দেশবাসীকে ফের মিথ্যা কংগ্রেসের, আম্বেদকর ও সর্দার প্যাটেল কাশ্মীরে নেহেরুর ৩৭০ এর বিরুদ্ধে ছিলেন

902
দেশবাসীকে ফের মিথ্যা কংগ্রেসের, আম্বেদকর ও সর্দার প্যাটেল কাশ্মীরে নেহেরুর ৩৭০ এর বিরুদ্ধে ছিলেন/The News বাংলা
দেশবাসীকে ফের মিথ্যা কংগ্রেসের, আম্বেদকর ও সর্দার প্যাটেল কাশ্মীরে নেহেরুর ৩৭০ এর বিরুদ্ধে ছিলেন/The News বাংলা

দেশবাসীকে ফের জলজ্যান্ত্ মিথ্যা কংগ্রেসের; কাশ্মীরে আর্টিকেল ৩৭০ বিলুপ্তি নিয়ে কংগ্রেসের বিবৃতিতে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর মিথ্যা কথা। কাশ্মীর নিয়ে কংগ্রেসের বয়ানে লেখা হয়েছে যে; আম্বেদকর ও সর্দার প্যাটেল কাশ্মীরে নেহেরুর ৩৭০ এর পক্ষে ছিলেন। কিন্তু তা ইতিহাসের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে। সম্পূর্ণ মিথ্যা বলছে কংগ্রেস। বাবাসাহেব আম্বেদকর ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল; কাশ্মীরে নেহেরুর ৩৭০ এর সম্পূর্ণ বিপক্ষে ছিলেন। শেখ আবদুল্লা ও জওহরলাল নেহেরুর বিরুদ্ধে ছিলেন; বাবাসাহেব আম্বেদকর ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

দেশবাসীকে ফের মিথ্যা কংগ্রেসের, আম্বেদকর ও সর্দার প্যাটেল কাশ্মীরে নেহেরুর ৩৭০ এর বিরুদ্ধে ছিলেন/The News বাংলা

চরম মিথ্যা দেশবাসীকে বলল কংগ্রেস। কংগ্রেস এর বয়ানে বলা হয়েছে; নেহেরুর ‘কাশ্মীর আর্টিকেল ৩৭০’ সমর্থন করেছিলেন; বাবাসাহেব আম্বেদকর ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। কিন্তু সেটা যে চূড়ান্ত মিথ্যা; তা জানে শিক্ষিত ভারতীয়। তবু মানুষকে বকা বানাবার চেষ্টা কেন করছে কংগ্রেস? উঠে গেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ এক দেশ-এক নিশান-এক প্রধান, কাশ্মীরে ৩৭০ বাতিল করে শ্যামাপ্রসাদকে সম্মান দিলেন মোদী

কাশ্মীরে ধারা ৩৭০-এর কারণে তৈরি; দুই প্রধান-দুই নিশান-দুই সংবিধান; এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ করা কালীন কাশ্মীরের কারাগারেই ২৩ জুন, ১৯৫৩ সালে মৃত্যু হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। এই কাশ্মীর সত্যাগ্রহের সময় অটল বিহারী বাজপেয়ী ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গী ছিলেন বাবাসাহেব আম্বেদকর; এই ৩৭০ ধারার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনিও। বিরোধিতা করেছিলেন সর্দার প্যাটেলও।

১৯৪৭-এর ২৩ অক্টোবর; কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্পূর্ণ কাশ্মীর, গিলগিট-বাল্টিস্তান সমেত; বিনা শর্তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি হয়। কাশ্মীরের মহারাজ হরি সিং; তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব বি পি মেননের সামনে চুক্তিতে সই করেন। এই অন্তর্ভুক্তির চুক্তিতে কোনও দাবি ছিল না; কোন শর্ত ছিল না; তাহলে ৩৭০ ধারা কোথা থেকে এল?

এই ধারা ৩৭০; ১৯৫২-র ১৭ নভেম্বর থেকে লাগু হয়; অর্থাৎ এটি মূল সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ১৯৪৭-এর ২৬ অক্টোবর থেকে ১৯৫২-র ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত; অর্থাৎ পাঁচ বছর কাশ্মীর নিয়ে কারোর কোনও সমস্যা ছিলনা। একমাত্র ব্যতিক্রম শেখ-আবদুল্লাহ; তার মনে হয়েছিল যে; কাশ্মীরে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার জন্য কিছু পৃথক ব্যবস্থা থাকা উচিত। এজন্য জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গে কথা বলেন শেখ আব্দুল্লাহ।

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের, কাশ্মীর থেকে তুলে দেওয়া হল ৩৫এ ও ৩৭০ ধারা

৩৭০ ধারার সম্পূর্ণ খসড়া; শেখ আব্দুল্লাহ নেহেরুর সঙ্গে মিলে লেখেন। এতে বড় ভূমিকা ছিল এন গোপালস্বামী আয়েঙ্গার; যিনি আইসিএসসি ছিলেন। নেহেরু শেখ আবদুল্লাকে এই পরামর্শ দেন যে; সংবিধানে ৩৭০ ধারার ব্যবস্থা করার পক্ষে গোপালস্বামী আয়েঙ্গারই যোগ্য ব্যক্তি; কারণ তিনি সংবিধান সভার সদস্য ছিলেন।

যেহেতু সর্দার প্যাটেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন; এই ধরার জন্য তাঁর সম্মতিরও প্রয়োজন ছিল। এই প্রসঙ্গে ১৯৪৭-এর ২৭ ডিসেম্বর নেহেরু লিখেছিলেন;
“Gopalaswamy Ayyangar has been especially asked to help in Kashmir matters. Both for this reason and because of his intimate knowledge and experience of Kashmir, he had to be given full latitude. I really do not know where the States Ministry (Sardar Patel’s ministry) comes into the picture except that it should be kept informed for the steps taken. All this was done at my instance and I do not propose to abdicate my functions in regard to matters for which I consider myself responsible. May Is …”

এই সম্পূর্ণ কালখণ্ডে ভি শংকর আয়ার; আইএএস অফিসার সর্দার প্যাটেল এর নিজস্ব সচিব ছিলেন। তিনি এই সম্পূর্ণ ঘটনাক্রমের সমস্ত নথিপত্র সযত্নে আগলে রেখেছেন। সেই নথিপত্র অনুসারে কাশ্মীর থেকে কোন দাবি না ওঠা সত্ত্বেও; নেহেরু শেখ আব্দুল্লার সঙ্গে; সরদার প্যাটেলকে না জানিয়ে; ৩৭০ ধারা চূড়ান্ত করেন। প্রথমে এই খসড়াকে কংগ্রেস কার্যবাহিনীর; সামনে রাখা হয়। সেখানে এটির পুরো বিরোধিতা হয়।

যখন এই বিষয়টি সংবিধান সভায় উত্থাপন করা হয়; তখন বাবাসাহেব আম্বেদকরের এই রাষ্ট্রবিভাজনকারী ধারাটি; একদমই পছন্দ না হওয়ায়; তিনি সেটির তীব্র বিরোধিতা করেন। দুর্ভাগ্যবশত সেই সময় নেহেরুর ভাবমূর্তি ‘লারজার দন লাইফ’ হওয়ায়; তার আগ্রহে ৩৭০ ধারাকে সংবিধানে যুক্ত করা হয়। পরে নেহেরুর আগ্রহে ১৯৫৪-র ১৪ই মে; সংবিধানে ৩৫এ ধারা যুক্ত হয়।

জহরলাল নেহেরু; শেখ আব্দুল্লাহ এবং গোপালস্বামী আয়েঙ্গার এই ত্রয়ী বিগত সত্তর বছর ধরে; কাশ্মীরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার যে কাঠামো তৈরি করে রেখেছিলেন; তা এতদিনে মোদী-শাহ-ডোভাল ত্রয়ী ধ্বংস করে দিলেন। আজ প্রকৃত অর্থেই ভারত ঐক্যবদ্ধ হল, এক হলো…! কিন্তু তাতেও কংগ্রেসের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার; বহু বছরের পুরনো অভ্যাস বদলান না।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন