দেশের লজ্জা, নারীদের অন্তর্বাস খোলা হল কলেজে

923
দেশের লজ্জা, নারীদের অন্তর্বাস খোলা হল কলেজে/The News বাংলা

একুশ শতকে দাঁড়িয়েও মধ্যযুগীয় বর্বরতা। যা সামনে আসার পর; রীতিমতো ছি ছি পড়ে গিয়েছে। স্কুলে নিয়ম রয়েছে; পিরিয়ডস হলে তাকে এক্কেবারে অচ্ছুত করে রাখা হবে। হস্টেলের ঘরে শোয়া তো দূরস্ত; তার বাসন আলাদা; এমনকি ক্লাসরুমে তাকে বসতেও হবে একেবারে লাস্ট বেঞ্চে। গুজরাতের ভুজের সহজানান্দ গার্লস ইনস্টিটিউটের হস্টেল ছাত্রীদের সঙ্গে যা আচরণ করল; তাতে নিন্দার ভাষাও হারিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠছে ; ধর্মীয় নীতি লঘ্নন করার অপরাধে ৬৮ জন ছাত্রীর অন্তর্বাস খুলিয়ে পরীক্ষা করা হল তারা ঋতুমতী কি না। কলেজের অধ্যক্ষ খোদ ছাত্রীদের অন্তর্বাস খুলিয়ে দেখেছেন; তারা ঋতুমতী কি না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক উচ্চ পদে থেকে এক নারীর এমন বর্বরোচীত কাজ রীতিমতো ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কাঠগড়ায় তুলেছে।

জানা গিয়েছে; সোমবার হস্টেলের বাইরে পড়ে থাকা স্যানিটারি ন্যাপকিন থেকেই গোটা ঘটনার সূত্রপাত। হস্টেলের বাথরুমের জানালা দিয়ে কেউ সেটি বাইরে ফেলে দিয়েছে; বলে সন্দেহ করা হয়। এমন ঘটনায় হস্টেলের ধর্মীয় রীতিকে লঘ্নন করা হয়েছে বলে; অভিযোগ জানানো হয় হস্টেলের রেক্টর অধক্ষ রীতা রানিগারের কাছে। এরপরেই শুরু হয় আসল নাটক। ছাত্রীদের কমন রুমে ডেকে; একে একে অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করানো হয়। ছাত্রীরা চাপে পড়ে অধক্ষের কথা মতোই কাজ করেন। ছাত্রীরা জানিয়েছে ; এ কোনও নতুন ঘটনা নয়। পিরিয়ডস হলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের। ঋতুমতি মহিলাদের কোনও কাজই করতে দেওয়া হয়না।

একেবারে আলাদা করে রাখা হয়। কারও সঙ্গে মিশতে পর্যন্ত দেওয়া হয় না। পুজা, রান্না সব থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয় ; খেতেও দেওয়া হয় অন্য থালা বাসনে। আর হস্টেলের ঘরে শোয়ারও সম্মতি পায়না ছাত্রীরা। নীচে শুতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন মানসিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে তাদের ওপর। আর আজ যা হল তার পর আর বলার কোনও ভাষা নেই বলে জানিয়েছেন ছাত্রীরা। একুশ শতকে দাঁড়িয়েও এমন ঘটনায় সত্যই নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। এখনও পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন