মথুরা ও সোমনাথ মন্দিরে বারবার জি’হাদি অভিযান চালায় সুলতান মামুদ

5739
মথুরা ও সোমনাথ মন্দিরে জি'হাদি অভিযান চালায় সুলতান মামুদ
মথুরা ও সোমনাথ মন্দিরে জি'হাদি অভিযান চালায় সুলতান মামুদ

১০০৯ থেকে ১০২৭ সালের মধ্যে; গজনীর সুলতান মামুদ ১৭ বার ভারত আক্রমণ করে। ভারতের ধনসম্পদ লুন্ঠন করা এবং হিন্দু ধর্মের বিনাশ করা; এই দুই কারণেই সুলতান মামুদ ভারত আক্রমণ করে। ভারতে স্থায়ী সাম্রাজ্য গঠনের কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। প্রতিবারেই ভারত আক্রমণ করে; বিপুল পরিমাণ ধন সম্পদ লুঠ করা; অগণিত মানুষকে নির্দয় ভাবে হত্যা করে এবং শিশু ও নারীদেরকে দাস হিসেবে গজনীতে পাচার করাই ছিল মামুদের মূল উদ্দেশ্য। ভারত আক্রমণ কালে; হিন্দুদের মন্দির ধ্বংস করা ছিল মামুদের লক্ষ। প্রায় সহস্রাধিক মন্দিরের সৌন্দর্যমণ্ডিত মথুরা শহর; শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান মথুরা হিন্দুদের কাছে পবিত্র তীর্থভূমি। সেই মথুরাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিলেন মামুদ।

মামুদ নিজেই মথুরার বর্ণনা লিখেছিল; “বিশ্বের সবথেকে মেধাবী একদল স্থপতি যদি ২০০ বছর ধরে; হাজার হাজার রাজমিস্ত্রি নিয়ে কোটি কোটি দিনারও ব্যয় করে; তবুও মথুরার মন্দিরের মত এত সুন্দর স্থাপত্য কীর্তি সৃষ্টি করতে পারবে না”। মথুরা জয় করে মামুদ বরাবরের মত মথুরার সব মন্দির লুট করে; মন্দিরের যাবতীয় প্রতিমা ভাংচুর করে এবং সবশেষে সবগুলো মন্দির ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। রুটিন মাফিক আক্রমণে মামুদ পরের বছর দ্বারকা; বারানসি; থানেশ্বর; জ্বালামুখী; মহেশ্বর দখল করে সবগুলো মন্দির লুট করে।

আরও পড়ুনঃ ইতিহাসে পড়ানো হয় না, আফগানদের পরাজিত করে ভারত ভূমি রক্ষা করেছিলেন নাগা সন্ন্যাসীরা

বারবার ভারতে আসার ফলে; মামুদ বুঝতে পেরেছিল হাজার হাজার হিন্দু সোমনাথে পুজো দেবার সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ দক্ষিণা হিসেবে মন্দিরে দিতো। ফলে সোমনাথ মন্দির ছিল তৎকালীন সময়ে ধন-সম্পদ; সোনা; রত্নের বিশাল ভাণ্ডার। মামুদের ১৭তম আক্রমণ ছিল সোমনাথ মন্দিরে লুট করার উদ্দেশ্যেই। রাজপুত সৈন্যবাহিনী সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করলেও; সোমনাথ মন্দিরের শেষ রক্ষা করতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ পরাধীন ভারতে লোহার শিকলে গঙ্গা ঘিরে, ইংরেজদের জাহাজ চলা বন্ধ করেছিলেন রানী রাসমণি

তিনদিন যুদ্ধের পর মাহমুদের বাহিনী মন্দিরে ঢুকে পড়ে; মন্দিরের সব মূর্তি এবং শিবলিঙ্গ ভেঙে ফেলে; সোনার মূর্তি, মূল্যবান পাথর, নগদ অর্থ, অলংকার যা ছিল সব নির্বিচারে লুট করে নিয়ে যায়। দেবতাদের সোনার মূর্তি গলিয়ে মামুদ তৎকালীন বাজার মূল্য ২ কোটি দিনার মুদ্রায় পরিণত করে। মাহমুদ সোমনাথ মন্দির লুটের সময় ৫০০০ রাজপুত সৈন্যকে মন্দিরের মধ্যেই হত্যা করে।

পৈশাচিক উল্লাসে; মন্দিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মামুদ বাহিনী। হত্যা করা হয় মন্দিরে আশ্রয় নেওয়া পঞ্চাশ হাজার হিন্দু নরনারীকে; বয়ে যায় রক্তের নদী, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় মন্দির; লুঠ করা হয় মন্দিরের অতুল ঐশ্বর্য। ঐতিহাসিক খাজা নিজামুদ্দিনের কথায়; “দখল হলো দুর্গ। শুরু হলো পরিকল্পনা মাফিক ধ্বংস ও লুটপাট। অসংখ্য মানুষ নিহত ও বন্দি। গোটা সোমনাথ মন্দির ধ্বংস। বিগ্রহটিকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে তার একটি টুকরো গজনীতে এনে বসানো হয় জামা মসজিদের প্রবেশপথে; যাতে মানুষজন তা মাড়িয়ে আসা-যাওয়া করে”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন