নামের পিছনে বাবা ও বরের পদবি লাগিয়ে, ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা’ ভেঙে ফেলার ডাক দিলেন সোনম

867
নামের পিছনে বাবা ও বরের পদবি লাগিয়ে, 'পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা' ভেঙে ফেলার ডাক দিলেন সোনম
নামের পিছনে বাবা ও বরের পদবি লাগিয়ে, 'পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা' ভেঙে ফেলার ডাক দিলেন সোনম

মানব গুহ, কলকাতাঃ নাম, সোনম কাপুর আহুজা। হ্যাঁ, নিজের নাম এরকমই লিখে থাকেন অনিল কাপুরের মেয়ে সোনম কাপুর। বাবা অনিল কাপুরের সারনেম; কাপুর তো তাঁর নামের পিছনে প্রথম থেকেই ছিল। দু বছর আগে ব্যবসায়ী আনন্দ আহুজাকে বিয়ে করার পরে; তিনি নামের শেষে কাপুরের পাশপাশি আহুজা লিখতেও খুব ভালবাসেন। তাঁর টুইটার পেজেও জ্বলজ্বল করছে; সোনম কাপুর আহুজা। নামের পিছনে বাবা ও বরের পদবি লাগিয়ে; এবার ‘পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা’ ভেঙে ফেলার ডাক দিলেন; সেই সোনম কাপুর আহুজা।

ড্রাগ কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া রিয়া চক্রবর্তীর; টি-শার্টে লেখা ছিল ‘Roses are red, Violets are blue; Let’s smash Patriarchy, Me and You’। যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়; ‘গোলাপের রঙ লাল, বেগুনির রঙ নীল; চলো পিতৃতন্ত্র ধ্বংস করি, আমি আর তুমি’। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে; পিতৃতন্ত্রর বিরুদ্ধে এক লড়াই। ড্রাগ কেসে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ৯ জন; ৮ পুরুষ ও এক নারী। ৮ জন পুরুষ গ্রেফতার হওয়ার পরেও; সব ঠিক ছিল। একজন নারী গ্রেফতার হবার পরেই; সব দোষ হল, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার!

আরও পড়ুনঃ ইগোর লড়াইয়ে কঙ্গনার অফিস ভাঙা, উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক জীবনের চরম ভুল

নামের পিছনে বাবা ও বরের পদবি লাগিয়ে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ভেঙে ফেলার ডাক দিলেন সোনম
নামের পিছনে বাবা ও বরের পদবি লাগিয়ে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ভেঙে ফেলার ডাক

সমাজবিদ্যায় পিতৃতন্ত্র হচ্ছে একটি সামাজিক ব্যবস্থা; যেখানে পুরুষেরা প্রাথমিক ক্ষমতা ধারণ করে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নৈতিক কর্তৃত্ব, সামাজিক সুবিধা ও সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য স্থাপন করে। পরিবারের ক্ষেত্রে পিতা ও পিতৃতুল্যগণ নারী ও শিশুর উপর; কর্তৃত্ব লাভ করে। পিতৃতন্ত্র শব্দটি; ইংরেজি “Patriarchy” (পেট্রিয়ার্কি) এর পারিভাষিক শব্দ; এসেছে গ্রিক থেকে। এই শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “পিতার শাসন”। আর ভারতীয় সমাজব্যবস্থা; এখন আর পিতার শাসনে চলে না। ভারতের সমাজ ব্যবস্থায় শুধু নয়; দেশের সর্বত্র এখন নারীরাও সমানতালে দেশ শাসন করছে।

সোনম কাপুর, অনিল কাপুর এবং সুনিতা কাপুর এর কন্যা; চলচ্চিত্র নির্মাতা সুরিন্দর কাপুরের নাতনি। তিনি প্রযোজক বনি কাপুর, অভিনেতা সঞ্জয় কাপুর এবং সন্দীপ মারওয়াহ-এর ভাইঝি। ২০১৮ সালে, তিনি ব্যবসায়ী আনন্দ আহুজার সঙ্গে; বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অনেকেই অভিযোগ করেন; মাথার উপর বাবা ও ‘পুরুষতান্ত্রিক’ পরিবারের হাত আছে বলেই; অভিনয়ের কিছু না পারলেও; তিনি ফিল্ম পান। যেটাকে বলে নেপটিজম। আর যার জন্য দায়ি; এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। তখন এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, ভেঙে ফেলার ডাক দেন নি কেন? এটাও বড় প্রশ্ন।

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই; রোষের মুখে বলিউডের একটা বড় অংশ। সুশান্তের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে; সেভাবে মুখ খুলতে দেখা যায়নি বলিউডের সদস্যদের। অথচ মাদককাণ্ডে গ্রেফতার রিয়া চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়ালেন; বলিউডের একটা বড় অংশ। বলিউড তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল জুড়ে উঠল; #JusticeForRhea। সুশান্তের মৃত্যুর পর; কোথায় ছিলেন ? উঠেছে প্রশ্ন। আর ড্রাগের কারণে এক মহিলা গ্রেফতার হতেই; কেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচার? বুঝে উঠতে পারছেন না; ভারতের আমজনতা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন