একমাস চোরের মত পালিয়ে থেকেও জামিন, আইন কি শুধুই ক্ষমতাবানদের জন্য

78331
একমাস চোরের মত পালিয়ে থেকেও জামিন, আইন কি শুধুই ক্ষমতাবানদের জন্য/The News বাংলা
একমাস চোরের মত পালিয়ে থেকেও জামিন, আইন কি শুধুই ক্ষমতাবানদের জন্য/The News বাংলা

একমাস চোরের মত পালিয়ে থেকেও জামিন; আইন কি শুধুই ক্ষমতাবানদের জন্য? বারবার জামিন না-মঞ্জুর হবার পরেও; হঠাৎ কি ভাবে জামিন পেলেন প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার? এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন। একমাস সিবিআই এর নোটিশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পালিয়ে থাকার পরেও; কিভাবে জামিন? স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতার উপরে। মাত্র ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে; পালিয়ে বেড়ান পুলিশ কমিশনারের জামিন কি কারণে মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট? উঠছে প্রশ্ন।

রাজীব কুমারের জামিন; সাধারণ মানুষকে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীন করে তুলবে না তো? সারদা কাণ্ডে আর্থিক দুর্নীতির নথি নষ্ট করার অভিযোগ; প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের উপরে। অভিযোগ এতটাই গুরুতর যে বারবার আগাম জামিনের আবেদন করেও; দিনের পর দিন তা খারিজ হয়ে গেছে। একমাস লুকিয়ে বেরিয়েছেন রাজীব কুমার। সিবিআই হন্যে হয়ে খুঁজে বেরিয়েছে গোয়েন্দা প্রধানকে।

আরও পড়ুনঃ বন্ধ দরজার আড়ালে ৫০ হাজার টাকায়, জামিন পেলেন রাজীব কুমার

ঘটনা এতদূর গড়িয়েছিল যে; গত মঙ্গলবার রাজীব কুমারকে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্ত। স্বভাবতই হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর; মনে করা হচ্ছিল রাজীব কুমারের আগাম জামিন পাবার রাস্তা বন্ধ হল। কিন্তু সেই আশঙ্কা থেকে আইপিএস-কে মুক্তি দিল আদালত। আর সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

হাইকোর্টের বন্ধ দরজার আড়ালে; যেখানে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। সেখানে কি এমন হল যে নিম্ন আদালতে বারবার না-মঞ্জুর হওয়া জামিন; মঞ্জুর করে দিলেন বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সি ও বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ?

আরও পড়ুনঃ বাংলার পুলিশের চরম লজ্জা, আইপিএস অফিসার মির্জার ১৪ দিনের জেল হেফাজত

সারদা কান্ডে সর্বশ্রান্ত হওয়া বহু মানুষ এখনও; বিচার ব্যবস্থার উপরে আস্থা রাখে। কিন্তু সেই সর্বশ্রান্ত হয়ে যাওয়া মানুষগুলো কি; কোনদিনও আর আসল বিচার পাবে? কয়েকদিন আগেও রাজীব কুমারের চোরের মত পালিয়ে বেড়ান থেকেই; স্পষ্ট হয়ে গেছিল যে তাঁর উপরে করা অভিযোগ সত্য।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে রাজ্যের পুলিশ; চিরুনি তল্লাশি করেও কোন খোঁজ মেলেনি প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের। অজ্ঞাত অবস্থায় বেড়েছে ছুটির মেয়াদ। সই করা আবেদন জমা পড়েছে আদালতে। তবু ধরা পরেনি রাজীব কুমার; কে বা কারা আড়াল করে রেখেছিল তাঁকে?

সারদাকাণ্ড সামনে আসার পর; রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন (সিট) করে। ওই দলের প্রধান ছিলেন; বিধাননগরের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। এই মামলার তদন্তের স্বার্থে রাজীব কুমারকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সিবিআই।

দিল্লী থেকে সিবিআইয়ের ‘স্পেশাল’ টিম পাঠানো হয় রাজীবকে খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু একসময় তাঁরাও ফিরে যায় শূন্য হাতে। সিবিআই দফায় দফায় রাজীবের পার্ক স্ট্রীটের বাড়িতে হানা দেয়। এমনকি আদালতে; গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু তবুও কোন নিশ্চিন্ত জায়গায় সুরক্ষিত থেকে গেলেন তিনি?

আর পালিয়ে বেড়াবার পরেও পেয়ে গেলেন জামিন? সাধারণ মানুষ হলে; কি এতকিছুর পরেও জামিন পেতেন? সবার জন্য সমান আইন; কথাটা কি তাহলে খাতায় কলমেই? মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট সেই প্রশ্নই তুলে দিল। আর প্রশ্ন তুলছেন; রাজ্যের আমজনতাই। আমজনতা সিবিআইয়ের সঙ্গে একমাস লুকোচুরি খেলেও কি জামিন পেতেন? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন