গল্প হলেও সত্যি, পুরীর জগন্নাথ সুভদ্রা ও বলরামের রথের অজানা কাহিনী

2559
গল্প হলেও সত্যি, পুরীর জগন্নাথ সুভদ্রা ও বলরামের রথের অজানা কাহিনী
গল্প হলেও সত্যি, পুরীর জগন্নাথ সুভদ্রা ও বলরামের রথের অজানা কাহিনী

গল্প হলেও সত্যি! পুরীর জগন্নাথ সুভদ্রা ও বলরামের রথের অজানা কাহিনী; আজও আকর্ষণ করে মানুষকে। করোনা আবহ শুরু হবার আগে, রথ যখন নীলাচল নগরী ধরে এগিয়ে যেত; তখন হাজর হাজার ভক্ত সেই রথের রশি ছুঁয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করত। কথিত রয়েছে, পুরীর রথযাত্রায় যিনি একবার রথের রশি ছুঁয়ে নেন; তাঁর সমস্ত ইচ্ছা পুরণ হয়। আর সেই থেকে রথের দড়ি ছোঁয়া ও টানবার; পরম্পরা চালু হয়েছে। পুরীতে জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলভদ্রের রথযাত্রা ঘিরে; একাধিক রহস্যময় তথ্য় উঠে আসছে। রথ সম্পর্কিত জানা অজানা নানান তথ্য; এখনই জেনে নিন।

রথের দিন জগন্নাথ মন্দির ছেড়ে; গুন্ডিচা মন্দিরে মাসির বাড়িতে যান জগন্নাথ দেব ৷ গুন্ডিচা ছিলেন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের স্ত্রী; এই ইন্দ্রদ্যুম্নই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ৷ প্রতি বছরই নতুন করে; তিনটি রথ তৈরি হয় ৷ তিনটি রথে থাকেন তিন ভাই বোন; জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। রথ যখন চলে প্রথমে থাকে; বলদেবের রথ। কারণ বলরাম দাদা। তারপর চলে; সুভদ্রার রথ। তারপর যায়; জগন্নাথের রথ। ঠিক যেন প্রথমে গুরুদেব; তারপর ভক্তি, তারপর ভগবান জগন্নাথ। রথের দড়ি বা রশি; আসলে বাসুকি নাগ। সেজন্যে বলা হয়; রথের দড়ি ধরলে পুণ্য হয়। আসলে বাসুকি নাগের; কৃপা লাভ হয়।

আরও পড়ুনঃ নিষিদ্ধ দ্বীপের বাঙালি রানী, অসম্ভবকে সম্ভব করা বাঙালি নারী

জগন্নাথদেব প্রতিবছর; নব রথে ওঠে। জগন্নাথের রথের নাম; নন্দীঘোষ বা কপিধ্বজ। এই রথের ১৬টি চাকা; রথের রঙ পীত বর্ণ। ষোল চাকা মানে; দশ ইন্দ্রিয় আর ছয় রিপূ। জগন্নাথের রথের রশির নাম; ‘শঙ্খচূড়া নাগুনি’ ৷ জগন্নাথের রথে সওয়ার হন; আরও ৯ দেবতা ৷ এঁদের মধ্যে রয়েছেন গোবর্ধন, কৃষ্ণ, নরসিংহ, রাম, নারায়ণ, হনুমান, রুদ্র। জগন্নাথের রথে একজন রক্ষীও থাকেন; এই রক্ষীর নাম গারুদা। জগন্নাথের রথের; সারথির নাম মিতালি। রথের মাথায় থাকা পতাকার নাম; ত্রৈলোক্যমোহিনী ৷

বলা হয়, পুরীর রথ চলার সময়; রাস্তায় চাকার তিনটি দাগ পড়ে। তা হল গঙ্গা, যমুনা; ও সরস্বতী। যারা বার্ধক্যজনিত কারণে বা অন্যান্য কারণে, রথের দড়ি ধরতে পারেন না; তারা যদি চাকার এই তিনটি দাগের ধুলো গ্রহণ করেন; এই ত্রিদাগে গড়াগড়ি দেন, তাহলে গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতীতে; অবগাহনের ফল লাভ করেন।

বলভদ্রের রথের নাম হল; তালধ্বজ বা হলধ্বজ। ১৪টি চাকা; আছে রথে। তালধ্বজের উচ্চতা; ৪৪ ফুট ৷ লাল ও সবুজ কাপড়ে সাজানো হয়; তালধ্বজ রথ। তালধ্বজের রক্ষীর নাম বাসুদেব; সারথি সাত্যকি। রথের মাথায়; পতাকার নাম উন্যানী ৷ রথের রশির নাম; বাসুকি নাগ ৷ বলরামের রথেও; ৯ দেবতা থাকেন ৷ এঁদের মধ্যে আছেন; কার্তিক, গণেশ, সর্বমঙ্গলা, মৃত্যুঞ্জয়, মুক্তেশ্বর।

আরও পড়ুনঃ বেমালুম উধাও হয়ে যান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ইঞ্জেকশন দেওয়া নার্স রাজদুলারী টিকু

দেবতাদের দ্বারা প্রদত্ত, সুভদ্রা দেবীর রথের নাম; ‘দর্পদলন’ বা ‘পদ্মধ্বজ’। রথে দেবী সুভদ্রার সঙ্গে থাকেন; সুভদ্রার সঙ্গিনী সুদর্শনা ৷ দর্পদলনের উচ্চতা ৪৩ ফুট; এই রথে মোট ১২টি চাকা রয়েছে ৷ লাল এবং কালো কাপড়ে; সাজানো হয় রথ ৷ দর্পদলনের সারথির নাম অর্জুন ৷ দর্পদলনের মাথায় থাকা; পতাকার নাম নদম্বিকা ৷ রথের রশির নাম স্বর্ণচূড়া; সুভদ্রার রথে থাকেন ৯ দেবী ৷ এঁদের মধ্যে রয়েছেন; চণ্ডী, চামুণ্ডা, বনদুর্গা, শুলিদুর্গা, শ্যামাকালী, মঙ্গলা, বিমলা।

কথিত আছে, রথের দর্শনে; শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু নৃত্য করছেন। অপলক নয়নে যা; দর্শন করছেন জগন্নাথ। রথ চলতে চলতে তাই; মাঝে মাঝে থেমে যায়। এর কারন রাধা ভাবে বিভোর মহাপ্রভুকে, ভাল করে দেখার জন্য; রথ একটু থামে আবার চলে। অনেক ভক্তের মাঝে মহাপ্রভুকে না দেখে; জগন্নাথ থেমে যায়। রথ অপ্রকৃতি কারন তা প্রভু জগন্নাথের; ইচ্ছা শক্তিতে রথ চলে। আজও রথে অচল জগন্নাথকে দেখে; রাধা ভাবে বিভোর মহাপ্রভু আনন্দে নেচে নেচে যায়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন