২৮ দিনের ফুটফুটে কন্যা সন্তানকে, নাকছাবি পরাতে গিয়ে সোজা গলায়

2219
২৮ দিনের ফুটফুটে কন্যা সন্তানকে, নাকছাবি পরাতে গিয়ে সোজা গলায়
২৮ দিনের ফুটফুটে কন্যা সন্তানকে, নাকছাবি পরাতে গিয়ে সোজা গলায়

২৮ দিনের ফুটফুটে কন্যা সন্তানকে; নাকছাবি পরাতে গিয়ে সোজা গলায়! ঘর আলো করে এসছে; ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। মাত্র ২৮ দিনের মাথায়, তারই নাক ফুটো করে; সোনার নাকছাবি পরানোর অনুষ্ঠানের আয়োজন। আর সেখানেই ঘটে গেল; বড়সড় বিপত্তি। আচমকা মায়ের হাত থেকে, সেই নাকছাবি হাত ফসকে; সোজা পড়ে যায় ২৮ দিনের শিশুর মুখে। আর কিছু না বুঝেই; গিলে ফেলে সে। কিছুক্ষণ পর থেকেই, শুরু হয়; ছোট্ট শিশুর শ্বাসকষ্ট। ওই অবস্থাতেই ২০০ কিমি পাড়ি, সেই শিশুকন্যার প্রাণ বাঁচাল; এসএসকেএম হাসপাতাল।

নাকের নাকছাবি; সোজা শিশুর গলায়! মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জাহিদা বিবি সঙ্গে সঙ্গে; সন্তানকে নিয়ে যান স্থানীয় হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে জানানো হয়, এই ধরণের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা নেই; এই হাসপাতালে। দ্রুত শিশুটিকে নিয়ে আসা হয়; কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। শ্বাসনালীতে নাকছাবি আটকে থাকায়; বেচারি মায়ের দুধও খেতে পারছিল না। নেতিয়ে পড়ছিল শিশুটি; বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিল পরিবার। সেই অবস্থাতেই তাকে কোলে নিয়ে; ২০০ কিলোমিটার পাড়ি।

আরও পড়ুনঃ করোনা বিধি মেনেই এবারেও দুর্গা পুজো, মণ্ডপে থাকতে গেলে ভ্যাকসিনের দুটো ডোজ নিতেই হবে

শুক্রবার এসএসকেএম-এ ইসোফেগাস এন্ডস্কোপির মাধ্যমে; শিশুর প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসকরা। নবজাতকদের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক; দীপঙ্কর রায়ের তত্ত্বাবধানেই হয় এই অস্ত্রোপচার। ডাক্তার দীপঙ্কর রায় জানিয়েছেন; “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এই অস্ত্রোপচার। ২৮ দিনের বাচ্চা; ওজন মাত্র আড়াই কেজি। দম নিতে পারছিল না; স্বাভাবিক ভাবে। নেতিয়ে পড়েছিল; একরত্তি শরীরটা। চিকিৎসকরা এক্স-রে করে দেখেন; পাতলা নাকছাবিটা গলার নীচের অংশের; ইসোফেগাসের দেওয়ালে আটকে ঝুলছে”।

আরও পড়ুনঃ বাংলাকে মমতার চমক, প্রথম মহিলা মেয়র পেতে চলেছে কলকাতা

এন্ডোস্কোপ দিয়ে দেখে; তা বের করা হয়। বাচ্চাটি আপাতত আইসিইউতে রয়েছে। ডা রায় জানিয়েছেন, “একটি সরু নল; ঢুকিয়ে দেওয়া হয় গলা দিয়ে। তার সামনে থাকে; ক্ষুদ্র ক্যামেরা। শিশুর গলার ভিতরের ছবি; ফুটে ওঠে বড় স্ক্রিনে। তা দেখেই অত্যন্ত ধীর পদক্ষেপে; নাকছাবিটি বের করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে; শিশুটি আপাতত স্থিতিশীল। এই অস্ত্রোপচারের অন্য দুই কান্ডারি হলেন; ডা সুমন দাস এবং ডা শুভঙ্কর চক্রবর্তী। দুই চিকিৎসক জানিয়েছেন, আপাতত আগামী ৭২ ঘন্টা; পর্যবেক্ষণে রাখা হবে শিশুটিকে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন