“আবেগের বশে বলেছি ‘মুসলিম কন্যা’, মেয়েটি বাংলার রত্ন”, সাফাই মহুয়ার

8121
"আবেগের বশে বলেছি 'মুসলিম কন্যা', মেয়েটি বাংলার রত্ন", সাফাই মহুয়ার

“আবেগের বশে বলেছি ‘মুসলিম কন্যা’; মেয়েটি বাংলার রত্ন”; সাফাই মহুয়ার। উচ্চ মাধ্যমিকের সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক রুমানা সুলতানার, ‘ধর্ম উল্লেখ’ প্রসঙ্গ নিয়ে; তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝে, শুক্রবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন; উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি মহুয়া দাস। বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিকের, ফলাফল ঘোষণার সময়; রুমানার নাম উল্লেখ না করে; ‘ধর্ম’ জানিয়েছিলেন সংসদ প্রেসিডেন্ট। যা নিয়ে শুরু হয়; জোরদার বিতর্ক। মেধাবী ছাত্রীর কৃতিত্বের গায়ে, সম্প্রদায়ের ‘ছাপ্পা মেরে’; প্রবল চাপে পরেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস।

বিকাশ ভবন সূত্রে খবর; তাঁকে শোকজ করা হয়েছে। কেন তিনি উচ্চ মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া, রুমানার ধর্ম উল্লেখ করেছেন; কৈফিয়ৎ তলব করেছে রাজ্য সরকার। “বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে”; জানিয়েছেন স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা। জল্পনা শুরু হয়েছে; ইস্তফা দিতে পারেন মহুয়া। তাঁর পদত্যাগ চেয়েছে; শিক্ষক মহল থেকে; বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এর মাঝেই নেহাত আবেগের বশে কথাগুলো বলেছিলেন, অন্য কোনও অভিপ্রায় তাঁর ছিল না বলে; সাফ জানিয়ে দিলেন উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রধান।

আরও পড়ুন; ‘মুসলিম কন্যা’, শিক্ষায় ধর্মীয় সুড়সুড়ি সংসদ সভাপতির, জোর বিতর্ক

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে; ২০২১-এর উচ্চ-মাধ্যমিকের ফলাফল। সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন; শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস। পরীক্ষা ছাড়া বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতিতে; ফল প্রকাশ হওয়ায় এ বছর কোনও মেধাতালিকা ছিল না। তবে সর্বোচ্চ নম্বর জানান; সংসদ সভাপতি। আর তা বলতে গিয়েই সভাপতি মহুয়া বলেন; “সর্বোচ্চ নম্বর ৪৯৯। পরিসংখ্যান যতটা দেখেছি; তাতে এই নম্বর একজনই পেয়েছে; মুর্শিদাবাদের এক মুসলিম কন্যা। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে; একজন মুসলিম লেডি গার্ল”।

আরও পড়ুন; মাধ্যমিকে পঞ্চম, উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম, রুমানা সুলতানা বাংলায় মুসলিম নারী শিক্ষার দৃষ্টান্ত

কৃতী ছাত্রীর পরিচয় দিতে গিয়ে; কেন ধর্মের উল্লেখ? প্রশ্ন তুলে শোরগোল শুরু হয়; বিভিন্ন মহলে। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে, উত্তপ্ত হয়ে ওঠে; রাজ্যের শিক্ষা মহলের একাংশ। শুক্রবার ‘শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ’ নামে, শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা’; উচ্চ-মাধ্যমিক সংসদের ভবনের সামনে বিক্ষোভও দেখায়। মহুয়াদেবী অফিসে ঢোকার সময়; তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। সেই সময়ও সংসদ সভাপতি মহুয়া দাস জানিয়েছিলেন; “আমি আবেগের বশে বলে ফেলেছি”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন