বাংলায় দুষ্কৃতী ফিরোজকে ধরতে এসে খুন, বিহারের পুলিশ কর্তা অশ্বিনীকুমার, শোকে মৃত মা

3325
বাংলায় দুষ্কৃতী ধরতে এসে গণপিটুনিতে মৃত বিহার পুলিশ আধিকারিক, শোকে মৃত মা
বাংলায় দুষ্কৃতী ধরতে এসে গণপিটুনিতে মৃত বিহার পুলিশ আধিকারিক, শোকে মৃত মা

ফের দেশের মধ্যে লজ্জায় বাংলা। বাংলায় দুষ্কৃতী ধরতে এসে; গণপিটুনিতে মৃত বিহার পুলিশ আধিকারিক। আর সেই খবর পেয়েই; শোকে মৃত তাঁর মা। লজ্জাজনক কাণ্ড; একবাক্যে স্বীকার করছেন সবাই। দুষ্কৃতী ফিরোজের খোঁজে বাংলায় এসে; গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন বিহারের কৃষাণগঞ্জের পুলিশ আধিকারিক অশ্বিনীকুমার। এবার, ছেলে হারানোর শোকে; প্রাণ হারালেন তাঁর মা উর্মিলা দেবী-ও। রবিবার, চোখের জলে; মা-ছেলের শেষকৃত্য হল একসঙ্গে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাকেই এবার; বাংলায় প্রচারের হাতিয়ার করল বিজেপি। ইস্যু তুলে ধরলেন; প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেই।

বাংলার উত্তর দিনাজপুরের পান্তা পাড়া গ্রামের কুখ্যাত দুষ্কৃতী; ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে বিহারে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পূর্ণিয়া-সহ একাধিক এলাকায়; বাইক চুরি করে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই সূত্র ধরেই, বাংলার পুলিশকে জানিয়ে; পান্তা পাড়ায় তল্লাশি চালাতে গিয়েছিলেন; বিহারের পুলিশ কর্মীরা। পূর্ণিয়ার আইজির দাবি, পান্তা পাড়া ফাঁড়ির পুলিশকে; জানিয়েই অভিযান হয়েছিল।

অভিযোগ, সংখ্যালঘু গ্রামে ঢুকে তল্লাশি চালানোর সময়; বিহার পুলিশ অধিকর্তা অশ্বিনীকুমারকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাশাপাশি গোটা গ্রামে রটিয়ে দেওয়া হয়; রাতের অন্ধকারে গ্রামে বাইক চুরি করতে এসেছিল কয়েকজন। পুলিশের উর্দি পরে ঘুরতে দেখে, মারধর করা হয় বলে; গ্রামবাসীদের জানায় ফিরোজ। পুলিশের উর্দি দেখেই, মারার প্লান করে ফিরোজের দল; অভিযোগ পূর্ণিয়া পুলিশের। কারণ, বাংলার পুলিশ; ফিরোজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না।

আরও পড়ুনঃ বাহিনীর উপর আক্রমণ, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী

এদিকে, অশ্বিনীকুমার এর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে; শোকে ভেঙে পরে পরিবার। অসুস্থ হয়ে পরেন তাঁর বৃদ্ধা মা; ঊর্মিলা দেবী। পরে তিনিও ছেলের শোকে মারা যান। পাশাপাশি দুই চিতায়; শেষকৃত্য হয় মা ছেলের। বাংলার পুলিশকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনে না; ফিরোজের মত দুষ্কৃতীরা। তাই সাহস বেড়ে; এখন পাশের রাজ্যের পুলিশের গায়েও; হাত তুলতে সাহস পায় তারা; দাবি বিজেপির।

সোমবার বর্ধমানের জনসভায়; ঘটনার উল্লেখ করলেন মোদী। বললেন; “বিহারে ছেলের শোকে; মা প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর ছেলে বাংলায় দুষ্কৃতীকে ধরতে এসে; গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন। দিদি ওই মা কি; আপনার মা নয়”? এরপরই তাঁর কটাক্ষ; “বাংলার মানুষ আপনার নৃশংসতাটা দেখেনি”। যদিও সব অভিযোগ; উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন