত আবমাননার মামলা গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুনঃ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের নিচে রাম মন্দির খুঁজে বের করেছিলেন মহম্মদ

ফাইনান্স অ্যাক্ট ২০১৭ এবং ট্রাইবুনালদের সরকার গ্রহণঃ

সিজেআই গোগোইয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চ; এপ্রিল মাসে ১৮ টি আবেদনের সেট আপিলের রায় গ্রহণ করেছিলেন। যে মামলায় অভিযোগ ওঠে যে; সরকার আইনী নীতি লঙ্ঘন করেছে এবং বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের শর্ত ও শর্ত নির্ধারণ করার ক্ষমতা গ্রহণ করছে। এরফলে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ক্ষমতা হ্রাস করা হচ্ছে।

গ্রিন ট্রাইব্যুনাল; কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল; সশস্ত্র বাহিনী ট্রাইব্যুনাল এবং অন্যান্য ১৭ টি ট্রাইব্যুনাল; এর মধ্যে কিছু ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সাল পর্যন্ত উচ্চ আদালতের বিচারকদের নিয়োগ; মেয়াদ ও চাকরির শর্তাদি স্বতন্ত্র সংস্থা হিসাবে কাজ করে আসছিল; এদের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে বলে মামলা দায়ের হয়। সরকারের অধীনে পরিষেবার শর্তাদি এনে এই পিআইএল গুলিতে অভিযোগ করেছে যে; সরকার ট্রাইব্যুনালকে “অধিগ্রহণ” করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুনঃ জয় শ্রী রাম, অযোধ্যায় জিতল রাম মন্দির, মসজিদ হবে অন্য জায়গায়

আরটিআইয়ের আওতায় সিজেআইয়ের অফিস?

আরটিআইয়ের আওতায় সিজেআইয়ের অফিস থাকবে? না থাকবে না? প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ অবসরের আগে; সবচেয়ে বড় যে মামলাটির রায় দেবেন; সেটা হল আরটিআইয়ের আওতায় প্রধান বিচারপতি দফতর থাকবে কি থাকবে না। আরটিআই আইনের প্রয়োগ এই কারণেই যে; সুপ্রিম কোর্ট নিজেই অনেক সময় অস্বচ্ছভাবে কাজ করার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০১০ সালের জুলাই মাসে; দিল্লি হাইকোর্ট একটি রায় পাস করে বলেছিল যে; সিজেআই অফিস এবং এসসি একটি “পাবলিক অথরিটি” যা আরটিআই আইনের আওতায় আসবে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন