শহিদ ক্ষুদিরাম বসুকে বিপ্লবী থেকে সন্ত্রাসবাদী বানাবার ভুল স্বীকার করল রাজ্য সরকার

951
শহিদ ক্ষুদিরাম বসুকে বিপ্লবী থেকে সন্ত্রাসবাদী বানাল রাজ্য সরকার/The News বাংলা
শহিদ ক্ষুদিরাম বসুকে বিপ্লবী থেকে সন্ত্রাসবাদী বানাল রাজ্য সরকার/The News বাংলা

ক্ষুদিরাম বসু-সহ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একাংশকে ‘বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিতকরণকে; ‘ভুল’ স্বীকার করে সব সরকারি পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বইয়ে এই ‘ভুল’; থেকে যাওয়ার জন্য দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে। সব সরকারি পাঠ্যপুস্তকের বিষয়সূচি; পর্যালোচনার করতে কমিটি গঠন করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

বিপ্লবী থেকে সন্ত্রাসবাদী বানাবার ভুল; খতিয়ে দেখতে বিধায়ক তথা ইতিহাসবিদ; জীবন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে বলেও বিধানসভায় জানান শিক্ষামন্ত্রী। অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে ওই তথ্য কীভাবে যুক্ত হল; তা খতিয়ে দেখে ওই কমিটি তিন মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট দেবে।

আরও পড়ুনঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সদস্য, সদস্যপদ নম্বর ৪২৭৯, সাইবার ক্রাইমে তৃণমূল

২০১৪ সালেই ইতিহাস পাঠ্যবইতে; যা নজরে আসে তাতে চমকে ওঠে রাজ্যবাসী। দেখা যায় সরকারী বইতে প্রফুল্ল চাকি ও ক্ষুদিরাম বসুকে; দেখান হয়েছে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে। তখন সেই বিষয়টিকে অস্বীকার করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল ওই বই রাজ্য সরকারের নয়। কিন্তু এবার ভুল স্বীকার করে কমিটি গড়ল; রাজ্যের শিক্ষাদফতর।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন; “অষ্টম শ্রেণির বই নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে, সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে; অভিযোগ সঠিক। অভীকের নেতৃত্বে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে, তাঁদের এই বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাঁদের এই ভুল চোখে পড়ল না, তা অত্যন্ত দুঃখের”।

সিপিএম বিধায়ক প্রদীপ সাহা এই বই নিয়ে সরব হয়েছিলেন। বিধানসভা অধিবেশন শুরু হতেই প্রদীপবাবু; বিতর্কিত বইটি তুলে ধরে সরব হন। তিনি বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, সরকারি পাঠ্য বইয়ে কোনও ভুল নেই। এই সেই বই যেখানে ভুল রয়েছে। এই বইয়ে ক্ষুদিরাম বসুকে সন্ত্রাসবাদী বলা হয়েছে”। এরপর সরকারি ইতিহাস বইটি বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেন প্রদীপ সাহা।

“স্কুলশিক্ষা দপ্তরের খবর, তৃণমূল জমানায় অষ্টম শ্রেণিতে ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ নামে বই চালুর পর থেকেই; স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একাংশকে ‘বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে তকমা দেওয়া হয়। বিতর্কের কারণেই ২০১৪ সালে তৎকালীন স্কুলশিক্ষা সচিবের নির্দেশে ইতিহাসবিদ সুমিত সরকার, সব্যসাচী ভট্টাচার্য, বিনয়ভূষণ চৌধুরী, হিমাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুজাতা মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি কমিটিও গঠিত হয়। যদিও সেই কমিটি; অবশ্য পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুকে অনুমোদনও দেয়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন