রথেও কি জাতবিচার, পুরীর রথে অনুমতি, বাকি সব রথে নিষেধ কেন

557
রথেও কি জাতবিচার, পুরীর রথে অনুমতি, বাকি সব রথে নিষেধ
রথেও কি জাতবিচার, পুরীর রথে অনুমতি, বাকি সব রথে নিষেধ

শুধুমাত্র পুরীর রথযাত্রায়; শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদের নেতৃত্বাধীন; তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে; কেন্দ্রীয় সরকার, ওড়িশা সরকার এবং পুরীর মন্দির কমিটি সমন্বয় করে; সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে রথযাত্রা করতে পারে। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছে; শুধু পুরীর রথের ক্ষেত্রেই এই অনুমতি কার্যকর হবে। বাকি আর কোথাও রথযাত্রা হবে না। মাহেশ হোক বা মদনমোহন বা ইস্কন বা রাজ্যের অন্য কোন রথ; কোথাও রথ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হল না। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে; রথেও কি জাতবিচার, পুরীর রথে অনুমতি; বাকি সব রথে নিষেধ কেন?

আরও পড়ুনঃ জয় জগন্নাথ, পুরীর রথযাত্রা হচ্ছে, জগন্নাথদেবের রথ আটকাল না সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্যের সব রথে নিষেধ; মাহেশ হোক বা মদনমোহন বা ইস্কন; রথের চাকা চলবে না কোথাও। অনুমতি দেয় নি আদালত। বৃহস্পতিবার পুরীর রথযাত্রাও স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ বলেছিল; “রথযাত্রার অনুমতি দিলে; প্রভু জগন্নাথ আমাদের ক্ষমা করবেন না। জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে; এ বছর ওড়িশায় রথযাত্রার অনুমতি দেওয়া যাবে না”। তবে, সোমবারই শর্তসাপেক্ষে; পুরীর রথযাত্রায় অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে, শুধু পুরীতেই রথ যাত্রা হবে; ভারতের আর কোথাও নয়।

আরও পড়ুনঃ চিনকে টেক্কা দিতে, ভারতীয় সেনাকে সহজেই সীমান্তে নিয়ে যেতে অটল সুড়ঙ্গের কাজ শেষ করল বিআরও

সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন; রথেও কি জাতবিচার, পুরীর রথে অনুমতি; বাকি সব রথে নিষেধ কেন? এ রাজ্যে মাহেশের রথযাত্রা; বেরোবে না এ বছর। করোনার ধাক্কায় এ বার থমকে গেল মাহেশের; ৬২৪ বছরের রথযাত্রা। দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম। পুরীর পর মাহেশে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম; রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। কিন্তু এ বার তা স্থগিত রাখল জগন্নাথ জিউ ট্রাস্টি বোর্ড। করোনা পরিস্থিতিতে, পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষের পরে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষও; রথযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গত মাসেই। এখন পুরীর রথ যাত্রা অনুমতি পেলেও; পায় নি মাহেশের রথ।

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় সেনার হাতে খতম চিনা কম্যান্ডিং অফিসার ও সেনা, শেষপর্যন্ত স্বীকার করল চিন

যদিও পুরীর রথযাত্রার অনুমতি মিললেও; মাহেশের সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী জানান; পুৱীর সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। মাহেশের রথ এ বার বেরোবে না বলে; আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা, সেই সিদ্ধান্তই থাকছে। অনুমতি মিললেও তা বদলাত না। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন; “আমাদের এখানে মার্টিন বার্ন কোম্পানির তৈরি; ১২৫ টন ওজনের লোহার রথ। কম লোক দিয়ে তা টানা সম্ভব নয়। লোকজনের ভিড় হবেই। তাই আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে; রথযাত্রা এবার হবে না। সামনের বছর সব ঠিক হলে; আবার রথযাত্রা হবে”।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বাসঘাতক চিন, রুলস অফ এনগেজমেন্ট উড়িয়ে দিয়ে সেনাকে চরম ক্ষমতা দিল কেন্দ্র সরকার

ছোট করে করা হচ্ছে; কোচবিহারের মদনমোহনের রথ যাত্রা। অনুমতি পায় নি মদনমোহনের রথও। ১৮৮৯ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের আমলে; মদনমোহন মন্দির স্থাপিত হয়। তারপর থেকে রাজ আমলের নিয়ম রীতি মেনে; প্রতিবছর মদনমোহনের রথযাত্রা হয়ে আসছে। এবার, রথের আদলে সুসজ্জিত ট্রাকে করে; কোচবিহারের মদনমোহন বের হবেন এবছর। কাঠের রথের বদলে থাকছে; রথের আদলে সুসজ্জিত যান। আর তাতে করেই এবছর মদনমোহন যাবেন মাসীর বাড়ি।

আরও পড়ুনঃ সাহারা মরুভূমি থেকে আসছে ২০০০ মাইল বালির ঝড়, ভয়ঙ্কর বিপদ, সতর্ক করল নাসা

অনুমতি পায় নি; মায়াপুরে ইসকনের রথ যাত্রাও। ইসকন সদর দফতরের কমিউনিকেশন অফিসার সুব্রত দাস বলেন; “এবার বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল রথযাত্রা হবে। যা ২৩ এবং ২৪ জুন; ছটি মহাদেশে দেখানো হবে। এটির নাম হবে মার্সি ইন উইলস। ১০৮ টি রথ থাকবে”। কিন্তু বন্ধ রাখলাম আর অনুমতি নেই; দুটো সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। জগন্নাথের রথে অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের; কিন্তু বাংলার কোন রথই অনুমতি পেল না। একযাত্রায় পৃথক ফল কেন ? পুরীতে অনুমতি; বাকিদের অনুমতি নয় কেন ? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন