সাধারণ মানুষের টাকায় নেতাদের নিরাপত্তা, ক্ষমতা দেখানোর ছেলেখেলা চলছে পশ্চিমবঙ্গে

413
সাধারণ মানুষের টাকায় নেতাদের নিরাপত্তা, ক্ষমতা দেখানোর ছেলেখেলা চলছে পশ্চিমবঙ্গে/The News বাংলা
সাধারণ মানুষের টাকায় নেতাদের নিরাপত্তা, ক্ষমতা দেখানোর ছেলেখেলা চলছে পশ্চিমবঙ্গে/The News বাংলা

মানব গুহঃ সাধারণ মানুষের টাকায় নেতাদের নিরাপত্তা; ক্ষমতা দেখানোর ছেলেখেলা চলছে পশ্চিমবঙ্গে। মানুষের সেবা করতে এসে; মানুষের টাকাতেই নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষমতা জাহির করছেন নেতারা। আর সম্প্রতি বাংলায় নেতাদের এই নিরাপত্তা নিয়ে; ক্ষমতা দেখানোর লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজনীতি করার জন্য; এত নিরাপত্তারক্ষীর প্রয়োজন হবে কেন নেতাদের? উঠেছে প্রশ্ন।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যাওয়ায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের; ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা কেড়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার বাড়িতে শোভনের ভাইফোঁটায় যাওয়ার পর; ফের ঘুরেছে খেলা। কেড়ে নেওয়া নিরাপত্তা ফিরিয়ে; শোভনকে দলে টানছেন মমতা। তাহলে শোভনের নিরাপত্তা দরকার শুধু তৃণমূলে থাকলেই? উঠেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন কাশ্মীরে রাজনৈতিক নেতাদের সরকারি বাংলো ছাড়ার নির্দেশ দিল মোদী সরকার

অন্যদিকে, তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে নাম লেখানোর পরেই; কেন্দ্র থেকে ওয়াই ক্যাটেগরি নিরাপত্তা পেলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। গত ১ অক্টোবর কলকাতায় অমিত শাহের উপস্থিতিতে; পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেন তৃণমূলের সব্যসাচী দত্ত। তারপরেই তিনি ভিআইপি। বেড়ে গেছে তাঁর জীবনের দাম। তাঁর নিরাপত্তায় এখন ১২-১৩ জন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। কেন তাঁকে ওয়াই ক্যাটাগরি নিরাপত্তা দেওয়া হল; তা তিনি নিজেও জানেন না।

বাংলার বিজেপি নেতাদের; আবার সবার কাছেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর মধ্যে যেমন আছেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ; তেমন আছেন তৃণমূল থেকে যাওয়া মুকুল রায়। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে ঘোরেন; তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে আসা অনুপম হাজরা; নিশীথ প্রামাণিক ও অর্জুন সিংও। তাঁদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির সিক্যুরিটি দেওয়া হচ্ছে তাঁদের।

আরও পড়ুন বৈশাখী সহ কি শোভনকে মেনে নিলেন মমতা

দিলীপ ঘোষ ও ভারতী ঘোষ; বর্তমানে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরি সঙ্গে বিশেষ ‘এসকর্ট’ নিরাপত্তাও পান। এছাড়াও ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তার অধীনে রয়েছেন; এস এস আলুওয়ালিয়া; ভারতী ঘোষ; বাবুল সুপ্রিয় সহ আরও বেশ কয়েকজন। তাদেরকে ঘিরে থাকে; ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়াও ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে রাহুল সিনহা ও শান্তনু ঠাকুরকে। দুলাল চন্দ্র বর এবং খগেন মুর্মু-কে এক্স ক্যাটগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু শঙ্কুদেব পণ্ডা, অনুপম হাজরা, নিশীথ প্রামাণিক, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো; মাঝারি মাপের নেতাদের পিছনেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় জলপাই পোশাক পরা; স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রধারীদের। কি দরকারে এবং কেন? কেউ জানে না। এখানেই শেষ নয়। রাজ্যে বিজেপির প্রায় সব সাংসদ ও বিধায়কই; কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করে বসে আছেন অমিত শাহের মন্ত্রকে। নিরাপত্তাকে জেড ক্যাটেগরিতে উন্নীত করার তোড়জোড় চলছে দিলীপ ঘোষের জন্য।

আরও পড়ুন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেবে না ওলা উবের

অবশ্য সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি নেতাদের নিরাপত্তার বহর দেখে; যারপরনাই বিরক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। কলকাতায় এসে তিনি এই বিষয়ে উষ্মাও প্রকাশ করে গিয়েছেন বলে বিজেপি সূত্রের খবর। তারপরেই কাটছাঁট করা হয়েছে; বিজেপি নেতাদের নিরাপত্তা।

অন্যদিকে তৃণমূলে মমতার পরেই এখন দু নম্বর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পান প্রায় জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা। তিনি শুধুই সাংসদ; কোন মন্ত্রীও নন। তবু তাঁর জেলা সফরে নিরাপত্তার জন্য; একঘণ্টা আগে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় সব রাস্তা। রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে যায়; পুলিশ কর্মীরা। লড়াই করে নেতা হলে কি এত নিরাপত্তা লাগত? প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

যেন সঙ্গে বন্দুকধারী কেন্দ্রীয় বাহিনী বা রাজ্য বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মী থাকাটাই; এখন বড় নেতা বা ছোট নেতার মাপকাঠি। মানুষের জন্য কাজ করা নয়; মানুষকে ভয় পাওয়ানোতেই এখন নেতাদের নজর। আর তার দিকেই এখন নজর দিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলগুলিও। তাঁরাও সমর্থন করছে; নেতাদের নিরাপত্তা রক্ষী নিয়ে ঘোরার দাবিকে। মানুষের সেবা করা নয়; রাজনীতিবিদদের প্রধান লক্ষ্য এখন ক্ষমতার দম্ভ দেখান। আর তার জন্য ভরসা শুধুই রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন