তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়ক ও চিকিৎসক সাংসদের ‘অদ্ভুত কীর্তি’, পদে থেকেও নিলেন স্টাইপেন্ড

2925
তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়ক ও সাংসদের 'অদ্ভুত দুর্নীতি', পদে থেকেও নিলেন স্টাইপেন্ড
তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়ক ও সাংসদের 'অদ্ভুত দুর্নীতি', পদে থেকেও নিলেন স্টাইপেন্ড

তৃণমূলের দুই চিকিৎসক বিধায়ক ও সাংসদের, ‘অদ্ভুত কীর্তি’; প্রকাশ্যে এসেছে। পদে থেকেও পড়ার জন্য; দুই নেতা নিলেন স্টাইপেন্ড! এমফিলে ভর্তি হয়ে দুবছর ধরে স্টাইপেন্ড বা ভাতার টাকা নেওয়ার; অভিযোগ উঠল তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়ক নির্মল মাজি এবং রাজ্যসভার সাংসদ চিকিৎসক শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে। অবশ্য ঘটনার সময়ে, শান্তনু সেন; পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। ‘স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন’ বা এসটিএম-এ-এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরেই; ম’তভেদ ও বি’রোধ তু’ঙ্গে। এই ঘটনা সামনে আসায়, চলতি বছরের মার্চে; ওই বিভাগে স্টাইপেন্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়। চিঠি-চাপাটিও চলে, ট্রপিক্যাল মেডিসিন ও স্বাস্থ্যভবনের কর্তাদের মধ্যে। অভিযোগ, কিছুদিনের মধ্যেই; ফের তা চালুও হয়ে যায়।

‘স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন’ বা ‘এসটিএম’ এর বি’তর্কিত বিভাগটি হল; ‘রিজেনারেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড ট্রান্সলেশন্যাল সায়েন্সেস’। এসটিএমে প্রায় ৫-৬টি বিভাগে, পিএইচডি বা এমফিল চললেও; রিজেনারেটিভ মেডিসিন বিভাগ ছাড়া; অন্য কোথাও স্টাইপেন্ড চালু নেই। এর কারণ স্বাস্থ্যকর্তারাও; ব্যাখ্যা করতে পারেননি। এই বিভাগেই ২০১৬-’১৮ শিক্ষাবর্ষে; এমফিল করতে ভর্তি হন ২৩ জন। সেই তালিকায় ছিলেন, তৃণমূল চিকিৎসক-বিধায়ক নির্মল মাজি এবং চিকিৎসক-কাউন্সিলর শান্তনু সেন।

তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন ও বিধায়ক নির্মল মাজি নিয়েছেন স্টাইপেন্ড

নির্মলবাবু যোগ দেন; ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ। শান্তনুবাবুর যোগদানের তারিখ; ২০১৭ সালেরই ২০ মার্চ। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর; একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করে; (অর্ডার নম্বর-HF/O/MERT/1438/W-65/2018) এই দুজন সহ মোট ২৩ জনের নামে; স্টাইপেন্ড বা ভাতা অনুমোদিত হয়। এই স্টাইপেন্ড বা ভাতার পরিমাণ ছিল; প্রতি মাসে ৩৮,৪০০ টাকা। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর; বিধায়ক ও কাউন্সিলর থাকা সত্ত্বেও; ওই স্টাইপেন্ড নেন নির্মল মাজি ও শান্তনু সেন।

আরও পড়ুনঃ বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারেও দলত্যাগের পালা অব্যহত তৃণমূলে

প্রশ্ন উঠেছে, জনপ্রতিনিধিরা কী করে; অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে স্টাইপেন্ড বা ভাতা নিতে পারেন? রাজ্যের স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য; এই নিয়ে কিছু বলতে চান নি। বিভাগের প্রধান নিরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন; “ওঁরা নেতা নয়, ছাত্র হিসেবে নিয়েছেন; তাতে অসুবিধার কী আছে”।

এমনিতে বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের এক জন বিধায়ক মাসে ৮০-৮১ হাজার টাকার মতো পান। কাউন্সিলরের রোজগারও কম নয়। এর বাইরে অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে; তাঁদের বেতন, ভাতা বা স্টাইপেন্ড নেওয়ার কথা নয়। তা হলে এই দুই নেতা; কি করে নিয়ম ভেঙে স্টাইপেন্ড নিলেন; পদে থাকা সত্ত্বেও? উঠেছে প্রশ্ন।

নির্মলবাবুর বলেছেন; “ওই সব টাকা আমি; পড়াশোনার কাজে খরচ করেছি। এমফিলের জন্য ইউরোপ-আমেরিকার; অনেক বই কিনতে হত। সব বই ছাত্রছাত্রীদের দান করে এসেছি”। শান্তনুবাবুর বক্তব্য; “আমি সেই সময়ে শুধু কাউন্সিলর ছিলাম। সেই পদ লোকাল সেল্ফ গভর্নমেন্ট-এর আওতায়। কাউন্সিলরেরা স্টাইপেন্ড নিতে পারেন। আমি সেটা এমফিলে ঢোকার আগেই; জেনে নিয়েছিলাম”। তবে তাতে বিতর্ক; থামছে না।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন