বেহাল দশা বাংলার সরকারি চাকরির, অষ্টম শ্রেণি পাশের চাকরিতে আবেদন গবেষক, স্নাতকোত্তর ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীর

380
বেহাল দশা বাংলার সরকারি চাকরির, অষ্টম শ্রেণি পাশের চাকরিতে আবেদন গবেষক, স্নাতকোত্তর ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীর
বেহাল দশা বাংলার সরকারি চাকরির, অষ্টম শ্রেণি পাশের চাকরিতে আবেদন গবেষক, স্নাতকোত্তর ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীর

পদ, বন সহায়ক। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা; অষ্টম শ্রেণি পাশ। শূন্যপদ, ২,০০০টি। কিন্তু বন দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে; আবেদন পরেছে কয়েক লক্ষ। শুধু তা-ই নয়, আবেদনপ্রার্থীদের অধিকাংশই; গবেষক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ! অষ্টম শ্রেণি পাশ যোগ্যতায় ফরেস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর চাকরিতে; আবেদন করেছেন বহু গবেষক, স্নাতকোত্তর ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। এমন ঘটনা খাস পশ্চিমবঙ্গের। এই তথ্য সামনে আসার পরেই; রাজ্যের চাকরির বাজারের হাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি।

বন দফতর সূত্রে জানা গেল; সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা বেতনে চুক্তিভিত্তিক পদে; নিযুক্তদের মূল কাজ, বনভূমি রক্ষা, হাতি তাড়ানো; গাছ কাটার খবর পেলে সেখানে নজরদারি চালানো প্রভৃতি। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেলায় স্থায়ী বসবাসকারী; শুধু নিজের জেলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্র ‘স্ক্রুটিনি’র কাজ শেষ হলে; প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকা হবে।

কিন্তু অষ্টম শ্রেণির যোগ্যতামানের পদে; এত সংখ্যক উচ্চশিক্ষিতের আবেদনের কারণ কী? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক আবেদনকারী বাণিজ্য শাখায় স্নাতক বলেন; “চাকরির যা বাজার; তাতে এখন আর বাছবিচার করার অবস্থা নেই”। এক আবেদনকারী বলেছেন, “পিএইচডি করছি, এসএসসি-তে চাকরি পাইনি। তাই এখানে আবেদন করেছি”। এক আবেদনকারী বলেছেন; “ইতিহাসে মাস্টার্স করেছি; চাকরি পাই নি। বয়স চলে যাচ্ছে; একটা সরকারি চাকরি দরকার। তাই বাছবিচার আর নেই”।

আরও পড়ুনঃ নবান্ন অভিযানে শিখের পাগড়ি খোলা বিতর্ক, ধ্বস্তাধস্তিতে খুলেছে দাবি পুলিশের, মানতে নারাজ বিজেপি

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী বিজেপি, বাম ও কংগ্রেসের অভিযোগ; “কোনও কাজই ছোট নয়। কিন্তু রাজ্যের বেকারদের জন্য; কাজের বাজার কেমন; তা এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট”। রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন; “রাজ্যে চাকরি থাকলে; এখানকার শিক্ষিতদের ভিন রাজ্যে ছুটতে হত না। গবেষকদের ক্লাস এইট পাশ চাকরিতে ঢুকতে হত না। চাকরি যে নেই, তা এই তথ্যেই পরিষ্কার”। বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি; বন দফতর ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা।

এই পদটিতে আবেদনকারী প্রার্থীদের; বাংলা বা রাজ্যের কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃত ভাষা পড়ার (৩০ নম্বর); এবং লেখার (৩০ নম্বর) জন্য পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও, ইংরাজি বা হিন্দি পড়ার দক্ষতা (১০ নম্বর); সাধারণ জ্ঞান (২০), এবং বন বিভাগের কাজের জন্য; শারীরিক দক্ষতার (১০) পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের এক প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন; “গবেষকদের মতো উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীরা; এত কম যোগ্যতার চাকরিতে আবেদন করলে; আমরা কি করতে পারি! আমরা তাঁদের আবেদন করতে; বারণও করতে পারছি না”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন