এপিজে আবদুল কালামের পথেই রামনাথ কোবিন্দ, রাষ্ট্রপতি ভবনে বন্ধ ‘ইফতার পার্টি’

1507
এপিজে আবদুল কালামের পথেই রামনাথ কোবিন্দ, রাষ্ট্রপতি ভবনে বন্ধ 'ইফতার পার্টি'
এপিজে আবদুল কালামের পথেই রামনাথ কোবিন্দ, রাষ্ট্রপতি ভবনে বন্ধ 'ইফতার পার্টি'

এপিজে আবদুল কালামের পথেই হেঁটেছেন; বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। রাষ্ট্রপতি ভবনে বন্ধ ‘ইফতার পার্টি’। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও দেশের ‘মিসাইল ম্যান’, এপিজে আবদুল কালাম; রাষ্ট্রপতি ভবনে বন্ধ করেছিলেন ইফতার পার্টি। রাষ্ট্রপতি ভবনে ইফতার পার্টির রেওয়াজ, বহুকাল ধরে চলে এলেও; ছন্দপতন ঘটিয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডক্টর এপিজে আবদুল কালাম। তিনি যদিও ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন; কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন তার আমলে ছিল ইফতার পার্টি মুক্ত। কিন্তু কেন? কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

আবদুল কালামের প্রাক্তন সচিব, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস পিএম নায়ারের একটি লেখা থেকে জানা যায়; এই সিদ্ধান্তের পিছনের আসল কারণটি। ‘দি কালাম এফেক্ট; মাই ইয়ার্স উইথ দি প্রেসিডেন্ট’; বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে; সেখনেই আছে এই ঘটনাটি। সেখানে পিএম নায়ার বলেছিলেন; ২০০২ সালে ডক্টর আবদুল কালাম যখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন; তখন রমজান ছিল জুলাই-আগস্ট মাসে। রাষ্ট্রপতির জন্যে একটা নিয়মিত রেওয়াজ ছিল যে; তিনি রমজানে ইফতার পার্টির আয়োজন করবেন।

আরও পড়ুনঃ আরব হানাদার-দের দমন করেও, ভারতের ‘ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসে’ জায়গা পাননি, রাজা বাপ্পাদিত্য রাওয়াল

সে অনুযায়ী এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার পর, ডক্টর কালাম তার সচিব পিএম নায়ারকে প্রশ্ন করেন; কেন তিনি ইফতার পার্টির আয়োজন করবেন? কারণ এই পার্টিতে যে সব অতিথিরা আসবেন; তারা তো সবসময় ভালো খাবার খেয়েই অভ্যস্ত। রাষ্ট্রপতি এও জানতে চান; একটি ইফতার পার্টির আয়োজনে কত খরচ পড়ে। সচিবের তরফ থেকে জানানো হয়; প্রায় ২২ লাখ টাকা খরচ করা হয় এই ইফতার পার্টিতে। ডক্টর কালাম তখন নির্দেশ দেন; ঐ টাকা দিয়ে খাবার; পোশাক ও কম্বল কিনে কয়েকটি অনাথ আশ্রমে দান করতে।

ডক্টর কালামের নির্দেশে অনাথ আশ্রম বাছাইয়ে; রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্মকর্তাদের একটি টিম গঠন করা হয়। এরপর ডক্টর কালাম পিএম নায়ারকে ডেকে; এক লাখ টাকার চেক দেন এবং জানান; সরকারী সাহায্যের সাথে তিনি তার ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে এই অর্থ দান করছেন। পিএম নায়ার তখনই এই খবর সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আবদুল কালাম বলেন; এ তথ্য কারো কাছে প্রকাশ করা যাবে না।

আরও পড়ুনঃ বাঙালি বিজ্ঞানী, ইংরেজ আমলে পাননি নোবেল, স্বাধীন ভারতে সম্মান জোটেনি বাংলায়

নায়ার তাঁর বইয়েতে লেখেন; তিনি সবাইকে জানাতে চেয়েছিলেন। কারণ, মানুষের জানা উচিত এমন একজন মানুষ আছেন; তার যা অর্থ খরচ করা উচিত; তিনি সেটা শুধু দানই করেননি; তিনি সেই সঙ্গে নিজের অর্থও বিলিয়ে দিয়েছেন। পিএম নায়ার এমন অনেক চমকপ্রদ তথ্য; প্রকাশ করেছেন তাঁর বইতে। ডক্টর এপিজে আবদুল কালাম যখনই বিদেশ যেতেন; তখন তিনি দামি উপহার পেতেন। এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা হলে; তা হত কোনো জাতির প্রতি অসম্মান করা এবং তা দেশের পক্ষে বিব্রতকর।

সুতরাং তিনি বিনা বাক্য ব্যয়ে; এসব উপহার নিতেন। কিন্তু ফিরে আসার পর তাঁর নির্দেশ থাকত; সব উপহারসামগ্রীর ছবি তুলতে হবে; ক্যাটালগ করতে হবে; এরপর তা রাষ্ট্রপতি ভবনের সংগ্রহশালায় রেখে দিতে হবে। পিএম নায়ার জানান; আবদুল কালাম যখন রাষ্ট্রপতি ভবন ত্যাগ করেন; তখন তাকে কোন জিনিস তো দূরে থাক; একটি পেনসিলও নিয়ে যেতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুনঃ হিন্দু মন্দিরে পূজিত হন, ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম

নায়ার জানান, ডক্টর কালাম তার আত্মীয়দের একবার দিল্লিতে; আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাদের নগর পরিদর্শন করাতে, তিনি একটি বাস ভাড়া করেছিলেন; এবং সেই টাকা তিনি নিজে শোধ করেন। কোনো সরকারি গাড়ি; তাঁর আত্মীয়দের জন্যে ব্যবহৃত হয়নি। ডক্টর কালামের নির্দেশে, তাঁর আত্মীয়দের থাকা-খাওয়ার খরচ হিসাব করা হয়েছিল; বিল দাঁড়াল দুই লাখ টাকা; যা তিনি নিজে পরিশোধ করেছিলেন। দেশের ইতিহাসে এটা আর কেউ করেননি। এপিজে আবদুল কালামের দেখানো একটা পথে রামনাথ কোবিন্দ; রাষ্ট্রপতি ভবনে বন্ধ ‘ইফতার পার্টি’।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন