খ্যাতির তোয়াক্কা না করে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন এই বিপ্লবী

2368
খ্যাতির তোয়াক্কা না করে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন এই বিপ্লবী/The News বাংলা
খ্যাতির তোয়াক্কা না করে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন এই বিপ্লবী/The News বাংলা

আপোষহীন সশস্ত্রধারার এক অনামা বিপ্লবী হলেন কানাইলাল ভট্টাচার্য। ২৭ শে জুলাই; বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের শহিদ দিবস। জন্ম দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার; মজিলপুরে। কানাইলাল ভট্টাচার্য ‘বিমল গুপ্ত’ ছদ্মনামে দীনেশ গুপ্ত ও রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের; ফাঁসির দণ্ডাদেশকারী বিচারক গার্লিককে ২৭ জুলাই; ১৯৩১ তারিখে হত্যা করেন। খ্যাতির তোয়াক্কা না করে; দেশের জন্য প্রান দিতে এগিয়ে যান; এই বিপ্লবী।

মহাকরণের মহাঅলিন্দ যুদ্ধের পর; দিনেশের ফাঁসির হুকুম দিয়েছিল; আলিপুর সেশন জজ গার্লিক। তাঁকে বিপ্লবীরা উচিত শিক্ষা দিতে প্রস্তুত হয়। দীনেশ বেঙ্গল ভলিন্টিয়ারসের সদস্য হলেও; গার্লিক নিধনের দায়িত্বটা নেয় যুগান্তর দল।

আরও পড়ুনঃ বিপ্লবী চন্দ্র শেখর আজাদের ভয়ে কেন কাঁপত ব্রিটিশ বাহিনী, জেনে নিন

অপরদিকে মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট; পেডির হত্যার ব্যাপারে; পুলিশ বিমল দাশগুপ্তকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। এইসময় কানাইলাল ভট্টাচার্য ছদ্মনাম নিয়ে; নিজ জীবনের বিনিময়ে বিমল দাশগুপ্তকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। পুলিস দীর্ঘদিন তাঁর প্রকৃত পরিচয় উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি শনাক্তকরণের সময়; কানাইলালের মহীয়সী মাতাও তার দেহকে; অস্বীকার করে বলেন “এ তার কানু নয়”।

এই নামহীন, পরিচয়হীন শহীদ হয়ে থেকে; অপর এক বিপ্লবীকে বাঁচিয়ে যাওয়ার চেষ্টা; ইতিহাসে বিরল। কানাইলাল ভট্টাচার্য; বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স দলের সদস্য ছিলেন। তিনি বিপ্লবী নেতা সাতকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মী। সাতকড়িবাবুই তাঁকে এইকাজে পাঠান।

যুগান্তরের বারুইপুর শাখার সংগঠনের নেতা; সাতকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় কাজটি পরিচালনা করেন। ঘটনার দিন; ১৯ বছরের কানাই এক গ্রাম্য যুবকের বেশে; আদালতে প্রবেশ করে লম্বা ছাতার মধ্যে থেকে; ৩৬ বোরের কোল্ড জুপিটার বের করে গুলি চালায়। সেই সঙ্গে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

তারপরে পুলিশ গুলি করে; ঝাঁজরা করে দেয় তার শরীর। পকেট থেকে উদ্ধার হয়; একটা চিরকুট। “ধ্বংস হও, দীনেশ গুপ্তর ফাঁসির দন্ড লও”।-বিমল দাশগুপ্ত। মেদিনীপুরের বিমল দাশগুপ্ত তখন; পেডিকে হত্যা করে ফেরার। পুলিশ তাকে খুঁজছে। এই অনুসন্ধান বন্ধ করতেই; ছদ্মনামে কানাইলাল কাজটি করেন।

মৃত্যুকালে নিজের নামটা কোনভাবেই থেকে যাবে না জেনেও; খ্যাতির তোয়াক্কা না করে প্রান দিতে বিন্দু মাত্র ভাবেননি তিনি। তাও আবার যাকে বাঁচানোর চেষ্টা; সে নিজের সংগঠনের নয়; অন্য সংগঠনের। এই ইতিহাস বাঙালির গর্বের ইতিহাস।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন