বাংলার সলমন খান, মানুষ মেরেও শাস্তি হয় না সাম্বিয়া শোহরাব ও আরসালান পারভেজের

651
বাংলার সলমন খান, মানুষ মেরেও শাস্তি হয় না সাম্বিয়া শোহরাব ও আরসালান পারভেজের/The News বাংলা
বাংলার সলমন খান, মানুষ মেরেও শাস্তি হয় না সাম্বিয়া শোহরাব ও আরসালান পারভেজের/The News বাংলা

বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে ভালবাসেন? কোন চিন্তা নেই। কলকাতায় আসুন। যত জোরে খুশি গাড়ি চালান। মানুষ মরার ভয় করছেন? তাতেও কোন চিন্তা নেই। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে; অ্যাকসিডেন্ট করেছেন? ধুর, কোন চিন্তা করবেন না! কলকাতায় গাড়ি চাপা দিয়ে; মানুষ মেরেও রেহাই মেলে। মানুষ মারলেও সেটা হবে; অনিচ্ছাকৃত হত্যা। হবেন বাংলার সলমন খান; ঠিক যেমন মানুষ মেরেও; শাস্তি হয় না সাম্বিয়া শোহরাব ও আরসালান পারভেজের।

রাতের শহরে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালিয়ে; আরও একবার পথ দুর্ঘটনা ও মৃত্যু। শুক্রবার রাতে; একটি জাগুয়ার গাড়ি; বেপরোয়া গতিতে একটি মার্সিডিজ গাড়িকে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় মারা যান; দুই বাংলাদেশি নাগরিক। দুর্ঘটনায় আরসালান বিরিয়ানি মালিকের ছেলে; আরসালান পারভেজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ নির্বিচারে পুলিশের লাঠি, পোশাক ছিঁড়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের অপমান, গভীর ঘুমে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা

আরসালান পারভেজ, বাবা আরসালান বিরিয়ানির মালিক। বাবার ২৫টারও বেশি দেশি বিদেশি গাড়ি। আর ছেলের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০টি ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগ। বছর তিনেক আগে প্রায় একই ঘটনায়; কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল; সাম্বিয়া শোহরাবকেও!

বাংলার সলমন খান, মানুষ মেরেও শাস্তি হয় না সাম্বিয়া শোহরাব ও আরসালান পারভেজের/The News বাংলা

বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে; মানুষকে উড়িয়ে দেওয়া। ঘটনা নতুন কিছু নয়; শহর কলকাতায়। কোটিপতি ব্যবসায়ীর বখাটে ছেলের; গাড়ির দুরন্ত গতি প্রাণ কেড়েছে অনেকেরই। এই তো ২০১৬ সালে ১৩ জানুয়ারির ঘটনা। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া চলছিল রেড রোডে। সেই মহড়ায় বেপরোয়াভাবে ব্যারিকেড ভেঙে; প্রচণ্ড গতিতে ঢুকে পড়েছিল; সাম্বিয়া শোহরাবের অডি গাড়ি। বাবা কোটিপতি ব্যবসায়ি; মহম্মদ শোহরাব।

গাড়ি চালক সাম্বিয়া শোহরাব গতি বাড়িয়ে; সাধারণতন্ত্র দিবসের মহড়া চলাকালীন; ধাক্কা দিয়েছিল বায়ুসেনাকর্মী অভিমন্যু গৌড়কে। গাড়ির ধাক্কায় প্রায় কুড়ি ফুট দূরে; ছিটকে পড়েছিলেন অভিমন্যু। মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। ঘটনায় আহত হয়েছিলেন; আরও এক বায়ুসেনা আধিকারিক।

তবে দুঃখের বিষয় এটাই; সবার চোখের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও; কলকাতা পুলিশ কিছুই প্রমাণ করতে পারে নি। তাই সাজা ঘোষণার সময়; নিজেই অনিচ্ছাকৃত হত্যার ধারা লাগু করেন; বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য। বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য সাম্বিয়ার সাজা ঘোষণার আগেই; সাম্বিয়ার বাবা মহম্মদ শোহরাব এবং তার দুই বন্ধুকে; এই মামলায় বেকসুর খালাস করে দেন। এখানেও পুলিশি তদন্তের গাফিলতির কথাই উঠে এসেছে বারবার।

রেড রোড হিট অ্যান্ড রান মামলায়; সাম্বিয়া শোহরাবকে দোষী সাব্যস্ত করে নগর দায়রা আদালত। কিন্তু হত্যা বা দফা ৩০২ ধারায় নয়; তার বিরুদ্ধে ৩০৪এ এবং ৪২৭ এর ধারায়; অভিযুক্ত ঘোষণা করেন বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য। কলকাতা পুলিশ সাম্বিয়া শোহরাব এর বিরুদ্ধে; দফা ৩০২ ধারায় খুনের মামলা দায়ের করে। কিন্তু সেটা প্রমাণ করতে পারেনি পুলিশ। ৩০৪ এর এ ধারায়, বায়ুসেনার অফিসারকে মেরে ফেলেও; তার মাত্র ২ বছরের জেল হয়।

কলকাতা পুলিশের বদান্যতায়; বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যায়; মাত্র দু বছরের জেল! তাও বিচারের জন্য জেল হেফাজতে থাকায়; বায়ুসেনা অভিমুন্য গৌড়কে গাড়ির ধাক্কায় মেরে ফেলার পরেও; মুক্তি পেয়ে যায় সাম্বিয়া শোহরাব। পুলিশি তদন্ত ও আদালতে পেশ করা চার্জশিটের দিকেই; আঙুল তোলে সাধারণ মানুষ ও ভারতীয় বায়ু সেনা। আদালতে পুলিশের ভুমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বয়ং বিচারপতিও।

কলকাতা পুলিশের কাছে সেটা ছিল লজ্জার দিন; বলছেন আদালত বিশেষঙ্গরা। কোটিপতির ছেলেকে বাঁচাতেই কি; কলকাতা পুলিশের এই ভূমিকা ছিল? উঠে ছিল প্রশ্ন। এবারও সেই একই প্রশ্ন।

সাম্বিয়া শোহরাব এর পরেও আরসালান পারভেজ। একই অপরাধ। দুরন্ত গতিতে গাড়ি চালিয়ে; গাড়ি ও মানুষ উড়িয়ে দেওয়া। পরিণামে মৃত্যু। মিল অনেক। দুজনেই কোটিপতি ব্যবসায়ীর ছেলে। দুজনের হাতেই বাপের দেওয়া কোটি টাকার গাড়ি। আর দুজনের কাছেই; মানুষের জীবনের কোন দামই নেই।

এবারেও গতির বলি দুই। কালপ্রিট আরসালান বিরিয়ানির মালিকের ছেলে; আরসালান পারভেজ। নিহত ২জন হলেন; কাজী মহম্মদ মইনুল আলম(৩৬) ও ফারহানা ইসলাম তানিয়া (২৮)। মইনুলের বাড়ি বাংলাদেশের ঝিনাইদহে। চাকরি করতেন গ্রামীন ফোনে। অন্যদিকে; তানিয়া ছিলেন বাংলাদেশে সিটি ব্যাঙ্কের; অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে। কলকাতায় চিকিৎসা করাতে এসে; আর দেশে ফিরে যাবেন না কোনদিনই।

খেলা এবারেও শুরু হয়ে গেছে! ইতিমধ্যেই ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যা’ ধারা লাগু হয়েছে এই মামলায়। সাম্বিয়া শোহরাবের মতই; অনায়াসে ছাড়া পেয়ে যাবে আরসালান পারভেজ। সৌজন্যে কলকাতা পুলিশ ও আমাদের ট্রাফিক আইনের ফাঁক ফোকর। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা সেরকমই। টাকার জোরে সব হয়; বলছেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মী। আর এতেই পরিষ্কার বোঝা যায়; এটাকেও ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যা’ বলে প্রমাণ করাটা; শুধুই সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

মানুষ বলছে; এরা বাংলার সলমন খান; বেপরোয়া গাড়ির গতিতে; মানুষ মেরেও শাস্তি হয় না সাম্বিয়া শোহরাব ও আরসালান পারভেজের। তবে তারা হল কোটিপতি বাপের ছেলে। আমি আপনি সাধারণ মানুষ কি এই একইরকম দুর্ঘটনা থেকে মুক্তি পাব? উঠছে প্রশ্ন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন