স্কুল কলেজ বন্ধ, লোকাল ট্রেনে অনুমতি নয়, দুর্গা পুজোতে রাস্তায় নেমে উৎসব পালনে উৎসাহ কেন

983
স্কুল কলেজ বন্ধ, লোকাল ট্রেনে অনুমতি নয়, তবে দুর্গা পুজোতে রাস্তায় নেমে উৎসব পালনে উৎসাহ
স্কুল কলেজ বন্ধ, লোকাল ট্রেনে অনুমতি নয়, তবে দুর্গা পুজোতে রাস্তায় নেমে উৎসব পালনে উৎসাহ

মানব গুহ, কলকাতাঃ পুজোর আগে লোকাল ট্রেন চালাবার; সব আশা শেষ। লোকাল ট্রেন চালানো নিয়ে; গত মঙ্গলবারই রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিল রেল। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত, রাজ্য রেলের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে; কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফলে পুজোর আগে, লোকাল ট্রেন চলাচল এখন কার্যত অসম্ভব; বলেই মনে করছেন রেলের কর্তারা। এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, করোনার কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ; লোকাল ট্রেনে অনুমতি নয়; তবে দুর্গা পুজোতে রাস্তায় নেমে উৎসব পালনে; কেন উৎসাহ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এই দ্বিচারিতা কেন? সোশ্যাল মিডিয়ায়; প্রশ্ন তুলেছেন মানুষ।

নিত্যযাত্রী ও হকারদের দাবিতে; সিলমোহর দিতে উদ্যোগী ভারতীয় রেল। লোকাল ট্রেন চালু করতে; রাজ্যকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্র। জানান হয়েছে, লোকাল ট্রেন চালু করতে; কেন্দ্রের কোনও অসুবিধে নেই। চাই রাজ্যের সবুজ সঙ্কেত। সবই তো চলছে, সবই খোলা; তাহলে লোকাল ট্রেন কেন নয়? এমনটাই বলেছেন বিক্ষুব্ধরা; বিশেষ করে নিত্যযাত্রী ও বাংলার কয়েক লক্ষ রেল হকার। তাঁদের ইচ্ছেতেই; সিলমোহর দিয়েছে রেল। একটি চিঠিতে রাজ্যকে জানানো হয়েছে; রাজ্যের অনুমতি পেলে, লোকাল ট্রেন চালু করতে কেন্দ্রের কোনও অসুবিধে নেই। তবে, ৪ দিন কেটে গেলেও; এই নিয়ে কোন উত্তর দেয় নি রাজ্য। পুজোর আগে কি চলবে; লোকাল ট্রেন? উঠে গেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ মমতার মিছিল আর বিজেপির নবান্ন অভিযানে উৎসবের আগেই করোনায় ধুঁকছে রাজ্য, কোপ পড়তে পারে দুর্গা পুজোয়

লকডাউনের শুরু থেকেই; করোনা পরিস্থিতির কারণে; গত ২৫ মার্চ থেকে বন্ধ রেলওয়ে পরিষেবা। বাংলায় ছয় মাসের বেশি বন্ধ; লোকাল ট্রেন। এদিকে খুলে গেছে; অফিস, শপিং মল, মেট্রো রেল। পুজোর বাজারের জন্য জনসমাগম বেড়েই চলেছে; গড়িয়াহাট হাতিবাগান ও নিউ মার্কেট চত্বরে। এবার, লোকাল ট্রেন চালু করার দাবিতে; জেলার মানুষদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। কারণ বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে; লোকাল ট্রেন না চলার জন্য। লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু করার দাবিতে; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছে; বাম ও কংগ্রেসের মত বিরোধী দলগুলোও।

কিন্তু স্কুল কলেজ বন্ধের মত; লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখতে চায় রাজ্য। রাজ্যে এখন করোনা পরিস্থিতি বেশ খারাপ। প্রতিদিন প্রায় ৩৭০০ মানুষ; করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। সেই দিক দিয়ে দেখতে গেলে; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দুটি সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক। লোকাল ট্রেন চালালেই; করোনা আর আয়ত্ত্বের মধ্যে রাখা যাবে না বলেই মত অনেকেরই। যে কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল কলেজও।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডির নামে তোলাবাজি মামলা, অফিসে তলব করে ৩ সাংবাদিককে জেরা করছে বিধাননগর ডিডি

কিন্তু এখানেই উঠছে দ্বিচারিতার প্রশ্ন। লোকাল ট্রেনে অনুমতি না দিলে; রাস্তায় নেমে ঠাকুর দেখতে; মানুষকে কি করে উৎসাহ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী! কি করে তৃতীয়ার রাত থেকে; রাস্তায় নেমে ঠাকুর দেখতে; মানুষকে উদ্বুদ্ধ করলেন মমতা? উঠছে প্রশ্ন। সেখানে কি ভিড় হবে না? নাকি পুজোতে করোনা ধরবে না? পুজোর ভিড়ে সমস্যা না থাকলে; লোকাল ট্রেনের ভিড়ে কি সমস্যা? প্রশ্ন তুলেছেন নিত্যযাত্রীরা ও রেলের হকাররা। যারা অনেকেই এখন অর্থকষ্টে ভুগছেন।

কেরালায় ওনাম উৎসবের উদাহরণ দিয়ে; রাজ্যকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। তবে তাতে কান দেন নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা। রীতিমত পুজোর উৎসবে মাততে; উৎসাহ দিয়ে চলেছেন। এর চরম সমালোচনা করেছেন সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী ও বিজেপি সাংসদ ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দুজনেই বলেছেন, “পুজোর পর করোনা মহামারী ব্যপক আকার নিলে; দায়ী থাকবেন মমতা নিজেই”।

আর রাজ্যের চিকিৎসক-দের সংগঠন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে চিঠি লিখে; পুজোর উৎসব নিয়ে সাবধান করেছেন। তবে তাতেও কান দেন নি মমতা। তবে, ইতিমধ্যেই দুর্গা পুজো নিয়ে; হাইকোর্টে হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়; রাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছেন; করোনা পরিস্থিতিতে কী ভাবে; পুজোর অনুমতি দেওয়া হল? বিচারপতির প্রশ্ন; “সংক্রমণের জেরে যখন দীর্ঘদিন স্কুল কলেজ বন্ধ; তখন পুজোর অনুমতি দেওয়া হল কোন যুক্তিতে”? মামলাটির পরবর্তী শুনানি শুক্রবার। মনে করা হচ্ছে, কলকাতা হাইকোর্টই ঠিক করে দেবে; এবার বাংলায় দুর্গা পুজোর ভবিষ্যৎ কি?

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন